Thursday, February 5, 2026

স্মরণকালের ভয়াবহতম রক্তাক্ত নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। তফসিল ঘোষণার মাত্র ৩৬ দিনে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মৃত্যু, ২০২৫ সালে ৪০১টি সহিংসতার ঘটনায় ১০২ জনের প্রাণহানি আর থানা থেকে লুট হওয়া এক হাজার ৩৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের নিখোঁজ থাকার তথ্য যে কোনো সভ্য সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। কিন্তু যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রক্তাক্ত দাঙ্গার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকারের কাছে এসব পরিসংখ্যান কতটা গুরুত্ব বহন করে সেটাই এখন প্রশ্ন।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের নামে দেশব্যাপী যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তার পেছনের শক্তিগুলো আজ আর কারও কাছে অজানা নয়। বিদেশি অর্থায়নের প্রমাণ, চরমপন্থী ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামরিক বাহিনীর একাংশের নীরব সমর্থন একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করতে সফল হয়েছিল। সুদী মহাজন হিসেবে পরিচিত নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা বানিয়ে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়েছিল, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল প্রথম দিন থেকেই। আর সেই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শাসনব্যবস্থা আজ দেশকে নিয়ে যাচ্ছে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।

টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে বর্তমান নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হেনস্থা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো ঘাটতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ৫০টিরও বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ বলেই মনে হয়। যে সরকার নিজেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিদার বলে প্রচার করছে, সেই সরকারের আমলে কেন সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকবে? কেন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নির্বিচারে হত্যা করা হবে?

প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে পুরনো ধারা বহাল থাকার কথা বলা হয়েছে। অযৌক্তিক মামলা দায়ের, বিনা বিচারে আটক, জামিনযোগ্য মামলায়ও দীর্ঘদিন জামিন না দেওয়া এবং সরকারি প্রভাবের অভিযোগ উঠে এসেছে। সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের হত্যার মামলায় আসামি করার ঘটনা ঘটেছে। এগুলো কি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষণ? নাকি স্বৈরাচারী শাসনেরই নতুন সংস্করণ? ইউনুস সরকার যে পথে হাঁটছে, তা আগের যে কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনের চেয়েও বিপজ্জনক। কারণ এবার সেটা করা হচ্ছে গণতন্ত্র ও সংস্কারের নামে।

মব জাস্টিসের বিষয়টি আরও ভয়াবহ। গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মব তৈরি করে দাবি আদায়ের প্রবণতা এবং বলপূর্বক দাবি আদায়ে সাফল্য পাওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রের আইনের শাসনের সম্পূর্ণ পতন নির্দেশ করে। যে সরকার নিজেই অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকার কীভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে? এটাই তো স্বাভাবিক যে যখন শীর্ষে বসে থাকা মানুষগুলো নিজেরাই অবৈধ, তখন নিচের স্তরেও আইনহীনতা ছড়িয়ে পড়বে।

টিআইবি সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কৌশল বা কার্যকর পদক্ষেপের অভাব, এমনকি নিষ্ক্রিয়তা ও তোষণমূলক অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু এটা কি সত্যিই নিষ্ক্রিয়তা? নাকি সুপরিকল্পিত নকশার অংশ? যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে রক্তের বিনিময়ে, যে সরকারের পেছনে রয়েছে বিদেশি প্রভু আর জঙ্গি গডফাদাররা, সেই সরকার কেন চাইবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে? বরং বিশৃঙ্খলা তাদের জন্য সুবিধাজনক। যত বেশি বিশৃঙ্খলা, যত বেশি ভয়, তত সহজে তারা তাদের অবৈধ নির্বাচন চাপিয়ে দিতে পারবে জনগণের ওপর।

কারা হেফাজতে ও সেনাবাহিনীর হেফাজতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, ঢালাওভাবে মামলায় আসামি করা, গ্রেপ্তার বাণিজ্য চলছে। থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, আবার নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কি স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ? নাকি দেশকে আরও গভীর সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত?

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সরকার মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার কি আদৌ নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়? যে নির্বাচন একটি অবৈধ সরকারের বৈধতার মুখোশ পরানোর জন্য আয়োজন করা হচ্ছে, সেই নির্বাচনের আগে সহিংসতা হয়তো তাদের জন্য কৌশলগতভাবেই প্রয়োজন। ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে মানুষকে দমিয়ে রাখা, বিরোধী কণ্ঠস্বরগুলোকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া, এসবই হয়তো পরিকল্পনার অংশ।

আইয়্যামে ইউনুসীয়ার অন্ধকার নেমে এসেছে বাংলাদেশে। যে দেশ একদিন স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল, সেই দেশ আজ পরাধীন হয়েছে বিদেশি মদদপুষ্ট এক গোষ্ঠীর হাতে। যে দেশে গণতন্ত্র ছিল, আজ সেখানে চলছে জঙ্গি ও সামরিক ছত্রছায়ায় পরিচালিত এক ভণ্ড শাসন। মানুষ হত্যা হচ্ছে, সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে আছে, আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, অস্ত্র ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। আর এসবের মাঝেই ইউনুস সরকার আয়োজন করছে এক প্রহসনের নির্বাচন, যা না হবে স্বাধীন, না হবে সুষ্ঠু।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। তফসিল ঘোষণার মাত্র ৩৬ দিনে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মৃত্যু, ২০২৫ সালে ৪০১টি সহিংসতার ঘটনায় ১০২ জনের প্রাণহানি আর থানা থেকে লুট হওয়া এক হাজার ৩৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের নিখোঁজ থাকার তথ্য যে কোনো সভ্য সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। কিন্তু যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রক্তাক্ত দাঙ্গার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকারের কাছে এসব পরিসংখ্যান কতটা গুরুত্ব বহন করে সেটাই এখন প্রশ্ন।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের নামে দেশব্যাপী যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তার পেছনের শক্তিগুলো আজ আর কারও কাছে অজানা নয়। বিদেশি অর্থায়নের প্রমাণ, চরমপন্থী ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামরিক বাহিনীর একাংশের নীরব সমর্থন একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করতে সফল হয়েছিল। সুদী মহাজন হিসেবে পরিচিত নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা বানিয়ে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়েছিল, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল প্রথম দিন থেকেই। আর সেই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শাসনব্যবস্থা আজ দেশকে নিয়ে যাচ্ছে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।

টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে বর্তমান নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হেনস্থা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো ঘাটতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ৫০টিরও বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ বলেই মনে হয়। যে সরকার নিজেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিদার বলে প্রচার করছে, সেই সরকারের আমলে কেন সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকবে? কেন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নির্বিচারে হত্যা করা হবে?

প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে পুরনো ধারা বহাল থাকার কথা বলা হয়েছে। অযৌক্তিক মামলা দায়ের, বিনা বিচারে আটক, জামিনযোগ্য মামলায়ও দীর্ঘদিন জামিন না দেওয়া এবং সরকারি প্রভাবের অভিযোগ উঠে এসেছে। সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের হত্যার মামলায় আসামি করার ঘটনা ঘটেছে। এগুলো কি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষণ? নাকি স্বৈরাচারী শাসনেরই নতুন সংস্করণ? ইউনুস সরকার যে পথে হাঁটছে, তা আগের যে কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনের চেয়েও বিপজ্জনক। কারণ এবার সেটা করা হচ্ছে গণতন্ত্র ও সংস্কারের নামে।

মব জাস্টিসের বিষয়টি আরও ভয়াবহ। গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মব তৈরি করে দাবি আদায়ের প্রবণতা এবং বলপূর্বক দাবি আদায়ে সাফল্য পাওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রের আইনের শাসনের সম্পূর্ণ পতন নির্দেশ করে। যে সরকার নিজেই অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকার কীভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে? এটাই তো স্বাভাবিক যে যখন শীর্ষে বসে থাকা মানুষগুলো নিজেরাই অবৈধ, তখন নিচের স্তরেও আইনহীনতা ছড়িয়ে পড়বে।

টিআইবি সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কৌশল বা কার্যকর পদক্ষেপের অভাব, এমনকি নিষ্ক্রিয়তা ও তোষণমূলক অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু এটা কি সত্যিই নিষ্ক্রিয়তা? নাকি সুপরিকল্পিত নকশার অংশ? যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে রক্তের বিনিময়ে, যে সরকারের পেছনে রয়েছে বিদেশি প্রভু আর জঙ্গি গডফাদাররা, সেই সরকার কেন চাইবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে? বরং বিশৃঙ্খলা তাদের জন্য সুবিধাজনক। যত বেশি বিশৃঙ্খলা, যত বেশি ভয়, তত সহজে তারা তাদের অবৈধ নির্বাচন চাপিয়ে দিতে পারবে জনগণের ওপর।

কারা হেফাজতে ও সেনাবাহিনীর হেফাজতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, ঢালাওভাবে মামলায় আসামি করা, গ্রেপ্তার বাণিজ্য চলছে। থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, আবার নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কি স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ? নাকি দেশকে আরও গভীর সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত?

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সরকার মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার কি আদৌ নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়? যে নির্বাচন একটি অবৈধ সরকারের বৈধতার মুখোশ পরানোর জন্য আয়োজন করা হচ্ছে, সেই নির্বাচনের আগে সহিংসতা হয়তো তাদের জন্য কৌশলগতভাবেই প্রয়োজন। ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে মানুষকে দমিয়ে রাখা, বিরোধী কণ্ঠস্বরগুলোকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া, এসবই হয়তো পরিকল্পনার অংশ।

আইয়্যামে ইউনুসীয়ার অন্ধকার নেমে এসেছে বাংলাদেশে। যে দেশ একদিন স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল, সেই দেশ আজ পরাধীন হয়েছে বিদেশি মদদপুষ্ট এক গোষ্ঠীর হাতে। যে দেশে গণতন্ত্র ছিল, আজ সেখানে চলছে জঙ্গি ও সামরিক ছত্রছায়ায় পরিচালিত এক ভণ্ড শাসন। মানুষ হত্যা হচ্ছে, সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে আছে, আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, অস্ত্র ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। আর এসবের মাঝেই ইউনুস সরকার আয়োজন করছে এক প্রহসনের নির্বাচন, যা না হবে স্বাধীন, না হবে সুষ্ঠু।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ