Friday, February 13, 2026

উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাবে গোঁজামিল, তালিকায় নাম নেই দুর্নীতিগ্রস্ত ছাত্র উপদেষ্টাদের

সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৭ জন উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে ২০২৪ সালের ৩০ জুন এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। তবে প্রকাশিত এই তথ্যের সময়কাল এবং উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত সহকারীদের অস্বাভাবিক লেনদেন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে

প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ও বর্তমান উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে মাত্র ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। তবে সম্প্রতি তার বড় ভাইয়ের অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী থেকে ‘কমিশন’ বাবদ সাড়ে ৬ কোটি টাকার রহস্যজনক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, যা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা AUSTRAC-এর তদন্তাধীন।

অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পদ এক বছরে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সম্পদও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ছাত্র প্রতিনিধি থেকে আসা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলামের সম্পদ তুলনামূলক কম দেখানো হলেও তাদের ঘিরে থাকা বিতর্ক থামছে না।

বিতর্কিত প্রকল্প ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার মন্ত্রণালয়ের একটি মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পে প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা, যা পরিকল্পনা কমিশনের মতে ‘অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক’। এছাড়া তার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও টেন্ডার বাজিচক্র গড়ে তোলার অভিযোগে দুদক তদন্ত শুরু করেছে। আসিফ মাহমুদের বাবার নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স এবং বিসিবিতে একক প্রভাব বিস্তার নিয়েও সমালোচনা তুঙ্গে।

একইভাবে তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী আতিক মুর্শেদের বিরুদ্ধে ১৫০ কোটি টাকা বেহাতের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ‘নগদ’ প্ল্যাটফর্মে তার স্ত্রীর নিয়োগ ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট গঠন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)-এর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৪ থেকে মে ২০২৫ পর্যন্ত সন্দেহজনক লেনদেন (STR) আগের বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। এই ১০ মাসে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের অধিক অর্থ পাচার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যেখানে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ৫-৭ বছর সময় লাগবে বলে গভর্নর জানিয়েছেন, সেখানে বর্তমান শাসনামলে এই মাত্রার লেনদেন জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বচ্ছতার কথা বলে সম্পদের যে বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে আড়াল করা হয়েছে উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠজন ও সহকারীদের মাধ্যমে হওয়া বড় বড় আর্থিক লেনদেন। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ২০২৫ সালের কাল্পনিক সম্পদের হিসাব এবং ভবিষ্যৎ তারিখের প্রজ্ঞাপন পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূল চেতনা ‘স্বচ্ছতা’ কি তবে দুর্নীতির নতুন জালে আটকা পড়ছে—এখন এটাই সাধারণ মানুষের বড় প্রশ্ন।

সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৭ জন উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে ২০২৪ সালের ৩০ জুন এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। তবে প্রকাশিত এই তথ্যের সময়কাল এবং উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত সহকারীদের অস্বাভাবিক লেনদেন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে

প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ও বর্তমান উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে মাত্র ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। তবে সম্প্রতি তার বড় ভাইয়ের অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী থেকে ‘কমিশন’ বাবদ সাড়ে ৬ কোটি টাকার রহস্যজনক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, যা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা AUSTRAC-এর তদন্তাধীন।

অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পদ এক বছরে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সম্পদও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ছাত্র প্রতিনিধি থেকে আসা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলামের সম্পদ তুলনামূলক কম দেখানো হলেও তাদের ঘিরে থাকা বিতর্ক থামছে না।

বিতর্কিত প্রকল্প ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার মন্ত্রণালয়ের একটি মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পে প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা, যা পরিকল্পনা কমিশনের মতে ‘অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক’। এছাড়া তার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও টেন্ডার বাজিচক্র গড়ে তোলার অভিযোগে দুদক তদন্ত শুরু করেছে। আসিফ মাহমুদের বাবার নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স এবং বিসিবিতে একক প্রভাব বিস্তার নিয়েও সমালোচনা তুঙ্গে।

একইভাবে তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী আতিক মুর্শেদের বিরুদ্ধে ১৫০ কোটি টাকা বেহাতের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ‘নগদ’ প্ল্যাটফর্মে তার স্ত্রীর নিয়োগ ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট গঠন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)-এর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৪ থেকে মে ২০২৫ পর্যন্ত সন্দেহজনক লেনদেন (STR) আগের বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। এই ১০ মাসে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের অধিক অর্থ পাচার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যেখানে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ৫-৭ বছর সময় লাগবে বলে গভর্নর জানিয়েছেন, সেখানে বর্তমান শাসনামলে এই মাত্রার লেনদেন জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বচ্ছতার কথা বলে সম্পদের যে বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে আড়াল করা হয়েছে উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠজন ও সহকারীদের মাধ্যমে হওয়া বড় বড় আর্থিক লেনদেন। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ২০২৫ সালের কাল্পনিক সম্পদের হিসাব এবং ভবিষ্যৎ তারিখের প্রজ্ঞাপন পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূল চেতনা ‘স্বচ্ছতা’ কি তবে দুর্নীতির নতুন জালে আটকা পড়ছে—এখন এটাই সাধারণ মানুষের বড় প্রশ্ন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ