জুলাই দাঙ্গায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বসেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ধোঁকায় পড়ে জুলাই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়া অনেকেই তখন ভেবেছিল দেশের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন আনবেন তিনি। তবে তার শাসনামলে একদিকে যেমন বেড়েছে দুর্নীতি, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও নাজুক হয়েছে। আর এখন এসবে দিশেহারা দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সমাজ।
দেশের সুতা উৎপাদনকারী মিলগুলোকে রক্ষায় সরকারের ‘কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায়’ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এই ঘোষণা দেন। এ সময় সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘আগামী ১ তারিখ থেকেই ফ্যাক্টরি বন্ধ। আমরা বন্ধ তো করবই, ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা নেই।’
মালিকদের বর্তমান আর্থিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পুঁজি অর্ধেক হয়ে গেছে। ব্যাংকের টাকা পরিশোধের কোনো ব্যবস্থা নেই। সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিলেও শোধ করা যাবে না।’
সমস্যা সমাধানে সরকারি দপ্তরে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ করেন বিটিএমএ সভাপতি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সব মন্ত্রণালয়ের সব ডিপার্টমেন্টের কাছে গিয়েছি। তারা কেবল পিলো পাসিংয়ের মতো দায়িত্ব অন্যদের কাছে দিয়ে দিচ্ছে।’
অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাপক ইউনূস একের পর এক আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি বরং শিল্পপতিরা মনে করছেন, তার নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদ দেশি শিল্প ধ্বংসে ভূমিকা রাখছে।
গত বছরের এপ্রিলে গুলশানে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল, আর ২০২৫ সালে হত্যা করা হচ্ছে উদ্যোক্তা ও শিল্পকে। তিনি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার এবং আমদানিনির্ভর নীতিমালাকে দায়ী করেন।
দেশে মূল্যস্ফীতির হার, বিশেষ করে খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বাধিক। এ অভিমত বিশ্ব ব্যাংকের।
নতুন সরকার আসার পর প্রথম ১০ মাসে ২০ বিলিয়ন ডলারের অর্থ পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা অতীতের দুর্নীতির সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
জাতীয় দৈনিক মানবজমিন-এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে শতাধিক কারখানা স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এর পেছনে দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনূসের সরকার এখনো প্রচারণানির্ভর উন্নয়ন নীতিতে আস্থা রাখছে, বাস্তবসম্মত সংস্কারের দিকে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ, দেশি শিল্প বিপর্যস্ত এবং সাধারণ মানুষ বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের দোলাচলে দিন কাটাচ্ছে।

