বাংলাদেশে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া গেছে। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় একটি সেতুর নিচ থেকে পাকিস্তানের তৈরি রিভলভার ও বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল ওয়াসিম আকরাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সোমবার রাত ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার লেছরাগঞ্জ বাজার সংলগ্ন সেতুর নিচে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। অভিযানে পাকিস্তানের তৈরি একটি রিভলভার, পাঁচটি হাতবোমা, বেশ কিছু দেশি ধারালো অস্ত্র এবং একটি বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত বোমা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বৈদ্যুতিক বোমাটি সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম জনশূন্য স্থানে নিরাপদে ধ্বংস করেছে এবং বাকি আলামত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ৫৪ জন সেনাসদস্য ও ২১ জন পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত এই চৌকস দলটি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে অভিযানটি সম্পন্ন করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে যৌথবাহিনী জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। কর্নেল ওয়াসিম আকরাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অরাজকতা প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ যৌথবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে প্রচার শুরুর পর থেকেই হত্যাকাণ্ড, সংঘর্ষ ও হুমকির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। তফসিল ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বিএনপির বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়া এবং দেশের বাইরে থেকে নতুন করে আগ্নেয়াস্ত্রের অনুপ্রবেশ আসন্ন ভোটের পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলছে। যদিও সরকার ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তবুও অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অস্ত্রের অনুপ্রবেশ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানের তৈরি অত্যাধুনিক রিভলভার এবং বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত বোমার প্রবেশ প্রমাণ করে যে, একটি বিশেষ মহল নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের নাশকতার ছক কষছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া এক হাজারেরও বেশি অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

