Thursday, January 15, 2026

ধর্মব্যবসায়ীদের হাতে বাংলাদেশ: যখন জামায়াত হয় ইসলামের ঠিকাদার

যে দেশে একসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল, সেই দেশে এখন ধর্মের নামে রাজনীতির বাজার গরম। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যা ঘটলো, সেটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। ছিল সুপরিকল্পিত একটা ষড়যন্ত্র। বিদেশি টাকা, জঙ্গি সংগঠনের মাসল পাওয়ার আর সামরিক বাহিনীর একাংশের নীরব সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো। ক্ষমতায় বসলো ইউনুস নামের এক ব্যক্তি, যার পাশে দাঁড়ালো জামায়াত-শিবিরসহ বিভিন্ন ইসলামি মৌলবাদী গোষ্ঠী।

এই পুরো ঘটনার পেছনে যে কারসাজি, সেটা বুঝতে হলে একটু পেছনে তাকাতে হয়। বাংলাদেশে একটা শ্রেণি তৈরি হয়েছে, যারা ইসলামের নাম নিয়ে আসলে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে। এরা সাধারণ মানুষকে বোঝায় যে ভারত নাকি বাংলাদেশের প্রধান শত্রু, আওয়ামী লীগ নাকি ভারতের দালাল। কিন্তু আসল সত্যটা হলো, এই যারা চেঁচামেচি করে, তারা নিজেরাই বিদেশি টাকার দালাল। তারা নিজেরাই ভারতীয় পণ্য ব্যবহার করে, ভারতীয় ওষুধ খায়, ভারতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে, আবার সেই ভারতের বিরুদ্ধেই বিষোদ্গার করে।

জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধী সংগঠন। ১৯৭১ সালে এই দলের নেতারা পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে মিলে গণহত্যা চালিয়েছে, ধর্ষণ করেছে, বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে। কিন্তু আজ তারাই নাকি ইসলামের ঠিকাদার! তারাই নাকি বাংলাদেশকে বাঁচাবে! এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে? যে সংগঠন দেশের জন্মের বিরোধিতা করেছিল, সেই সংগঠন এখন দেশের ক্ষমতায়।

ইউনুস সাহেব গরিবের বন্ধু সেজে ক্ষুদ্রঋণের নামে মানুষকে সর্বস্বান্ত করেছেন। সুদের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে মানুষকে ঋণের জালে জড়িয়ে ফেলেছেন। নোবেল পুরস্কার পেয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটা ভালো ইমেজ তৈরি করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামের দরিদ্র মানুষ জানে তার আসল চেহারা। এখন সেই লোকই দেশ চালাচ্ছে, কোনো নির্বাচন ছাড়াই। এটাকে গণতন্ত্র বলা যায়? এটা তো সামরিক ক্যু ছাড়া আর কিছু নয়।

জুলাইয়ের দাঙ্গার সময় কী হয়েছিল? রাস্তায় নামানো হয়েছিল তরুণদের, যাদের বেশিরভাগই বুঝতো না তারা আসলে কার হাতের পুতুল। তাদের বলা হয়েছিল কোটা সংস্কারের কথা, কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ছিল সরকার পতন। হিংসা ছড়ানো হলো, সম্পত্তি ধ্বংস করা হলো, মানুষ মারা গেল। আর শেষে দেখা গেল, ক্ষমতায় আসছে যুদ্ধাপরাধী আর মৌলবাদীরা। যে তরুণরা রাস্তায় নেমেছিল, তাদের ব্যবহার করা হলো রাজনৈতিক ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই যে বিদেশি টাকার কথা বলছি, সেটা কোথা থেকে আসছে? পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ এবং পশ্চিমা কিছু শক্তি বাংলাদেশে মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে বছরের পর বছর। তাদের স্বার্থ হলো এই অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি করা, ভারতকে দুর্বল করা। আর সেই লক্ষ্যে তারা বাংলাদেশকে ব্যবহার করছে। জামায়াত-শিবির আর তাদের সমমনা গোষ্ঠীগুলো সেই বিদেশি টাকার ভাগীদার।

মজার ব্যাপার হলো, যারা ভারতবিরোধী শ্লোগান দেয়, তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভারতীয় পণ্য ব্যবহার করে। ট্রাক্টর ভারতীয়, বাস ভারতীয়, সিএনজি ভারতীয়, ওষুধের কাঁচামাল ভারতীয়, কাপড়ের সুতা ভারতীয়, ফেসবুক-গুগলে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান। এমনকি পেঁয়াজ-রসুনও আসে ভারত থেকে। কিন্তু এসব ব্যবহার করে তারা চিৎকার করে বলে, দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা! ঢাকা! এটা ভণ্ডামি ছাড়া আর কী?

আসল সমস্যা হলো, বাংলাদেশে ইসলাম আর ইসলামপন্থার পার্থক্য বোঝানো যায় না। ইসলামপন্থী মানে ইসলামের ধ্বজাধারী নয়। ইসলামপন্থী হলো রাজনৈতিক সংগঠন, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসতে চায়। তারা ধর্মের যথার্থ শিক্ষা মানে না, তারা নিজেদের স্বার্থ মানে। তারা আল্লাহর দাস নয়, জামায়াত-শিবিরের দাস।

এখন যে সরকার ক্ষমতায় আছে, তারা অবৈধ। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় আসা কোনো সরকার বৈধতা পেতে পারে না। এটা ক্যু, এটা জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে অপরাধ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এই অবৈধ ক্ষমতা দখলকে অনেকে সমর্থন দিচ্ছে, কারণ তারা ইসলামের নাম শুনছে। তারা বুঝতে পারছে না, ইসলাম আর ইসলামপন্থা এক জিনিস নয়।

সামরিক বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। একটা নির্বাচিত সরকারকে রক্ষা করার বদলে তারা নীরব ছিল, অথবা হয়তো পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়েছে ক্যু-কে। এটা দেশের জন্য মারাত্মক খারাপ নজির। সামরিক বাহিনী রাজনীতিতে জড়ালে গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়। আর বাংলাদেশে সেটাই হয়েছে।

যে তরুণরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, তাদের অনেকে ফেসবুকে বসে জামায়াত-শিবিরের প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তারা নিজেদের ইসলামের সেবক ভাবছে, কিন্তু আসলে তারা রাজনৈতিক সংগঠনের হাতিয়ার। তাদের বাবা-মা হয়তো কৃষিকাজ করে, দোকানদারি করে, অনেক কষ্টে সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়েছে। কিন্তু সেই সন্তান এখন সময় নষ্ট করছে ফেসবুকে বসে লোকজনকে নাস্তিক-মুরতাদ বলে গালি দিতে। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে?

ভারত-বিরোধিতাও একটা ফাঁকা বুলি। ভারত সব দলকেই সাহায্য করেছে, শুধু আওয়ামী লীগ নয়। বিএনপিও ভারতের সাহায্য নিয়েছে। জামায়াতও ভারতের সাথে যোগাযোগ করেছে। হিন্দুস্তান জামায়াতে ইসলামীর নেতারা অমিত শাহের সাথে মিটিং করেছে। কিন্তু তারপরও তারা বলে, আওয়ামী লীগ ভারতের দালাল! আসল কথা হলো, যখন ভারত আমাকে সাহায্য করে, তখন সেটা বন্ধুত্ব। যখন আমার প্রতিপক্ষকে সাহায্য করে, তখন সেটা দালালি। এটা ভিখারিদের মানসিকতা। একজন ভিখারি দেখলে অন্য ভিখারিকে বেশি ভিক্ষা দিলে রাগে ফেটে পড়ে। ইসলামপন্থীরাও তেমন।

এখন বাংলাদেশ একটা সংকটে আছে। অবৈধ সরকার চলছে, মৌলবাদীরা ক্ষমতায়, যুদ্ধাপরাধীরা মন্ত্রী হচ্ছে, দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে এই দেশের জন্ম, সেটা এখন মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে, শহীদদের স্মৃতি মুছে ফেলা হচ্ছে।

কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, এই ধরনের অবৈধ ক্ষমতা দখল কখনো টিকে থাকে না। জনগণ একদিন বুঝতে পারবে তাদের সাথে কী প্রতারণা করা হয়েছে। তারা বুঝতে পারবে ধর্মের নামে কীভাবে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। আর তখন এই জামায়াত-শিবির আর তাদের প্রভু ইউনুসের জায়গা হবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। কারণ একটা দেশ চিরকাল অবৈধ সরকারের অধীনে থাকতে পারে না। মানুষ একদিন না একদিন স্বাধীনতা ফিরে পায়।

যে দেশে একসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল, সেই দেশে এখন ধর্মের নামে রাজনীতির বাজার গরম। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যা ঘটলো, সেটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। ছিল সুপরিকল্পিত একটা ষড়যন্ত্র। বিদেশি টাকা, জঙ্গি সংগঠনের মাসল পাওয়ার আর সামরিক বাহিনীর একাংশের নীরব সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো। ক্ষমতায় বসলো ইউনুস নামের এক ব্যক্তি, যার পাশে দাঁড়ালো জামায়াত-শিবিরসহ বিভিন্ন ইসলামি মৌলবাদী গোষ্ঠী।

এই পুরো ঘটনার পেছনে যে কারসাজি, সেটা বুঝতে হলে একটু পেছনে তাকাতে হয়। বাংলাদেশে একটা শ্রেণি তৈরি হয়েছে, যারা ইসলামের নাম নিয়ে আসলে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে। এরা সাধারণ মানুষকে বোঝায় যে ভারত নাকি বাংলাদেশের প্রধান শত্রু, আওয়ামী লীগ নাকি ভারতের দালাল। কিন্তু আসল সত্যটা হলো, এই যারা চেঁচামেচি করে, তারা নিজেরাই বিদেশি টাকার দালাল। তারা নিজেরাই ভারতীয় পণ্য ব্যবহার করে, ভারতীয় ওষুধ খায়, ভারতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে, আবার সেই ভারতের বিরুদ্ধেই বিষোদ্গার করে।

জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধী সংগঠন। ১৯৭১ সালে এই দলের নেতারা পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে মিলে গণহত্যা চালিয়েছে, ধর্ষণ করেছে, বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে। কিন্তু আজ তারাই নাকি ইসলামের ঠিকাদার! তারাই নাকি বাংলাদেশকে বাঁচাবে! এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে? যে সংগঠন দেশের জন্মের বিরোধিতা করেছিল, সেই সংগঠন এখন দেশের ক্ষমতায়।

ইউনুস সাহেব গরিবের বন্ধু সেজে ক্ষুদ্রঋণের নামে মানুষকে সর্বস্বান্ত করেছেন। সুদের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে মানুষকে ঋণের জালে জড়িয়ে ফেলেছেন। নোবেল পুরস্কার পেয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটা ভালো ইমেজ তৈরি করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামের দরিদ্র মানুষ জানে তার আসল চেহারা। এখন সেই লোকই দেশ চালাচ্ছে, কোনো নির্বাচন ছাড়াই। এটাকে গণতন্ত্র বলা যায়? এটা তো সামরিক ক্যু ছাড়া আর কিছু নয়।

জুলাইয়ের দাঙ্গার সময় কী হয়েছিল? রাস্তায় নামানো হয়েছিল তরুণদের, যাদের বেশিরভাগই বুঝতো না তারা আসলে কার হাতের পুতুল। তাদের বলা হয়েছিল কোটা সংস্কারের কথা, কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ছিল সরকার পতন। হিংসা ছড়ানো হলো, সম্পত্তি ধ্বংস করা হলো, মানুষ মারা গেল। আর শেষে দেখা গেল, ক্ষমতায় আসছে যুদ্ধাপরাধী আর মৌলবাদীরা। যে তরুণরা রাস্তায় নেমেছিল, তাদের ব্যবহার করা হলো রাজনৈতিক ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই যে বিদেশি টাকার কথা বলছি, সেটা কোথা থেকে আসছে? পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ এবং পশ্চিমা কিছু শক্তি বাংলাদেশে মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে বছরের পর বছর। তাদের স্বার্থ হলো এই অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি করা, ভারতকে দুর্বল করা। আর সেই লক্ষ্যে তারা বাংলাদেশকে ব্যবহার করছে। জামায়াত-শিবির আর তাদের সমমনা গোষ্ঠীগুলো সেই বিদেশি টাকার ভাগীদার।

মজার ব্যাপার হলো, যারা ভারতবিরোধী শ্লোগান দেয়, তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভারতীয় পণ্য ব্যবহার করে। ট্রাক্টর ভারতীয়, বাস ভারতীয়, সিএনজি ভারতীয়, ওষুধের কাঁচামাল ভারতীয়, কাপড়ের সুতা ভারতীয়, ফেসবুক-গুগলে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান। এমনকি পেঁয়াজ-রসুনও আসে ভারত থেকে। কিন্তু এসব ব্যবহার করে তারা চিৎকার করে বলে, দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা! ঢাকা! এটা ভণ্ডামি ছাড়া আর কী?

আসল সমস্যা হলো, বাংলাদেশে ইসলাম আর ইসলামপন্থার পার্থক্য বোঝানো যায় না। ইসলামপন্থী মানে ইসলামের ধ্বজাধারী নয়। ইসলামপন্থী হলো রাজনৈতিক সংগঠন, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসতে চায়। তারা ধর্মের যথার্থ শিক্ষা মানে না, তারা নিজেদের স্বার্থ মানে। তারা আল্লাহর দাস নয়, জামায়াত-শিবিরের দাস।

এখন যে সরকার ক্ষমতায় আছে, তারা অবৈধ। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় আসা কোনো সরকার বৈধতা পেতে পারে না। এটা ক্যু, এটা জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে অপরাধ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এই অবৈধ ক্ষমতা দখলকে অনেকে সমর্থন দিচ্ছে, কারণ তারা ইসলামের নাম শুনছে। তারা বুঝতে পারছে না, ইসলাম আর ইসলামপন্থা এক জিনিস নয়।

সামরিক বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। একটা নির্বাচিত সরকারকে রক্ষা করার বদলে তারা নীরব ছিল, অথবা হয়তো পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়েছে ক্যু-কে। এটা দেশের জন্য মারাত্মক খারাপ নজির। সামরিক বাহিনী রাজনীতিতে জড়ালে গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়। আর বাংলাদেশে সেটাই হয়েছে।

যে তরুণরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, তাদের অনেকে ফেসবুকে বসে জামায়াত-শিবিরের প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তারা নিজেদের ইসলামের সেবক ভাবছে, কিন্তু আসলে তারা রাজনৈতিক সংগঠনের হাতিয়ার। তাদের বাবা-মা হয়তো কৃষিকাজ করে, দোকানদারি করে, অনেক কষ্টে সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়েছে। কিন্তু সেই সন্তান এখন সময় নষ্ট করছে ফেসবুকে বসে লোকজনকে নাস্তিক-মুরতাদ বলে গালি দিতে। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে?

ভারত-বিরোধিতাও একটা ফাঁকা বুলি। ভারত সব দলকেই সাহায্য করেছে, শুধু আওয়ামী লীগ নয়। বিএনপিও ভারতের সাহায্য নিয়েছে। জামায়াতও ভারতের সাথে যোগাযোগ করেছে। হিন্দুস্তান জামায়াতে ইসলামীর নেতারা অমিত শাহের সাথে মিটিং করেছে। কিন্তু তারপরও তারা বলে, আওয়ামী লীগ ভারতের দালাল! আসল কথা হলো, যখন ভারত আমাকে সাহায্য করে, তখন সেটা বন্ধুত্ব। যখন আমার প্রতিপক্ষকে সাহায্য করে, তখন সেটা দালালি। এটা ভিখারিদের মানসিকতা। একজন ভিখারি দেখলে অন্য ভিখারিকে বেশি ভিক্ষা দিলে রাগে ফেটে পড়ে। ইসলামপন্থীরাও তেমন।

এখন বাংলাদেশ একটা সংকটে আছে। অবৈধ সরকার চলছে, মৌলবাদীরা ক্ষমতায়, যুদ্ধাপরাধীরা মন্ত্রী হচ্ছে, দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে এই দেশের জন্ম, সেটা এখন মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে, শহীদদের স্মৃতি মুছে ফেলা হচ্ছে।

কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, এই ধরনের অবৈধ ক্ষমতা দখল কখনো টিকে থাকে না। জনগণ একদিন বুঝতে পারবে তাদের সাথে কী প্রতারণা করা হয়েছে। তারা বুঝতে পারবে ধর্মের নামে কীভাবে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। আর তখন এই জামায়াত-শিবির আর তাদের প্রভু ইউনুসের জায়গা হবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। কারণ একটা দেশ চিরকাল অবৈধ সরকারের অধীনে থাকতে পারে না। মানুষ একদিন না একদিন স্বাধীনতা ফিরে পায়।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ