জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি থাকতেই অন্তর্বর্তী সরকারের একের পর এক বড় প্রকল্প অনুমোদন ও আন্তর্জাতিক চুক্তি সইয়ের বিষয়গুলো নিয়ে এখন দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর বিদায়ী সরকারের কর্মকাণ্ড রুটিন কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও গত ২৫ দিনে প্রায় এক লাখ সাত হাজার কোটি টাকার ৬৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশই সম্পূর্ণ নতুন।
সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে সব মিলিয়ে অনুমোদিত প্রকল্পের ব্যয় দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এসব বিশাল ব্যয় ও প্রকল্প থেকে বড় ধরনের লুটপাটের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। অনেকের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এমন তোড়জোড় কেবল প্রশাসনিক শিষ্টাচারবহির্ভূতই নয়, বরং এর পেছনে রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
একই সময়ে বিদেশের সঙ্গে বিভিন্ন স্পর্শকাতর চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সই হতে যাচ্ছে যেখানে বাংলাদেশ বড় অংকের আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও এগুলোর সরবরাহ শুরু হবে ২০৩১ সালের পর থেকে। অর্থাৎ বর্তমান সরকার চুক্তি করলেও এর বিশাল ঋণের বোঝা টানতে হবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে। এছাড়া চীন ও যুক্তরাজ্য থেকে জাহাজ ও তেল ট্যাংকার কেনার বিষয়গুলোও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বৈদেশিক ঋণের বোঝা ইতোমধ্যে প্রায় ৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে চরম অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে নবম পে-স্কেল প্রস্তাবের মাধ্যমে বছরে আরও অতিরিক্ত এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের পথ তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানের উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও চরম রাজস্ব ঘাটতির সময়ে এই সিদ্ধান্তকে অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনীতিবিদদের মতে, শেষ মুহূর্তে এমন সব বড় ও দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার মূলত নির্বাচিত সরকারের হাত-পা বেঁধে দিচ্ছে। সরকার এসব পদক্ষেপকে উন্নয়নের জন্য জরুরি ও ভবিষ্যৎ সরকারের কাজ সহজ করার উদ্যোগ দাবি করলেও সমালোচকরা একে দেখছেন ভুল সময়ে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে, যা দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

