ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘মেটিকুলাস ডিজাইনে’ বা সুক্ষ্ম পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এই অভিযোগের পালে হাওয়া দিয়েছে ড. ইউনূসের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি নিহত ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও একইভাবে সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের স্বজনদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ইউনূস। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও নিজের স্বার্থ হাসিলের পর রক্তের দাগ মুছতে তিনি একই কৌশল অবলম্বন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত মাসে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি সরাসরি সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেন, “আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন। আমরা তা কখনো হতে দেবো না।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনের পর রাষ্ট্রক্ষমতা ছেড়ে বিদেশে চলে গেলেও এদেশের জনতা তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় এর দায় তারা কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গোয়েন্দা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং ড. ইউনূস বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। ড. ইউনূস যে জামায়াতের প্রতি অনুরাগী, তা তিনি নিজেই বিভিন্ন সময় পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন। জানা গেছে, গত মাসের শেষের দিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ারের ছেলে সালমান ওসমান হাদির সাথে তার কথিত হত্যাকারীর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তখন ওই ব্যক্তিকে হাদির ক্যাম্পেইনের সহযোগী হিসেবে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। সূত্রের দাবি, হাদির আসল খুনি শিবিরের প্রশিক্ষিত ঘাতকরা এবং হাদির লাশ নিয়ে রাজনীতি করে তারা সাদেক কায়েমকে ওই আসনে নির্বাচিত করার নীল নকশা তৈরি করেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে জামায়াত-ঘনিষ্ঠ ছাত্রনেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েমের ভূমিকা। হামলার মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মাথায় তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে হাদির সুস্থতা কামনা না করে বরং সরাসরি ‘অভ্যুত্থানের’ হুমকি দেন। তিনি লেখেন, “ওসমান হাদিকে গুলি করা হলো। চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টারদের কবল থেকে ঢাকা সিটিকে মুক্ত করতে অচিরেই আমাদের অভ্যুত্থান শুরু হবে।” পরবর্তীতে তিনি এই ঘটনার দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজায় উপস্থিত থাকলেও ড. ইউনূস এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করেননি। এই নীরবতা এবং পরবর্তীতে হাদির ভাইকে উচ্চপদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, জুলাইয়ের মতো এবারও মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে লিপ্ত এই অন্তর্বর্তী সরকার।

