Wednesday, February 11, 2026

‘নিরীহ উপদেষ্টারা’ কেন আতঙ্কে?

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন শুধু নির্বাচনী উত্তাপ নয়—বরং এক ধরনের অদৃশ্য স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র চারদিন আগে রাষ্ট্রক্ষমতার অন্দরমহল, প্রশাসনিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বলয়ে যে অস্বাভাবিক তৎপরতা দৃশ্যমান—তা নিছক নির্বাচনপূর্ব স্বাভাবিক অস্থিরতা, নাকি গভীরতর ক্ষমতা-সংকটের পূর্বলক্ষণ—এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে।

উপদেষ্টাদের বিদেশমুখিতা: নিরাপত্তা প্রস্তুতি নাকি আস্থাহীনতার প্রতিচ্ছবি? সরকারের অন্তত আটজন উপদেষ্টার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ত্যাগ করে সাধারণ পাসপোর্টে পশ্চিমা দেশের ভিসা নেওয়ার গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র কৌতূহল ও সন্দেহ তৈরি করেছে।

তুলনামূলকভাবে দেখলে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন প্রবণতা নতুন নয়। পাকিস্তানে দুর্বল অন্তর্বর্তী শাসনামলে প্রভাবশালী আমলাদের বিদেশে “ব্যাকআপ রেসিডেন্সি” প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছিল। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পতনের আগে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের পরিবার বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও পরে রাজনৈতিক আস্থাহীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি ব্যক্তিগত সফর প্রস্তুতি, নাকি সম্ভাব্য ক্ষমতা পরিবর্তনের আগাম সেফটি-রুট? ক্ষমতার করিডরে তাই ফিসফাস— “যারা সবচেয়ে নিরীহ দেখায়, তারাই নাকি সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি নেয়।” আইজিপির দেশত্যাগ গুঞ্জন: নিরাপত্তা কাঠামোর মনস্তত্ত্ব পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ ব্যক্তিকে ঘিরে দেশত্যাগ বা পাসপোর্ট সমর্পণ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়া নিছক ব্যক্তিগত ইস্যু নয়—এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের মানসিক অবস্থার সূচক।

ইতিহাস বলছে— মিশর (২০১১): পুলিশ কমান্ড স্ট্রাকচারের ভাঙন রাজনৈতিক রূপান্তরের গতি ত্বরান্বিত করেছিল। আফগানিস্তান (২০২১): নিরাপত্তা নেতৃত্বের আস্থাহীনতা রাষ্ট্র পতনের গতি বাড়ায়। অতএব, গুঞ্জন সত্য হোক বা কৌশলগত—এর প্রভাব নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা আস্থার ওপর সরাসরি পড়ে। আওয়ামী লীগ–বিদেশি বৈঠক: কূটনৈতিক রুটিন নাকি ফলাফল-পরবর্তী সমীকরণ? কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের একাধিক বৈঠক, প্রবাসী রাজনৈতিক বার্তা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ—এসবই নির্বাচনের আগে আলোচনার কেন্দ্রে।

তবে তুলনামূলকভাবে— নেপাল সংবিধান সভা নির্বাচন; বাংলাদেশ ১৯৯৬ ও ২০০৮ নির্বাচন —উভয় ক্ষেত্রেই বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সরকার, বিরোধী ও বয়কটকারী পক্ষ—সবাইয়ের সাথেই বৈঠক করেছে। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রধান লক্ষ্য থাকে— অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; সহিংসতা ঝুঁকি মূল্যায়ন; ফলাফল গ্রহণযোগ্যতা যাচাই। তবে বৈঠকের ঘনত্ব ও গোপনীয়তা রাজনৈতিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্র তৈরি করেই।

অর্থনৈতিক চাপ: রাজনৈতিক দরকষাকষির ঐতিহাসিক অস্ত্র— চট্টগ্রাম বন্দর ও সচিবালয় অচল করার হুমকি কেবল শ্রমিক বা প্রশাসনিক ইস্যু নয়—এটি রাজনৈতিক চাপের কৌশলগত রূপও হতে পারে।

ইতিহাসে— বাংলাদেশের হরতাল রাজনীতি বারবার বন্দর ও প্রশাসন অচল করে সরকারকে আলোচনায় বসিয়েছে। মিয়ানমারের সিভিল ডিসওবিডিয়েন্স মুভমেন্ট রাষ্ট্রযন্ত্র পঙ্গু করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছিল।

চট্টগ্রাম বন্দর অচল মানে—আমদানি–রপ্তানি স্থবিরতা; ডলার প্রবাহে ধাক্কা; জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকি; বাজার অস্থিতিশীলতা; অর্থাৎ রাজনৈতিক লড়াই অর্থনৈতিক ফ্রন্টে বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত।

তারেক রহমান সাক্ষাৎকার ও ‘চার উপদেষ্টা’ সংকট: ক্ষমতার অভ্যন্তরে আস্থাহীনতার আরেক সূচক—বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সাথে পর্দার আড়ালের যোগাযোগ নিয়ে গুঞ্জন। তুলনামূলকভাবে, ট্রানজিশন নির্বাচনগুলিতে— প্রশাসনিক এলিট দ্বৈত যোগাযোগ রাখে; সম্ভাব্য ক্ষমতাপরিবর্তন বিবেচনায় বিকল্প সমঝোতা খোঁজে; এটি অনেক সময় আত্মরক্ষামূলক, আবার কখনও ক্ষমতা-পরবর্তী অবস্থান সুরক্ষার কৌশল।

নির্বাচন কমিশনের স্থবিরতা: লজিস্টিক নাকি সংকেত? গাজীপুরে সরঞ্জাম বিতরণ স্থগিত—এটি প্রশাসনিক ঘটনা হলেও রাজনৈতিক পাঠ তৈরি করেছে।

বিশ্ব উদাহরণ বলছে—
নাইজেরিয়া ২০১৯: লজিস্টিক অজুহাতে ভোট পেছানো
পাকিস্তান: নিরাপত্তা ইনপুটে সরঞ্জাম বিলম্ব
ফলে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি টেকনিক্যাল, নাকি বড় কোনো সিদ্ধান্তের পূর্বাভাস?
তাহলে ‘৩ কারণে আতঙ্ক’—তত্ত্ব কতটা বাস্তব?
তুলনামূলক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে নির্বাচনপূর্ব ক্ষমতাকেন্দ্রিক আতঙ্ক সাধারণত তিন উৎস থেকে জন্মায়—
১️ ফলাফল অনিশ্চয়তা
ক্ষমতার ভেতরেই ফলাফল নিয়ে আস্থা কমে গেলে আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।
২️ জবাবদিহিতার ভয়
ক্ষমতা হারালে আইনি, রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়।
৩️ আন্তর্জাতিক অবস্থান বদল
বিদেশি সমর্থনের ভারসাম্য নড়বড়ে হলে অভ্যন্তরীণ শক্তিও অস্থির হয়।
১২ ফেব্রুয়ারি—নির্বাচন, নাকি রাজনৈতিক মোড়?
সব বিশ্লেষণ এসে ঠেকছে এক কেন্দ্রে—
প্রশাসনিক অস্বস্তি
বিদেশি কূটনৈতিক সক্রিয়তা
অর্থনৈতিক চাপ
ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ সন্দেহ
এসব কি কেবল নির্বাচনপূর্ব স্বাভাবিক টানাপোড়েন,
নাকি রাষ্ট্রক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের পূর্বভূমিকা?
সার্বিক রাজনৈতিক পাঠ
বর্তমান বাস্তবতায় চারটি বড় সূচক স্পষ্ট—
ক্ষমতার ভেতরে আস্থার ঘাটতি অনুভূত
আন্তর্জাতিক পক্ষ ফলাফল-পরবর্তী দৃশ্যপট মূল্যায়নে সক্রিয়
রাজনৈতিক চাপ অর্থনৈতিক কাঠামোয় বিস্তৃত
প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে অস্বাভাবিকতা প্রশ্ন তৈরি করছে

নির্বাচন এখন শুধু ব্যালটের লড়াই নয়—
এটি রাষ্ট্রক্ষমতার ভবিষ্যৎ বিন্যাস নির্ধারণের এক উচ্চঝুঁকির সন্ধিক্ষণ।
শেষ প্রশ্ন তাই থেকেই যায়—
গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা কি অটুট থাকবে,
নাকি এই অস্থিরতার ভেতর থেকেই জন্ম নেবে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা?

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন শুধু নির্বাচনী উত্তাপ নয়—বরং এক ধরনের অদৃশ্য স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র চারদিন আগে রাষ্ট্রক্ষমতার অন্দরমহল, প্রশাসনিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বলয়ে যে অস্বাভাবিক তৎপরতা দৃশ্যমান—তা নিছক নির্বাচনপূর্ব স্বাভাবিক অস্থিরতা, নাকি গভীরতর ক্ষমতা-সংকটের পূর্বলক্ষণ—এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে।

উপদেষ্টাদের বিদেশমুখিতা: নিরাপত্তা প্রস্তুতি নাকি আস্থাহীনতার প্রতিচ্ছবি? সরকারের অন্তত আটজন উপদেষ্টার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ত্যাগ করে সাধারণ পাসপোর্টে পশ্চিমা দেশের ভিসা নেওয়ার গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র কৌতূহল ও সন্দেহ তৈরি করেছে।

তুলনামূলকভাবে দেখলে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন প্রবণতা নতুন নয়। পাকিস্তানে দুর্বল অন্তর্বর্তী শাসনামলে প্রভাবশালী আমলাদের বিদেশে “ব্যাকআপ রেসিডেন্সি” প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছিল। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পতনের আগে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের পরিবার বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও পরে রাজনৈতিক আস্থাহীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি ব্যক্তিগত সফর প্রস্তুতি, নাকি সম্ভাব্য ক্ষমতা পরিবর্তনের আগাম সেফটি-রুট? ক্ষমতার করিডরে তাই ফিসফাস— “যারা সবচেয়ে নিরীহ দেখায়, তারাই নাকি সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি নেয়।” আইজিপির দেশত্যাগ গুঞ্জন: নিরাপত্তা কাঠামোর মনস্তত্ত্ব পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ ব্যক্তিকে ঘিরে দেশত্যাগ বা পাসপোর্ট সমর্পণ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়া নিছক ব্যক্তিগত ইস্যু নয়—এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের মানসিক অবস্থার সূচক।

ইতিহাস বলছে— মিশর (২০১১): পুলিশ কমান্ড স্ট্রাকচারের ভাঙন রাজনৈতিক রূপান্তরের গতি ত্বরান্বিত করেছিল। আফগানিস্তান (২০২১): নিরাপত্তা নেতৃত্বের আস্থাহীনতা রাষ্ট্র পতনের গতি বাড়ায়। অতএব, গুঞ্জন সত্য হোক বা কৌশলগত—এর প্রভাব নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা আস্থার ওপর সরাসরি পড়ে। আওয়ামী লীগ–বিদেশি বৈঠক: কূটনৈতিক রুটিন নাকি ফলাফল-পরবর্তী সমীকরণ? কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের একাধিক বৈঠক, প্রবাসী রাজনৈতিক বার্তা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ—এসবই নির্বাচনের আগে আলোচনার কেন্দ্রে।

তবে তুলনামূলকভাবে— নেপাল সংবিধান সভা নির্বাচন; বাংলাদেশ ১৯৯৬ ও ২০০৮ নির্বাচন —উভয় ক্ষেত্রেই বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সরকার, বিরোধী ও বয়কটকারী পক্ষ—সবাইয়ের সাথেই বৈঠক করেছে। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রধান লক্ষ্য থাকে— অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; সহিংসতা ঝুঁকি মূল্যায়ন; ফলাফল গ্রহণযোগ্যতা যাচাই। তবে বৈঠকের ঘনত্ব ও গোপনীয়তা রাজনৈতিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্র তৈরি করেই।

অর্থনৈতিক চাপ: রাজনৈতিক দরকষাকষির ঐতিহাসিক অস্ত্র— চট্টগ্রাম বন্দর ও সচিবালয় অচল করার হুমকি কেবল শ্রমিক বা প্রশাসনিক ইস্যু নয়—এটি রাজনৈতিক চাপের কৌশলগত রূপও হতে পারে।

ইতিহাসে— বাংলাদেশের হরতাল রাজনীতি বারবার বন্দর ও প্রশাসন অচল করে সরকারকে আলোচনায় বসিয়েছে। মিয়ানমারের সিভিল ডিসওবিডিয়েন্স মুভমেন্ট রাষ্ট্রযন্ত্র পঙ্গু করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছিল।

চট্টগ্রাম বন্দর অচল মানে—আমদানি–রপ্তানি স্থবিরতা; ডলার প্রবাহে ধাক্কা; জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকি; বাজার অস্থিতিশীলতা; অর্থাৎ রাজনৈতিক লড়াই অর্থনৈতিক ফ্রন্টে বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত।

তারেক রহমান সাক্ষাৎকার ও ‘চার উপদেষ্টা’ সংকট: ক্ষমতার অভ্যন্তরে আস্থাহীনতার আরেক সূচক—বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সাথে পর্দার আড়ালের যোগাযোগ নিয়ে গুঞ্জন। তুলনামূলকভাবে, ট্রানজিশন নির্বাচনগুলিতে— প্রশাসনিক এলিট দ্বৈত যোগাযোগ রাখে; সম্ভাব্য ক্ষমতাপরিবর্তন বিবেচনায় বিকল্প সমঝোতা খোঁজে; এটি অনেক সময় আত্মরক্ষামূলক, আবার কখনও ক্ষমতা-পরবর্তী অবস্থান সুরক্ষার কৌশল।

নির্বাচন কমিশনের স্থবিরতা: লজিস্টিক নাকি সংকেত? গাজীপুরে সরঞ্জাম বিতরণ স্থগিত—এটি প্রশাসনিক ঘটনা হলেও রাজনৈতিক পাঠ তৈরি করেছে।

বিশ্ব উদাহরণ বলছে—
নাইজেরিয়া ২০১৯: লজিস্টিক অজুহাতে ভোট পেছানো
পাকিস্তান: নিরাপত্তা ইনপুটে সরঞ্জাম বিলম্ব
ফলে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি টেকনিক্যাল, নাকি বড় কোনো সিদ্ধান্তের পূর্বাভাস?
তাহলে ‘৩ কারণে আতঙ্ক’—তত্ত্ব কতটা বাস্তব?
তুলনামূলক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে নির্বাচনপূর্ব ক্ষমতাকেন্দ্রিক আতঙ্ক সাধারণত তিন উৎস থেকে জন্মায়—
১️ ফলাফল অনিশ্চয়তা
ক্ষমতার ভেতরেই ফলাফল নিয়ে আস্থা কমে গেলে আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।
২️ জবাবদিহিতার ভয়
ক্ষমতা হারালে আইনি, রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়।
৩️ আন্তর্জাতিক অবস্থান বদল
বিদেশি সমর্থনের ভারসাম্য নড়বড়ে হলে অভ্যন্তরীণ শক্তিও অস্থির হয়।
১২ ফেব্রুয়ারি—নির্বাচন, নাকি রাজনৈতিক মোড়?
সব বিশ্লেষণ এসে ঠেকছে এক কেন্দ্রে—
প্রশাসনিক অস্বস্তি
বিদেশি কূটনৈতিক সক্রিয়তা
অর্থনৈতিক চাপ
ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ সন্দেহ
এসব কি কেবল নির্বাচনপূর্ব স্বাভাবিক টানাপোড়েন,
নাকি রাষ্ট্রক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের পূর্বভূমিকা?
সার্বিক রাজনৈতিক পাঠ
বর্তমান বাস্তবতায় চারটি বড় সূচক স্পষ্ট—
ক্ষমতার ভেতরে আস্থার ঘাটতি অনুভূত
আন্তর্জাতিক পক্ষ ফলাফল-পরবর্তী দৃশ্যপট মূল্যায়নে সক্রিয়
রাজনৈতিক চাপ অর্থনৈতিক কাঠামোয় বিস্তৃত
প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে অস্বাভাবিকতা প্রশ্ন তৈরি করছে

নির্বাচন এখন শুধু ব্যালটের লড়াই নয়—
এটি রাষ্ট্রক্ষমতার ভবিষ্যৎ বিন্যাস নির্ধারণের এক উচ্চঝুঁকির সন্ধিক্ষণ।
শেষ প্রশ্ন তাই থেকেই যায়—
গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা কি অটুট থাকবে,
নাকি এই অস্থিরতার ভেতর থেকেই জন্ম নেবে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা?

আরো পড়ুন

সর্বশেষ