নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের ঘটনায় প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব এখনো জনসমক্ষে না আসায় এবং মেয়াদের মাঝপথেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র বলছে, লুটপাটের অর্থ নিয়ে দ্রুত দেশ ছাড়তে চাইন তারা।
পাসপোর্ট পরিবর্তনের নেপথ্যে কারণ নিয়ম অনুযায়ী, কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্টে বিভিন্ন দেশে ভিসা সুবিধাসহ বিশেষ প্রটোকল পাওয়া যায়। তবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর এই পাসপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। বর্তমান সরকারের উপদেষ্টারা দায়িত্ব পালনকালেই কেন সাধারণ পাসপোর্টে ফিরে যাচ্ছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন বা কোনো আইনি জটিলতার আশঙ্কায় তারা আগেভাগেই সাধারণ পাসপোর্ট সংগ্রহ করে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি রাখছেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে লুটপাটের অভিযোগ
তালিকায় রয়েছেন যারা পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাদের নাম আলোচনায় এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন:
গত ২৫ জানুয়ারি আদিলুর রহমান খান, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ফাওজুল কবির খান, বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা প্রথম কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে নতুন সাধারণ পাসপোর্ট নেন।
আইজিপি বাহারুল আলম: পুলিশ প্রধানের চুক্তির মেয়াদ আরও প্রায় ৮ মাস বাকি থাকলেও গত ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি এনওসি চেয়ে আবেদন করেছেন। নির্বাচনের ঠিক আগে তার এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের লাল পাসপোর্ট রূপান্তরের ক্ষেত্রে সরকার কঠোর যাচাই-বাছাই চালু করেছিল। তবে গত ২১ জানুয়ারির এক সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান কর্মকর্তাদের জন্য নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আগের সরকারের সুবিধাভোগী না হলে নিয়ম মেনে সহজেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়া যাবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দায়িত্ব থাকাকালীন কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়া বেআইনি না হলেও এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বিশেষ করে যখন উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের দাবি উঠছে, তখন তড়িঘড়ি করে পাসপোর্ট পরিবর্তন এবং বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো বিশেষ পরিস্থিতির মুখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে অনেকের ধারণা।

