কর্মজীবী নারীদের অবমাননার নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে দেশের ১৪০ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ রোকেয়া প্রাচী, শিক্ষক ও গবেষক ডক্টর মাহবুব আলম প্রদীপ, লেখক ও শিক্ষক ডক্টর শাখাওয়াৎ নয়ন এবং আইনজীবী ডক্টর সিরাজুল হকের স্বাক্ষরে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বহু বিশিষ্ট নাগরিক সংহতি প্রকাশ করে স্বাক্ষর করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বক্তব্যে কর্মজীবী নারীদের ‘নৈতিক অবক্ষয়’ ও ‘পতিতাবৃত্তি’ র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী, অবমাননাকর এবং সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।
এ ধরনের বক্তব্য মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, কলামিস্ট, মানবাধিকার কর্মী, সামাজিক সংগঠক ও অ্যাক্টিভিস্ট, কবি, লেখক ও সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীর ভূমিকা কখনোই গৌণ বা প্রান্তিক ছিল না। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীরা ছিলেন যোদ্ধা, সংগঠক, চিকিৎসাসেবক, আশ্রয়দাতা এবং প্রতিরোধের প্রতীক। নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের আত্মত্যাগ ও অবদানের ওপর ভর করেই স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি নির্মিত হয়েছে। সেই ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করে নারীদের জনপরিসর ও কর্মজীবনকে অবমাননা করা কেবল নারীবিদ্বেষী মানসিকতার প্রকাশ নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিও সরাসরি অসম্মান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীরা অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে এক অপরিহার্য শক্তি। তাদের শ্রম, মর্যাদা ও অবদানকে হেয় করা সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের বক্তব্যের দায় ‘হ্যাকিং’-এর অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা অনিবার্য।
বিবৃতিদাতারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের দায় স্বীকার করে জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে তাঁরা রাষ্ট্র, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান-মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নারীবিদ্বেষী রাজনীতি, বক্তব্য ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, সচেতন এবং সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন:
১. বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম
২. বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্তার জামান
৩. বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী
৪. ওমর সেলিম শের
৫. অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন
৬. অধ্যাপক ডক্টর ওয়াহিদ্দুজামান
৭. অধ্যাপক ডক্টর জিনাত হুদা
৮. শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন
৯. ড. নূরন নবী
১০. ড. এস. এম. মাসুম বিল্লাহ
১১. মাসুদা ভাট্টি
১২. অমি রহমান পিয়াল
১৩. ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর
১৪. ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার
১৫. ড. শ্যামল কুমার দাশ
১৬. আলতাফ হোসেন রাসেল
১৭. ইশতিয়াক জামিল
১৮. প্রফেসর ডক্টর আব্দুল আওয়াল
১৯. মশিউর রহমান
২০. ফজলুল বারি
২১. ডক্টর গৌতম রায়
২২. প্রফেসর বিদিত দে
২৩. প্রফেসর ডক্টর হাবিবে মিল্লাত
২৪. ডক্টর রায়হান রশীদ
২৫. খায়ের মাহমুদ
২৬. তানভীর হায়দার ভূঁইয়া
২৭. আরিফা রহমান রুনা
২৮. ডক্টর আরিফ মহিউদ্দিন শিকদার
২৯. ডক্টর শামীম আহমেদ
৩০. ডক্টর আবুল হাসনাত মিল্টন
৩১. ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল
৩২. ডক্টর মোস্তাক আহমেদ
৩৩. ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলাম মনজু
৩৪. অ্যাডভোকেট এ কে এম ইসলাম
৩৫. ব্যারিস্টার সৈয়দ জয়নাল আবেদীন
৩৬. মোঃ শামীম সরকার
৩৭. তৌফিক মারুফ
৩৮. দস্তগীর জাহাঙ্গীর
৩৯. গৌতম লাহিড়ী
৪০. আনিস আহমেদ
৪১. সুমি খান
৪২. শাহিদুল হাসান খোকন
৪৩. রিয়াজ হায়দার চৌধুরী
৪৪. রাজীব শীল
৪৫. ঋতিক নয়ন
৪৬. দ্বীপ হালদার
৪৭. মোমিন মেহেদী
৪৮. সুশান্ত দাশ গুপ্ত
৪৯. অমল সরকার
৫০. দীলিপ চক্রবর্তী
৫১. শোয়েব চৌধুরী
৫২. শাহরিয়ার পাভেল
৫৩. মানস ঘোষ
৫৪. ভায়োলেট হালদার
৫৫. বাণী ইয়াসমিন
৫৬. জাকিরুল হক টিটন
৫৭. অর্জুন মান্না
৫৮. খন্দকার ইসমাইল হোসেন
৫৯. পুষ্পিতা দাশ গুপ্ত
৬০. অনামিকা প্রিয়ভাসিনি
৬১. শেখ ফরিদ
৬২. শায়লা আহমেদ লোপা
৬৩. আফসানা কিশোয়ার
৬৪. রহমান খলিলুর মামুন
৬৫. মোঃ আলী সিদ্দিকী
৬৬. এলবার্ট খান
৬৭. যিকরু হাবিব ওয়াহেদ
৬৮. জাসমিন চৌধুরী
৬৯. আল আমীন বাবু
৭০. মোঃ মনিরুজ্জামান
৭১. সাদিকা ইয়াসমিন রচনা
৭২. আসাদ নূর
৭৩. সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
৭৪. তুহিন দাস
৭৫. কুতুব হিলালী
৭৬. কামরুল হাসান বাদল
৭৭. এমরান চৌধুরী
৭৮. শুকলাল দাশ
৭৯. নীলিমা শামীম
৮০. সামশুল আরেফিন
৮১. শহীদুল আলীম
৮২. শোয়েব নাঈম
৮৩. ফকির ইলিয়াস
৮৪. হাসানাল আব্দুল্লাহ
৮৫. সুজাত মনসুর
৮৬. সাইফুল বাতেন টিটো
৮৭. আহমেদ মনসুর
৮৮. সায়েম উদ্দিন
৮৯. শানেজুল ইসলাম
৯০. নাসির উদ্দীন হায়দার
৯১. কানিজ ফাতেমা চৌধুরী
৯২. অরুণা বিশ্বাস
৯৩. তমাল মাহবুব
৯৪. অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য
৯৫. জামশেদ শামীম
৯৬. খোর্শেদুল আলম খসরু
৯৭. মুশফিক গুলজার
৯৮. শাহ আলম কিরণ
৯৯. ড. মাসুদ পথিক
১০০. ড. মোল্লা হক
১০১. জুটন চন্দ্র দাস
১০২. সায়মন সাদিক
১০৩. মনিকা রউনক বাবলী
১০৪. তূর্য কাজী
১০৫. মারিয়া কিসপট্টা
১০৬. মনি দিনা
১০৭. সামিয়া মহসীন
১০৮. মোঃ সাদিক হাসান
১০৯. আমিনুর রহমান
১১০. ডক্টর সুরাইয়া মুনির
১১১. প্রিয়াঙ্কা এলফ্রস্ট
১১২. আমিনুল হক পলাশ
১১৩. সাইফ সামস
১১৪. ইঞ্জিনিয়ার সফিকুর রহমান অনু
১১৫. জিয়া করিম
১১৬. তাজুল ইসলাম বনী
১১৭. শেলিনা আফরোজ জামান
১১৮. নাহার মমতাজ
১১৯. ফেরদৌসী হাসান
১২০. মাহবুবুল হক
১২১. রাহুল দাশ নয়ন
১২২. গাজী গোফরান
১২৩. রহমান রনি
১২৪. শরীফ সাহাব উদ্দীন
১২৫. সুবীর ভৌমিক
১২৬. হারুন আল রশিদ
১২৭. মোস্তফা কায়েস ইমন
১২৮. হাসান নাসির
১২৯. শাহাদাত রাসেল
১৩০. প্রবীর সরকার
১৩১. ইমু
১৩২. মোহাম্মদ আলি সিদ্দিক
১৩৩. ডক্টর জাহানারা আরজু
১৩৪. জোস্না বিশ্বাস
১৩৫. রুদ্র সাইফুল
১৩৬. নবনীতা
১৩৭. সুলতানা রহমান
১৩৮. শামিমা দোলা
১৩৯. ফাহিম ফেরদৌস রিফাত
১৪০. ডক্টর রতন কুন্ড

