অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন যে সম্ভব না তা আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন সাবেক বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ২ আসনে নির্বাচন আচরণ বিধি ভঙ্গ করার দায়ে অভিযান চালাতে গিয়ে তার হেনস্তার শিকার হন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান।
শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামবাদ (গোগদ) এলাকায় এ কাণ্ড ঘটে।
ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান আচরণ বিধি ভঙ্গের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে রুমিন ফারহানা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। তিনি ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, আমি শেষ বারের মতো আপনাকে সর্তক করে দিচ্ছি। আমি এ ধরনের কথা আর শুনতে চাই না। আপনি পারলে থামিয়ে দেন। আজ আমি ভদ্রতার সাথে কথা বলছি, পরবর্তীতে সেটা করব না।
এ সময় তিনি আরও বলেন, অন্যরা আপনাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় খোঁজ নিয়ে দেখেন। আমি রুমিন না বললে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার। মাথায় রাইখেন। যাদের কথায় এখন আপনারা চলছেন শেখ হাসিনার সময় তারা কানে ধরে খাটের নিচে থাকত। আমি রুমিন ফারহানা আমার কোন দল লাগে না।
হেনস্তার শিকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান বলেন, নির্বাচন বিধি মালা ১৮ লঙ্ঘন করে তারা সমাবেশের আয়োজন করে। বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় আমরা সেখানে গিয়ে তাদেরকে সমাবেশ না করার জন্য বলি। তারা চলে যাওয়ার সময় সমাবেশের আয়োজক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সমাবেশ করতে না পেরে চলে যাওয়ার সময় ওই প্রার্থী আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। বিষয়টি আমি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছি।
শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাজনৈতিক ঐক্যমত ছাড়াই ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এবং মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব সরকারের ‘তত্ত্বাবধায়ক’ চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সমালোচকদের মতে, সরকার নিরপেক্ষ সেতুর ভূমিকা পালন না করে ক্রমশ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের হয়ে কাজ করছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাপকহারে মনোনয়ন বাতিলের মাধ্যমে। দেশজুড়ে প্রায় এক-চতুর্থাংশ মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যার অনেকগুলোই ছিল তুচ্ছ কারণে। অথচ নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিলের অভিযোগ উঠেছে, যা প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বকে স্পষ্ট করে।
বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশ বিবেচনা করে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে কোনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানো মানে একটি ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়া। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমান কাঠামোতে নির্বাচন হলে তা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বদলে রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকির ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কতটা দুর্বল। যদি একজন প্রার্থী প্রকাশ্যে সরকারি কর্মকর্তাকে শাসাতে পারেন, তবে সাধারণ ভোটার ও বিরোধীদের নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একটি অংশগ্রহণমূলক ও ভয়হীন পরিবেশ নিশ্চিত না করে এই নির্বাচন কেবল একটি ‘প্রতীকী আয়োজন’ হয়ে দাঁড়ানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

