জুলাই বিপ্লবে ইউনূস-জামায়াত গংয়ের মেটিকুলাস ডিজাইনে ফিলিস্তিন পতাকা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামানো হয়েছিল। এখন উদ্দেশ্য সফল হওয়ার পর সেই ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ইউনূস-জামায়াত গং।
জুলাই আন্দোলনে যে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের আবেগের সাথে বাংলাদেশিদের তুলনা করে ধোঁকা দেওয়া হয়েছিল তা বোঝা যায় শিবির নেতা ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের একটি পোস্টে। গত বছর ৬ এপ্রিল ওই পোস্টে তিনি লেখেন, জুলাই বিপ্লবে ফিলিস্তিন ছিল আমাদের প্রেরণা। আমাদের পতাকার সাথে তখন তাদের পতাকাও উড়েছিল।
ফিলিস্তিনিদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছিল এনসিপি নেতা সারজিস আলমও। জুলাই আন্দোলনের পর এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, আপনারা সবসময় আমাদের হৃদয়ের গভীরে আছেন। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমাদের সমর্থন আপনাদের পাশে থাকবে। ইনশাআল্লাহ, প্যালেস্টাইন মুক্ত হবে।
এরপর ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি ‘গণহত্যার’ প্রতিবাদে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সামনে ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম ঘোষিত ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
ঘোষণাপত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের চুক্তি বাতিল ও সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চারটি স্তরে আলাদা দাবি ও অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।
কিন্তু এখন স্বার্থ হাসিল হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের ছুড়ে ফেলে দিয়েছে ইউনূস জামাত গং/। আর এ প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার আওতায় গাজার স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীতে (আইএসএফ) অংশগ্রহণে ‘নীতিগত আগ্রহ’ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটন সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে এ অবস্থান তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ভিসা নীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে গঠিতব্য বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি উত্থাপন করলে যুক্তরাষ্ট্র তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। মার্কিন কর্মকর্তারা একে একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) নেতৃত্বে একজন মার্কিন দুই তারকা জেনারেল নিয়োগের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মাধ্যমে গাজার নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক, বেসামরিক ও সামরিক ভূমিকা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও মানবিক সহায়তা সমন্বয়ের জন্য ইতিমধ্যে ইসরায়েলে একটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বেসামরিক–সামরিক সদর দপ্তর গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনার নেতৃত্বও দিচ্ছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত কাঠামোতে গাজা বোর্ড অব পিস নামে একটি আন্তর্জাতিক নির্বাহী পরিষদ গঠনের কথা রয়েছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই।
মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গাজায় সরাসরি কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না। তবে আন্তর্জাতিক বাহিনীর কমান্ডে একজন মার্কিন জেনারেলের উপস্থিতি ইসরায়েলের আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তাঁরা মনে করছেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইতিমধ্যে আইএসএফ ও বোর্ড অব পিস গঠনের অনুমোদন দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার আমেরিকার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে ফিলিস্তিনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতেও তারা মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে । ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত কোনো বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ফিলিস্তিনিদের প্রতি দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় অবস্থানের পরিপন্থী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ‘গাজা বোর্ড অব পিস’-এ যুক্ত হওয়ার অর্থ হলো পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণকে মেনে নেওয়া, যা আন্দোলনের সময়কার প্রতিশ্রুতির সাথে সাংঘর্ষিক।

