Wednesday, February 4, 2026

সেনাবাহিনীর সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর দুর্ব্যবহার: পশ্চিম পাকিস্তানি মানসিকতার প্রতিচ্ছবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামানের একটি ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্তব্যরত সদস্যদের সঙ্গে তার আচরণকে ১৯৭১–পূর্ব পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতার সঙ্গে তুলনা করছেন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, স ম খালিদুজ্জামান ব্যক্তিগত গানম্যানসহ ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা প্রচলিত নিরাপত্তা বিধির কথা উল্লেখ করে তাকে গানম্যান ছাড়া প্রবেশের অনুরোধ জানান। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বেসামরিক ব্যক্তিদের অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ—এই নিয়ম ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সেনাসদস্যরা পুরোপুরি পেশাদার ও সংযত আচরণ বজায় রাখেন।

তবে ভিডিওতে দেখা যায়, ওই অনুরোধের জবাবে খালিদুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং কর্তব্যরত সেনাসদস্যদের উদ্দেশে চরম অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন এবং নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও নির্বাচন কমিশনের অনুমতির কথা তুলে ধরে নিয়ম অমান্যের চেষ্টা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—এখানে যে মানসিকতা ও ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা ১৯৭১ সালের আগে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক ও সেনা কর্তৃপক্ষের সেই আচরণের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে বাঙালি সেনা ও জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হতো।

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলায় দায়িত্ব পালনরত সেনা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যে ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অবমাননাকর আচরণ করত, এই ঘটনায় ঠিক সেই মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর একজন রাজনৈতিক প্রার্থীর কাছ থেকে এমন আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, সেনাবাহিনীকে ‘গোলাম’, ‘এজেন্ট’ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত বাহিনী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা একাত্তরের পরাজিত শক্তির সেই পুরোনো রাজনৈতিক বয়ানেরই ধারাবাহিকতা। “এটি কেবল ব্যক্তিগত রাগ বা মুহূর্তের উত্তেজনা নয়, বরং একটি আদর্শিক অবস্থান—যেখানে জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে হেয় করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়,” বলেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগেই যদি কোনো প্রার্থী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতীক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তাহলে ক্ষমতায় গেলে তার আচরণ কেমন হতে পারে—সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তারা মনে করেন, এ ধরনের বক্তব্য ও আচরণ সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ও জনআস্থাকে দুর্বল করার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি করতে পারে।

এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা জরুরি উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলেন, নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ন্যূনতম শর্ত হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা ও সংবিধানসম্মত আচরণ। অন্যথায়, তা শুধু নির্বাচনী শালীনতাই নয়—জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামানের একটি ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্তব্যরত সদস্যদের সঙ্গে তার আচরণকে ১৯৭১–পূর্ব পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতার সঙ্গে তুলনা করছেন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, স ম খালিদুজ্জামান ব্যক্তিগত গানম্যানসহ ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা প্রচলিত নিরাপত্তা বিধির কথা উল্লেখ করে তাকে গানম্যান ছাড়া প্রবেশের অনুরোধ জানান। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বেসামরিক ব্যক্তিদের অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ—এই নিয়ম ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সেনাসদস্যরা পুরোপুরি পেশাদার ও সংযত আচরণ বজায় রাখেন।

তবে ভিডিওতে দেখা যায়, ওই অনুরোধের জবাবে খালিদুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং কর্তব্যরত সেনাসদস্যদের উদ্দেশে চরম অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন এবং নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও নির্বাচন কমিশনের অনুমতির কথা তুলে ধরে নিয়ম অমান্যের চেষ্টা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—এখানে যে মানসিকতা ও ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা ১৯৭১ সালের আগে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক ও সেনা কর্তৃপক্ষের সেই আচরণের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে বাঙালি সেনা ও জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হতো।

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলায় দায়িত্ব পালনরত সেনা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যে ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অবমাননাকর আচরণ করত, এই ঘটনায় ঠিক সেই মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর একজন রাজনৈতিক প্রার্থীর কাছ থেকে এমন আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, সেনাবাহিনীকে ‘গোলাম’, ‘এজেন্ট’ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত বাহিনী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা একাত্তরের পরাজিত শক্তির সেই পুরোনো রাজনৈতিক বয়ানেরই ধারাবাহিকতা। “এটি কেবল ব্যক্তিগত রাগ বা মুহূর্তের উত্তেজনা নয়, বরং একটি আদর্শিক অবস্থান—যেখানে জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে হেয় করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়,” বলেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগেই যদি কোনো প্রার্থী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতীক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তাহলে ক্ষমতায় গেলে তার আচরণ কেমন হতে পারে—সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তারা মনে করেন, এ ধরনের বক্তব্য ও আচরণ সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ও জনআস্থাকে দুর্বল করার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি করতে পারে।

এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা জরুরি উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলেন, নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ন্যূনতম শর্ত হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা ও সংবিধানসম্মত আচরণ। অন্যথায়, তা শুধু নির্বাচনী শালীনতাই নয়—জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ