বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রহসনের ভোট’ আখ্যা দিয়ে তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটারদের নগণ্য উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এই তথাকথিত নির্বাচন বর্জন করে প্রমাণ করেছে যে তারা কোনো প্রহসন মানে না।
আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রেখে এবং দলের কার্যক্রম স্থগিত করে আয়োজিত এই ভোটকে তিনি ‘ভোটারবিহীন প্রতারণা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শেখ হাসিনা তার বিবৃতিতে দাবি করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবৈধ এবং অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে জনগণের ভোটাধিকার ও সংবিধানের চেতনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল, গোলাগুলি এবং টাকার বিনিময়ে ভোট কেনাবেচার মাধ্যমে এই নাটকের সূত্রপাত হয়েছিল। এমনকি অনেক জায়গায় এজেন্টদের কাছ থেকে আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ব্যালট পেপারে দেদারসে সিল মারা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ভোটের পরিসংখ্যান নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে শেখ হাসিনা জানান, তাদের তথ্যমতে সকাল ১১টা পর্যন্ত অর্থাৎ সাড়ে তিন ঘণ্টায় ভোট পড়ার হার ছিল মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুপুর ১২টার মধ্যে সেই হার লাফিয়ে ৩২.৮৮ শতাংশে পৌঁছানোকে তিনি সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য এবং অস্বাভাবিক কারচুপি হিসেবে গণ্য করছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস বলে সকালের দিকেই ভোটার উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি থাকে, কিন্তু এবার এক ঘণ্টার ব্যবধানে ভোটের হার দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া স্পষ্টত জালিয়াতির প্রমাণ।
শেখ হাসিনা আরও অভিযোগ করেন যে, গত কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের জোরপূর্বক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সকল প্রতিকূলতা ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে জনগণ আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচন বর্জন করায় তিনি দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
তার মতে, ভোটগ্রহণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মানুষের এই অনুপস্থিতিই প্রমাণ করে যে বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই। এই নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি একে একটি সুপরিকল্পিত প্রহসন বলে দাবি করেন।

