মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবার টিকা কেনার নামে দেশের মানুষের সাথে আরেকটি প্রহসন করতে চলেছে। ৬১০ কোটি টাকার টিকা কিনবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে, কোনো দরপত্র ছাড়াই, কোনো স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা ছাড়াই। এই বিশাল অঙ্কের লেনদেন হবে একদম গোপনে, কোনো প্রশ্ন ছাড়াই। আর সাধারণ মানুষ দেখবে শুধু, কিছু বলার সুযোগ নেই।
দরপত্র প্রক্রিয়া কেন বাদ দেওয়া হলো, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই পুরো চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যায়। যেখানে এত বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ হবে, সেখানে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না ডাকার মানে হলো সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চায় না। ইউনিসেফ থেকে কিনলেই যে সবচেয়ে ভালো দাম পাওয়া যাবে, এই যুক্তিটা কতটা দাঁড়ায়? অন্য সরবরাহকারীদের সাথে তুলনা না করে কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে দেশ সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা পাচ্ছে?
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কোভিড-১৯ প্রকল্পের অব্যয়িত টাকা দিয়ে এই কেনাকাটা হবে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু সেই অব্যয়িত টাকা কত, কেন খরচ হয়নি, এবং এখন হঠাৎ করে তা রুটিন টিকায় খরচ করার সিদ্ধান্ত কেন, এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর নেই। ঋণের শর্ত ছিল কোভিডের জন্য, এখন সেটা অন্য খাতে ব্যবহার করা হলে কি ঋণদাতার অনুমতি নেওয়া হয়েছে? নাকি এটাও আরেকটা আড়ালে থাকা চুক্তি?
মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউনিসেফের সাথে কাজ করার দীর্ঘ ইতিহাস আছে, এটা ঠিক। কিন্তু তার মানে এই নয় যে প্রতিবার একই পদ্ধতিতে, একই উৎস থেকে কিনতে হবে। প্রযুক্তি এগিয়েছে, বাজার বদলেছে, নতুন সরবরাহকারী এসেছে। অথচ এই সরকার যেন ইচ্ছা করেই অন্য কোনো বিকল্প খুঁজতে চাইছে না। দরপত্র ডাকলে হয়তো আরও সাশ্রয়ী মূল্যে, আরও ভালো শর্তে টিকা পাওয়া যেত। কিন্তু সেই সুযোগটাই দেওয়া হচ্ছে না।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোন যুক্তি, কোন হিসাব-নিকাশ আছে, তা জনসমক্ষে আসেনি। শুধু বলা হয়েছে টিকাদান কর্মসূচি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে। এই যুক্তি দিয়ে কি যেকোনো অনিয়ম, যেকোনো অস্বচ্ছতা জায়েজ করা যায়? টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা জরুরি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে জনগণের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব কি এড়ানো যায়?
এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। স্বচ্ছতা নেই, জবাবদিহিতা নেই। যা খুশি তাই করছে। আর জনগণকে বলা হচ্ছে চুপ করে মেনে নিতে। ৬১০ কোটি টাকা কোনো ছোট অঙ্ক নয়। এই টাকা দিয়ে কত স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হতে পারত, কত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া যেত, কত মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যেত। অথচ সেই টাকা খরচ হবে এমন একটা পদ্ধতিতে যেখানে কোনো তদারকি নেই, কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করাটা যেন এই সরকারের একটা বিশেষ দক্ষতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে স্বচ্ছতা থাকা উচিত, সেখানে অন্ধকার। যেখানে জবাবদিহিতা থাকা উচিত, সেখানে নীরবতা। জনগণের অধিকার জানার, প্রশ্ন করার, হিসাব চাওয়ার। কিন্তু এই সরকার সেই অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ইউনুস এবং তার দল মনে করছে তারা যা খুশি তাই করতে পারবে, কাউকে কোনো জবাব দিতে হবে না।
এই দেশের মানুষ এতটা বোকা নয় যে এসব চালাকি বুঝবে না। দরপত্র ছাড়া এত বড় অঙ্কের ক্রয় করার পেছনে যে শুধু টিকার মান রক্ষার কথা বলা হচ্ছে, সেটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য? আসল উদ্দেশ্য কি অন্য কিছু? কমিশন, ঘুষ, লেনদেনের সুযোগ তৈরি করা? এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণ চায়।
এই সিদ্ধান্ত শুধু একটা প্রশাসনিক বিষয় নয়। এটা দেশের গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার প্রশ্ন। যে সরকার জনগণের ভোটে আসেনি, সেই সরকার জনগণের টাকা নিয়ে এভাবে খেলা করতে পারে না। ইউনুস এবং তার অবৈধ সরকারকে মনে রাখতে হবে যে জনগণ সব দেখছে, সব বুঝছে। আর একদিন এর হিসাব দিতে হবে।

