নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক আত্মঘাতী চুক্তির পথে হাঁটছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। আজ রোববার ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক এই ষড়যন্ত্রের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটনের তুষ্টি অর্জন করতেই তড়িঘড়ি করে এই দেশবিরোধী চুক্তির জাল বোনা হচ্ছে।
সেন্টমার্টিন ও নৌঘাঁটির ষড়যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, সেন্টমার্টিন দ্বীপকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরে মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে ওয়াশিংটনের। অভিযোগ উঠেছে, একটি ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ গঠনের নীল নকশার অংশ হিসেবে দ্বীপের এক-তৃতীয়াংশ ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে এই সরকার।
সম্প্রতি পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের ‘রেস্ট্রিক্টেড জোন’ ঘোষণার মাধ্যমে দ্বীপটিকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগকে অনেকেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছেন। ‘কোয়াড পোর্টস ফর ফিউচার’ কর্মসূচির আড়ালে মূলত চীনের প্রভাব রুখতে বাংলাদেশকে মার্কিন রণক্ষেত্রে পরিণত করার এই চক্রান্ত দেশপ্রেমিক মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
অর্থনৈতিক আত্মহনন: ১৫০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত বোঝা আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, তাকে ‘শুল্কমুক্ত সুবিধা’র মোড়কে আসলে বাংলাদেশের ওপর এক বিশাল ঋণের বোঝা বলে মনে করা হচ্ছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, বাংলাদেশ প্রতি বছর অতিরিক্ত ১৫০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যখন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে এবং ডলার সংকটে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, তখন এই অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে বছরে অন্তত ৩০০ কোটি ডলার বাড়তি রপ্তানি আয়ের প্রয়োজন হবে—যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অসম্ভব। মূলত মার্কিন কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় চড়া দামে প্রতি বছর ৭ লাখ টন গম কেনার অঙ্গীকার করেছে ইউনূস সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকলেও বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছর বেশি দামে এই গম কিনতে বাধ্য থাকবে।
বোয়িং ও সামরিক পণ্যের অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা দেশের সাধারণ মানুষ যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জর্জরিত, তখন মার্কিন কোম্পানি বোয়িংকে খুশি করতে ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি বিমান কেনার তোড়জোড় চলছে। এই বিমানগুলোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও মূলত ওয়াশিংটনকে রাজনৈতিক সুবিধা দিতেই এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে মার্কিন সামরিক পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশকে প্রতিরক্ষা খাতে চিরস্থায়ী মার্কিন নির্ভরশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
জুলাই বিপ্লবের ‘ঋণ শোধ’ করছেন ইউনূস? বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যে পরিকল্পিত দাঙ্গা ও সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল, ড. ইউনূস এখন সেই ‘বিদেশি ঋণের’ সুদ শোধ করছেন। মার্কিন প্রশাসনের প্রতিটি ইঙ্গিতে সাড়া দিয়ে তিনি বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক করদরাজ্যে পরিণত করছেন। তড়িঘড়ি করে ট্রাম্পের নির্বাচনের ঠিক আগে এবং বাংলাদেশের নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে এই গোপনীয় চুক্তি স্বাক্ষরের তোড়জোড় প্রমাণ করে যে, এটি কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি নয় বরং রাজনৈতিক আনুগত্যের দলিল।
সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ চুক্তির একটি উদ্বেগজনক শর্ত হলো শ্রম মানদণ্ড নজরদারি। এর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বাংলাদেশের কলকারখানা ও অভ্যন্তরীণ শ্রমনীতিতে নাক গলানোর আইনগত অধিকার পাবে। কোনো নির্বাচিত ম্যান্ডেট ছাড়া একটি অন্তর্বর্তী সরকারের এমন দীর্ঘমেয়াদি ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণকারী চুক্তি করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, সেন্টমার্টিন লিজ, অতিরিক্ত দামে পণ্য আমদানি এবং আকাশচুম্বী মূল্যে বিমান কেনা—এই সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি দালাল সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে দেশের সম্পদ ও স্বাধীনতাকে পশ্চিমা প্রভুদের হাতে তুলে দিচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যদি গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে এই ভূ-রাজনৈতিক খেলায় বাংলাদেশ চিরতরে তার সার্বভৌমত্ব হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

