Saturday, January 17, 2026

বৈধতাহীন সরকারের কূটনৈতিক অক্ষমতার দাম চুকাচ্ছে সীমান্তের পঙ্গু মানুষেরা

অন্তাই তঞ্চঙ্গ্যার প্রশ্নটা সত্যিই বেদনাদায়ক। আর কত মানুষের পা যেতে হবে, কত পরিবার ধ্বংস হতে হবে তারপর মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ বন্ধ হবে? কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর দেবে কে? যে সরকার ক্ষমতায় বসে আছে, তাদের তো কোনো বৈধতাই নেই। বিদেশি শক্তির টাকায়, ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর সহায়তায় আর সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে দাঙ্গা লাগিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যারা ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের কী মূল্য থাকতে পারে?

মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই অবৈধ সরকার এখন প্রায় সতেরো মাস ধরে ক্ষমতায়। কিন্তু সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা থামেনি। একটার পর একটা মানুষ পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২৭ জন মানুষ পা হারিয়েছে এই বিস্ফোরণে। অন্তাই, পিয়ারা, নবী হোসেন, আবদুল মালেক এরা সবাই ছিল সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ। জুমচাষ করত, মাছ ধরত, খেতে কাজ করত। এখন তারা সবাই পঙ্গু। কেউ ক্রাচে ভর দিয়ে ছোট্ট একটা দোকান চালাচ্ছে, কেউ যন্ত্রণা সহ্য করে অটোরিকশা চালাচ্ছে, কেউবা ঘরে বসে আছে অসহায়ভাবে।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো এই অবৈধ সরকারের কোনো কূটনৈতিক মর্যাদাই নেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বিশ্বের কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি ইউনুসের এই তথাকথিত সরকারকে। তাহলে মিয়ানমারের সাথে আলোচনা করবে কীভাবে? কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে কীভাবে? একটা অবৈধ, অনির্বাচিত সরকারের কথা শুনবে কেন মিয়ানমার? শুনবেই বা কেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়?

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বলছেন উচ্চপর্যায় থেকে মিয়ানমার সরকারের সাথে আলোচনা চলছে। কিন্তু এই আলোচনার কোনো ফল তো দেখা যাচ্ছে না। যাবেই বা কীভাবে? যে সরকারের নিজেরই কোনো বৈধতা নেই, তারা কীভাবে অন্য দেশের সাথে কার্যকর আলোচনা করবে? মিয়ানমার তো জানে এই সরকারের কোনো জনসমর্থন নেই, কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। তাহলে তারা কেন গুরুত্ব দেবে এদের কথায়?

অন্তাইয়ের চিকিৎসায় খরচ হয়েছে দুই লাখ টাকা। সরকার দিয়েছে মাত্র বিশ হাজার টাকা। বাকি সব ধারদেনা। দোকান দিতে লেগেছে সত্তর হাজার টাকা, সেটাও ধার করে। একটা ছয় বছরের বাচ্চা আছে তার। স্ত্রী আছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় দিন কাটছে তার। নবী হোসেনের বয়স মাত্র বিশ বছর। সারা জীবন এভাবেই পার করতে হবে তাকে। ভারী কিছু বহন করতে পারে না বলে কোনো কাজই করতে পারছে না। আবদুল মালেক পাঁচ বছর ধরে ঘরে বসে আছে। পায়ে লোহার খাঁচা লাগানো। দুই সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী দিশাহারা।

এই মানুষগুলোর জীবন কি কিছুই নয়? তাদের স্বপ্ন, আশা, পরিবার, ভবিষ্যৎ সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। আর সেই ধ্বংসযজ্ঞ রোধ করার জন্য যে সরকার দায়িত্বে থাকার কথা, সেই সরকারই অবৈধ। ক্যু করে ক্ষমতা দখল করা একটা সরকার কীভাবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে? তারা তো নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত।

১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ ভূমিমাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি করেছিল। মিয়ানমার সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইন টু ব্যান ল্যান্ডমাইনসের রিপোর্ট অনুযায়ী মিয়ানমার ভূমিমাইনে হতাহতের দিক দিয়ে বিশ্বে শীর্ষে। ২০২৩ সালে সেখানে এক হাজার তিনজন মানুষ মাইন বিস্ফোরণে হতাহত হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ক্রমাগত মাইন ব্যবহার বাড়াচ্ছে। এমনকি তারা নিজেরাই মাইন তৈরি করছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এই পরিস্থিতিতে দরকার ছিল শক্তিশালী কূটনৈতিক চাপ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। জাতিসংঘে এই বিষয়টি উত্থাপন করা। প্রতিবেশী দেশগুলোকে সাথে নিয়ে একযোগে মিয়ানমারকে বার্তা দেওয়া। কিন্তু সেগুলো করতে হলে তো একটা বৈধ সরকার লাগে। যে সরকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দেয়, যার কথার ওজন আছে। ইউনুসের এই অবৈধ সরকারের তো সেই যোগ্যতাই নেই।

আগের সরকার যতই সমালোচিত হোক না কেন, তারা অন্তত নির্বাচিত ছিল। তাদের সাথে অন্য দেশগুলো আলোচনা করত। তাদের কথার গুরুত্ব ছিল। কিন্তু এখন? একটা তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদ যেটা মূলত সুদি মহাজন ইউনুসের একক শাসন, সেটা কীভাবে কূটনৈতিক সমস্যার সমাধান করবে? কে তাদের কথা শুনবে?

অন্তাই তঞ্চঙ্গ্যার প্রশ্নটা আসলে শুধু তার একার নয়। এটা পুরো দেশের প্রশ্ন। আর কত মানুষের জীবন বিপন্ন হবে? আর কত পরিবার ধ্বংস হবে? আর কত দিন এই অবৈধ সরকারের অযোগ্যতা আর কূটনৈতিক দুর্বলতার মূল্য দিতে হবে সীমান্তের সাধারণ মানুষদের?

মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ শুধু একটা নিরাপত্তা সমস্যা নয়। এটা একটা মানবিক বিপর্যয়। আর এই বিপর্যয় মোকাবেলায় দরকার একটা শক্তিশালী, বৈধ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, যার কথা শোনে বিশ্ব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন ক্ষমতায় আছে একটা অবৈধ দখলদার সরকার যার না আছে জনসমর্থন, না আছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আর এর খেসারত দিচ্ছে অন্তাই, পিয়ারা, নবী, মালেকের মতো নিরীহ মানুষেরা। তাদের পা যাচ্ছে, জীবন যাচ্ছে, ভবিষ্যৎ যাচ্ছে। কিন্তু কেউ নেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর।

অন্তাই তঞ্চঙ্গ্যার প্রশ্নটা সত্যিই বেদনাদায়ক। আর কত মানুষের পা যেতে হবে, কত পরিবার ধ্বংস হতে হবে তারপর মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ বন্ধ হবে? কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর দেবে কে? যে সরকার ক্ষমতায় বসে আছে, তাদের তো কোনো বৈধতাই নেই। বিদেশি শক্তির টাকায়, ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর সহায়তায় আর সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে দাঙ্গা লাগিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যারা ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের কী মূল্য থাকতে পারে?

মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই অবৈধ সরকার এখন প্রায় সতেরো মাস ধরে ক্ষমতায়। কিন্তু সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা থামেনি। একটার পর একটা মানুষ পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২৭ জন মানুষ পা হারিয়েছে এই বিস্ফোরণে। অন্তাই, পিয়ারা, নবী হোসেন, আবদুল মালেক এরা সবাই ছিল সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ। জুমচাষ করত, মাছ ধরত, খেতে কাজ করত। এখন তারা সবাই পঙ্গু। কেউ ক্রাচে ভর দিয়ে ছোট্ট একটা দোকান চালাচ্ছে, কেউ যন্ত্রণা সহ্য করে অটোরিকশা চালাচ্ছে, কেউবা ঘরে বসে আছে অসহায়ভাবে।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো এই অবৈধ সরকারের কোনো কূটনৈতিক মর্যাদাই নেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বিশ্বের কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি ইউনুসের এই তথাকথিত সরকারকে। তাহলে মিয়ানমারের সাথে আলোচনা করবে কীভাবে? কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে কীভাবে? একটা অবৈধ, অনির্বাচিত সরকারের কথা শুনবে কেন মিয়ানমার? শুনবেই বা কেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়?

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বলছেন উচ্চপর্যায় থেকে মিয়ানমার সরকারের সাথে আলোচনা চলছে। কিন্তু এই আলোচনার কোনো ফল তো দেখা যাচ্ছে না। যাবেই বা কীভাবে? যে সরকারের নিজেরই কোনো বৈধতা নেই, তারা কীভাবে অন্য দেশের সাথে কার্যকর আলোচনা করবে? মিয়ানমার তো জানে এই সরকারের কোনো জনসমর্থন নেই, কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। তাহলে তারা কেন গুরুত্ব দেবে এদের কথায়?

অন্তাইয়ের চিকিৎসায় খরচ হয়েছে দুই লাখ টাকা। সরকার দিয়েছে মাত্র বিশ হাজার টাকা। বাকি সব ধারদেনা। দোকান দিতে লেগেছে সত্তর হাজার টাকা, সেটাও ধার করে। একটা ছয় বছরের বাচ্চা আছে তার। স্ত্রী আছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় দিন কাটছে তার। নবী হোসেনের বয়স মাত্র বিশ বছর। সারা জীবন এভাবেই পার করতে হবে তাকে। ভারী কিছু বহন করতে পারে না বলে কোনো কাজই করতে পারছে না। আবদুল মালেক পাঁচ বছর ধরে ঘরে বসে আছে। পায়ে লোহার খাঁচা লাগানো। দুই সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী দিশাহারা।

এই মানুষগুলোর জীবন কি কিছুই নয়? তাদের স্বপ্ন, আশা, পরিবার, ভবিষ্যৎ সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। আর সেই ধ্বংসযজ্ঞ রোধ করার জন্য যে সরকার দায়িত্বে থাকার কথা, সেই সরকারই অবৈধ। ক্যু করে ক্ষমতা দখল করা একটা সরকার কীভাবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে? তারা তো নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত।

১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ ভূমিমাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি করেছিল। মিয়ানমার সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইন টু ব্যান ল্যান্ডমাইনসের রিপোর্ট অনুযায়ী মিয়ানমার ভূমিমাইনে হতাহতের দিক দিয়ে বিশ্বে শীর্ষে। ২০২৩ সালে সেখানে এক হাজার তিনজন মানুষ মাইন বিস্ফোরণে হতাহত হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ক্রমাগত মাইন ব্যবহার বাড়াচ্ছে। এমনকি তারা নিজেরাই মাইন তৈরি করছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এই পরিস্থিতিতে দরকার ছিল শক্তিশালী কূটনৈতিক চাপ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। জাতিসংঘে এই বিষয়টি উত্থাপন করা। প্রতিবেশী দেশগুলোকে সাথে নিয়ে একযোগে মিয়ানমারকে বার্তা দেওয়া। কিন্তু সেগুলো করতে হলে তো একটা বৈধ সরকার লাগে। যে সরকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দেয়, যার কথার ওজন আছে। ইউনুসের এই অবৈধ সরকারের তো সেই যোগ্যতাই নেই।

আগের সরকার যতই সমালোচিত হোক না কেন, তারা অন্তত নির্বাচিত ছিল। তাদের সাথে অন্য দেশগুলো আলোচনা করত। তাদের কথার গুরুত্ব ছিল। কিন্তু এখন? একটা তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদ যেটা মূলত সুদি মহাজন ইউনুসের একক শাসন, সেটা কীভাবে কূটনৈতিক সমস্যার সমাধান করবে? কে তাদের কথা শুনবে?

অন্তাই তঞ্চঙ্গ্যার প্রশ্নটা আসলে শুধু তার একার নয়। এটা পুরো দেশের প্রশ্ন। আর কত মানুষের জীবন বিপন্ন হবে? আর কত পরিবার ধ্বংস হবে? আর কত দিন এই অবৈধ সরকারের অযোগ্যতা আর কূটনৈতিক দুর্বলতার মূল্য দিতে হবে সীমান্তের সাধারণ মানুষদের?

মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ শুধু একটা নিরাপত্তা সমস্যা নয়। এটা একটা মানবিক বিপর্যয়। আর এই বিপর্যয় মোকাবেলায় দরকার একটা শক্তিশালী, বৈধ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, যার কথা শোনে বিশ্ব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন ক্ষমতায় আছে একটা অবৈধ দখলদার সরকার যার না আছে জনসমর্থন, না আছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আর এর খেসারত দিচ্ছে অন্তাই, পিয়ারা, নবী, মালেকের মতো নিরীহ মানুষেরা। তাদের পা যাচ্ছে, জীবন যাচ্ছে, ভবিষ্যৎ যাচ্ছে। কিন্তু কেউ নেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ