শান্তিতে নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আয়োজিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হতে না হতেই আসন ভাগাভাগি এবং শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপি জোট। পাতানো এই নির্বাচনের মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এখন তীব্র হয়ে উঠেছে দুই দলের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ।
সাধারণ ভোটারদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রধান ধারার টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ফলাফলে বিএনপির এগিয়ে থাকার খবর প্রচার হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর বিশাল এক অনলাইন বাহিনী। তারা বিভিন্ন গাণিতিক হিসাব ও পোস্টের মাধ্যমে প্রচার করছে যে, জামায়াতই এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
ভোটের মাঠের এই বিপরীতমুখী প্রচারণার মধ্যেই উভয় দল তাদের নেতাকর্মীদের ফলাফল না আসা পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার এবং ভোটকেন্দ্র না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই নির্দেশের আড়ালে দুই দলের মধ্যে চরম কাদা ছোড়াছুড়ি ও একে অপরের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও মির্জা আব্বাসের মধ্যকার লড়াইকে কেন্দ্র করে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলছে।
বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সারা দেশে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কারের ঐতিহাসিক গণভোট শেষ হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ শেষে এখন দেশজুড়ে কেন্দ্রভিত্তিক গণনা চলছে বলে তারা নিশ্চিত করেছে। এই বিবৃতিতে বিএনপি নির্বাচনকে সফল দাবি করলেও মাঠের অনেক জায়গায় তাদের ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ভোটের শুরুতেই জয়ের ব্যাপারে ব্যাপক আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন। সকাল সাড়ে আটটায় মিরপুরের মনিপুর কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করেন যে, জামায়াত জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। পরবর্তীতে জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আমিরের বরাত দিয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণার আগে কোনো কর্মী যেন ভোটকেন্দ্র ত্যাগ না করেন।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিনের এই মিত্র দল দুটির মধ্যকার ফাটল ও আসন নিয়ে কামড়াকামড়ি এই পাতানো নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে আরও বড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

