Saturday, January 24, 2026

নারীর ভোটে ক্ষমতায় যেতে সমস্যা নেই, নারীর নেতৃত্বে আপত্তি কট্টর রাজনীতির বিপজ্জনক বার্তা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল একটিও নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি এই তথ্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ভয়াবহ ও লজ্জাজনক বাস্তবতা প্রকাশ করে। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো, এই নারীশূন্য রাজনীতির প্রশ্নে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে কার্যত একটি নীরব ঐক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জামায়াত-e-Islami, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সবগুলো দলই নারী প্রার্থী ছাড়াই নির্বাচনের মাঠে নেমেছে। জামায়াত ২৭৬ জন প্রার্থী দিয়েও একজন নারীকে যোগ্য মনে করেনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ প্রার্থী দিয়েও নারী নেতৃত্বের জন্য দরজা বন্ধ রেখেছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এটি সচেতন, পরিকল্পিত ও কাঠামোগত সিদ্ধান্ত।

এই দলগুলো প্রকাশ্যে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও ইসলামী আদর্শের কথা বললেও বাস্তবে তারা দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। নারী ভোট গ্রহণযোগ্য, কিন্তু নারী নেতৃত্ব অগ্রহণযোগ্য এই দ্বিচারিতা শুধু ভণ্ডামি নয় এটি গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনাকেই অস্বীকার করার নাম। প্রতিনিধিত্বই গণতন্ত্রের ভিত্তি যেখানে নারীর স্থান নেই, সেখানে গণতন্ত্রও অনুপস্থিত।

ধর্মের দোহাই দিয়ে এই বৈষম্যকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও ভয়ংকর করে তোলে। ইসলাম নারীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে ইতিহাসে নারী শিক্ষা, ব্যবসা ও সামাজিক নেতৃত্বে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। তাই নারীদের সংসদীয় রাজনীতি থেকে দূরে রাখা কোনো ধর্মীয় অনুশাসন নয় এটি মূলত পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটি রাজনৈতিক কৌশল, যা ইসলামের নৈতিক শিক্ষার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

এই বাস্তবতায় শ্রমজীবী নারী, নারী উদ্যোক্তা, কৃষক ও কর্মক্ষেত্রে সক্রিয় নারীদের মধ্যে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করেন, কট্টর ইসলামিক দলগুলো যদি কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে দেশকে আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মতো নারী নেতৃত্ববিহীন ও নারীবিরোধী শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই আশঙ্কা কল্পনাপ্রসূত নয় নির্বাচনী বাস্তবতাই তার প্রমাণ। যখন কোনো দল সংসদ নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থীও দেয় না, তারা কার্যত ঘোষণা দেয় নারীরা রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য নয়।

অথচ ভোটার হিসেবে নারীর সংখ্যা পুরুষের সমান, কোথাও কোথাও আরও বেশি। নারীর ভোট ব্যবহার করে ক্ষমতায় যেতে আপত্তি নেই, কিন্তু সেই নারীকেই ক্ষমতার টেবিলে বসতে দেওয়া হবে না এই নীতিই কট্টর রাজনীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক। এটি নারীর অধিকার প্রশ্নে একটি স্পষ্ট পশ্চাদপসরণ।

এই দ্বিমুখী আচরণ নারীদের কাছে পরিষ্কার বার্তা দেয় রাষ্ট্রে তাদের ভূমিকা কেবল ব্যালট বাক্স পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এমন রাজনীতি গণতন্ত্রের নয় এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠানোর কৌশল। নারী শ্রমিক, নারী মিস্ত্রি, নারী কৃষক ও পেশাজীবীরা আজ তাই প্রশ্ন তুলছেন যে রাজনৈতিক শক্তি নারীদের নেতৃত্ব মানতে পারে না, তারা ক্ষমতায় গেলে নারীর স্বাধীনতা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক অধিকার কতটা নিরাপদ থাকবে?

এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে নারীশূন্য রাজনীতিকে স্বাভাবিক করার যে ঐক্য ইসলামী দলগুলো গড়ে তুলছে, তা শুধু নারীর অধিকার নয় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকেও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল একটিও নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি এই তথ্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ভয়াবহ ও লজ্জাজনক বাস্তবতা প্রকাশ করে। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো, এই নারীশূন্য রাজনীতির প্রশ্নে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে কার্যত একটি নীরব ঐক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জামায়াত-e-Islami, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সবগুলো দলই নারী প্রার্থী ছাড়াই নির্বাচনের মাঠে নেমেছে। জামায়াত ২৭৬ জন প্রার্থী দিয়েও একজন নারীকে যোগ্য মনে করেনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ প্রার্থী দিয়েও নারী নেতৃত্বের জন্য দরজা বন্ধ রেখেছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এটি সচেতন, পরিকল্পিত ও কাঠামোগত সিদ্ধান্ত।

এই দলগুলো প্রকাশ্যে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও ইসলামী আদর্শের কথা বললেও বাস্তবে তারা দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। নারী ভোট গ্রহণযোগ্য, কিন্তু নারী নেতৃত্ব অগ্রহণযোগ্য এই দ্বিচারিতা শুধু ভণ্ডামি নয় এটি গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনাকেই অস্বীকার করার নাম। প্রতিনিধিত্বই গণতন্ত্রের ভিত্তি যেখানে নারীর স্থান নেই, সেখানে গণতন্ত্রও অনুপস্থিত।

ধর্মের দোহাই দিয়ে এই বৈষম্যকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও ভয়ংকর করে তোলে। ইসলাম নারীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে ইতিহাসে নারী শিক্ষা, ব্যবসা ও সামাজিক নেতৃত্বে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। তাই নারীদের সংসদীয় রাজনীতি থেকে দূরে রাখা কোনো ধর্মীয় অনুশাসন নয় এটি মূলত পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটি রাজনৈতিক কৌশল, যা ইসলামের নৈতিক শিক্ষার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

এই বাস্তবতায় শ্রমজীবী নারী, নারী উদ্যোক্তা, কৃষক ও কর্মক্ষেত্রে সক্রিয় নারীদের মধ্যে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করেন, কট্টর ইসলামিক দলগুলো যদি কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে দেশকে আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মতো নারী নেতৃত্ববিহীন ও নারীবিরোধী শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই আশঙ্কা কল্পনাপ্রসূত নয় নির্বাচনী বাস্তবতাই তার প্রমাণ। যখন কোনো দল সংসদ নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থীও দেয় না, তারা কার্যত ঘোষণা দেয় নারীরা রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য নয়।

অথচ ভোটার হিসেবে নারীর সংখ্যা পুরুষের সমান, কোথাও কোথাও আরও বেশি। নারীর ভোট ব্যবহার করে ক্ষমতায় যেতে আপত্তি নেই, কিন্তু সেই নারীকেই ক্ষমতার টেবিলে বসতে দেওয়া হবে না এই নীতিই কট্টর রাজনীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক। এটি নারীর অধিকার প্রশ্নে একটি স্পষ্ট পশ্চাদপসরণ।

এই দ্বিমুখী আচরণ নারীদের কাছে পরিষ্কার বার্তা দেয় রাষ্ট্রে তাদের ভূমিকা কেবল ব্যালট বাক্স পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এমন রাজনীতি গণতন্ত্রের নয় এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠানোর কৌশল। নারী শ্রমিক, নারী মিস্ত্রি, নারী কৃষক ও পেশাজীবীরা আজ তাই প্রশ্ন তুলছেন যে রাজনৈতিক শক্তি নারীদের নেতৃত্ব মানতে পারে না, তারা ক্ষমতায় গেলে নারীর স্বাধীনতা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক অধিকার কতটা নিরাপদ থাকবে?

এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে নারীশূন্য রাজনীতিকে স্বাভাবিক করার যে ঐক্য ইসলামী দলগুলো গড়ে তুলছে, তা শুধু নারীর অধিকার নয় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকেও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ