ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশে দুর্নীতি ও লুটপাটের এক চরম মহোৎসবে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম এবং অসংলগ্ন ব্যয়ের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ঘাটতি মেটাতে সরকার এখন বেপরোয়াভাবে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। একদিকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতি এবং ব্যাংকিং খাত ‘স্বাভাবিক’ রয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে ব্যাংক থেকে বিপুল অংকের টাকা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে সরকার রেকর্ড ৩ লাখ ২৮ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বর্তমানে দেশের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকায়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যয় সংকোচনের কথা থাকলেও বাস্তবে ঋণের এই পাহাড় জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সরকার পক্ষ থেকে কিছু যুক্তি দেখানো হলেও বিশ্লেষকরা একে অদূরদর্শী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হিসেবে দেখছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান সরকারের এই ঋণনির্ভরতা দেশকে একটি দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সামনের দিনে যে চ্যালেঞ্জগুলো প্রকট হবে:
সুদ পরিশোধের বোঝা: ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই মোট সরকারি ব্যয়ের ২১% চলে গেছে ঋণের সুদ পরিশোধে।
ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান: বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর মতে, বাংলাদেশের ঋণের ঝুঁকি এখন ‘মধ্যম’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ঋণের ফাঁদ: কিস্তি শোধ করার জন্যই আবার নতুন করে ঋণ নেওয়ার এক দুষ্টচক্র তৈরি হয়েছে।
রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে এবং ঋণের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করে এভাবে ব্যাংক থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ অচিরেই ঋণের ফাঁদে তলিয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনূসের এই লুটপাটের পর দেশে যে সরকারি আসবে তাদের জন্য এই বিশাল ঋণের বোঝা ও আর্থিক লুটপাটের ক্ষত সামলানো হবে এক চরম অগ্নিপরীক্ষা।

