Saturday, January 24, 2026

ইউনুসের অবৈধ শাসনে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর নেমে এসেছে নিপীড়নের খড়্গ

২০২৪ সালের জুলাই মাসে যাকে বলা হলো ছাত্র বিপ্লব, সেই তথাকথিত মনসুন বিপ্লবের আসল চেহারা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে দিনের পর দিন। বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত দাঙ্গায় দেশের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে নোবেল বিজয়ী সুদখোর মহাজন মুহাম্মদ ইউনুসকে। আর সেই ক্ষমতা দখলের পেছনে ছিল সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থন এবং যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর সক্রিয় সহায়তা। এখন সেই অবৈধ সরকারের শাসনে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য এক জাহান্নামে।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নারীদের ওপর সহিংসতা বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী এই বৃদ্ধি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত একটি প্রক্রিয়ার ফসল। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফাউজিয়া মসলেম পরিষ্কার করে বলেছেন, ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো নারীদের চলাফেরা ও সমাজে অংশগ্রহণ সীমিত করার জন্য ক্রমাগত তৎপরতা চালাচ্ছে। গত মে মাসে কট্টরপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের লিঙ্গ সমতা ও নারী অধিকার উন্নয়নের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মিছিল করেছে এবং দাবি জানিয়েছে তথাকথিত ইসলামবিরোধী সব কার্যক্রম বন্ধ করার।

আসলে যা ঘটছে তা হলো আরবীয় ওহাবি মতবাদ ভিত্তিক শরিয়া আইন চাপিয়ে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। নারী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু, এই দুই জনগোষ্ঠী এক সাথেই এই বর্বর আদর্শের শিকার হচ্ছে প্রতিদিন। নারীরা এখন মৌখিক, শারীরিক এবং ডিজিটাল নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন নিয়মিত ভিত্তিতে, যার ফলে তারা কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের অবস্থা আরও ভয়াবহ। গত ডিসেম্বরে কথিত ব্লাসফেমির অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে জনতা পিটিয়ে হত্যা করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অন্তত ৫১টি হিন্দু নির্যাতনের ঘটনার কথা জানিয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষগুলোও বিপ্লবের পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে একের পর এক।

এই সরকারের রাজনৈতিক ভণ্ডামির চূড়ান্ত নিদর্শন হলো আসন্ন নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ। বাংলাদেশে পরপর দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী থাকার পরেও, ২০২০ সালের ছাত্র আন্দোলনে হাজার হাজার নারী সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার পরেও, এখন ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টিতে একজন নারী প্রার্থীও নেই। জামায়াতে ইসলামী, যে সংগঠন এখন দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তাদের ২৭৬ জন মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে একজনও নারী নেই। এটাই হলো ইউনুস সরকারের প্রকৃত চেহারা, যেখানে যুদ্ধাপরাধী ও ইসলামি উগ্রবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নারী ও সংখ্যালঘুদের পিষে ফেলা হচ্ছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা, নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তি, সংবিধানের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিধান, এসব কিছুই এখন কাগজের টুকরো মাত্র। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো ধুলোয় মিশে যাচ্ছে প্রতিদিন।

বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যে এখন আছে শুধু ভয়, সন্ত্রাস আর নিপীড়ন। যে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল তরুণদের, সেই বিপ্লব পরিণত হয়েছে একটি অন্ধকার যুগের সূচনায়। বিদেশি প্রভুদের তাঁবেদার ইউনুস আর তার সঙ্গী জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীদের দল মিলে বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে মধ্যযুগের বর্বরতার দিকে। আর এই সবকিছুর মূল্য দিতে হচ্ছে দেশের নারী ও সংখ্যালঘু মানুষদের, যাদের জীবন এখন ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার দোলাচলে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে যাকে বলা হলো ছাত্র বিপ্লব, সেই তথাকথিত মনসুন বিপ্লবের আসল চেহারা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে দিনের পর দিন। বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত দাঙ্গায় দেশের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে নোবেল বিজয়ী সুদখোর মহাজন মুহাম্মদ ইউনুসকে। আর সেই ক্ষমতা দখলের পেছনে ছিল সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থন এবং যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর সক্রিয় সহায়তা। এখন সেই অবৈধ সরকারের শাসনে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য এক জাহান্নামে।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নারীদের ওপর সহিংসতা বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী এই বৃদ্ধি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত একটি প্রক্রিয়ার ফসল। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফাউজিয়া মসলেম পরিষ্কার করে বলেছেন, ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো নারীদের চলাফেরা ও সমাজে অংশগ্রহণ সীমিত করার জন্য ক্রমাগত তৎপরতা চালাচ্ছে। গত মে মাসে কট্টরপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের লিঙ্গ সমতা ও নারী অধিকার উন্নয়নের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মিছিল করেছে এবং দাবি জানিয়েছে তথাকথিত ইসলামবিরোধী সব কার্যক্রম বন্ধ করার।

আসলে যা ঘটছে তা হলো আরবীয় ওহাবি মতবাদ ভিত্তিক শরিয়া আইন চাপিয়ে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। নারী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু, এই দুই জনগোষ্ঠী এক সাথেই এই বর্বর আদর্শের শিকার হচ্ছে প্রতিদিন। নারীরা এখন মৌখিক, শারীরিক এবং ডিজিটাল নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন নিয়মিত ভিত্তিতে, যার ফলে তারা কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের অবস্থা আরও ভয়াবহ। গত ডিসেম্বরে কথিত ব্লাসফেমির অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে জনতা পিটিয়ে হত্যা করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অন্তত ৫১টি হিন্দু নির্যাতনের ঘটনার কথা জানিয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষগুলোও বিপ্লবের পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে একের পর এক।

এই সরকারের রাজনৈতিক ভণ্ডামির চূড়ান্ত নিদর্শন হলো আসন্ন নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ। বাংলাদেশে পরপর দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী থাকার পরেও, ২০২০ সালের ছাত্র আন্দোলনে হাজার হাজার নারী সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার পরেও, এখন ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টিতে একজন নারী প্রার্থীও নেই। জামায়াতে ইসলামী, যে সংগঠন এখন দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তাদের ২৭৬ জন মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে একজনও নারী নেই। এটাই হলো ইউনুস সরকারের প্রকৃত চেহারা, যেখানে যুদ্ধাপরাধী ও ইসলামি উগ্রবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নারী ও সংখ্যালঘুদের পিষে ফেলা হচ্ছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা, নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তি, সংবিধানের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিধান, এসব কিছুই এখন কাগজের টুকরো মাত্র। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো ধুলোয় মিশে যাচ্ছে প্রতিদিন।

বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যে এখন আছে শুধু ভয়, সন্ত্রাস আর নিপীড়ন। যে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল তরুণদের, সেই বিপ্লব পরিণত হয়েছে একটি অন্ধকার যুগের সূচনায়। বিদেশি প্রভুদের তাঁবেদার ইউনুস আর তার সঙ্গী জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীদের দল মিলে বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে মধ্যযুগের বর্বরতার দিকে। আর এই সবকিছুর মূল্য দিতে হচ্ছে দেশের নারী ও সংখ্যালঘু মানুষদের, যাদের জীবন এখন ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার দোলাচলে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ