সংসদে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেতে শরিকদের মনোনয়নেও হস্তক্ষেপ করছে বিএনপি। সম্প্রতি জোর করে ও মব করে বৈধ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, চাপ তৈরি করে, মব করে যদি নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করা যায়, তাহলে সেই নির্বাচন কোনো গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে না। যে জন্য এতগুলো মানুষ জীবন দিলেন, এত বড় আন্দোলন হলো তার কোনো মূল্য থাকে না।
সূত্র বলছে, বিএনপি মূলত একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা চাইছে। আর এ জন্য শরিক দলগুলোকেও তেমন পাত্তা দিচ্ছে না তারা। বরং ওই দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা বিঘ্ন তৈরি করছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন বিএনপি আজ্ঞাবহ এ অভিযোগ শুরু থেকেই ছিল। এরইমধ্যে এনসিপির হাসনাত আব্দুলাহ, হান্নান মাসুদ প্রশাসনের বিএনপির দিকে ঝুঁকে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাদের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল খুঁজে পাচ্ছেন। গত ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরার ঘটনাটি বিএনপির জন্য এক বিশাল উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ আওয়ামী লীগ আমলের সব গুরুতর অভিযোগ থেকে আদালত তাকে খালাস দিয়েছে। পাসপোর্ট জটিলতা নিরসন থেকে শুরু করে দ্রুততম সময়ে তাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো বিষয়গুলো সরকারের ‘বিশেষ সদিচ্ছা’ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
অনেকের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার হয়তো তারেক রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথই প্রশস্ত করছে, যা প্রশাসনের তৃণমূল পর্যায়েও একটি সংকেত পাঠিয়ে দিয়েছে।
প্রশাসনের এই কথিত ‘বিএনপিপ্রীতি’র সবচেয়ে বড় প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নের ক্ষেত্রে। বিএনপিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে কৌশলে জামায়াত নেতাদের মনোনয়ন বাতিল করা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে। এরইমধ্যে কয়েকজন জামায়াত নেতার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে জামায়াত ও এনসিপি রাজপথে সক্রিয় থাকলেও, নির্বাচনের মাঠে বিএনপির সাথে তাদের কৌশলগত দূরত্ব এখন স্পষ্ট। তারেক রহমান এককভাবে ক্ষমতা সংহত করলে জামায়াত বা এনসিপির মতো দলগুলো ক্ষমতার কতটা অংশীদার হতে পারবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি এখন অনেকাংশেই তারেক রহমান ও বিএনপির অনুকূলে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

