শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এক ভয়াবহ ও পৈশাচিক হামলার শিকার ওষুধ ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস আজ সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
গত বুধবার রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে কেবল কুপিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, গায়ে পেট্রল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়—যা আধুনিক সমাজে মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।
গত বুধবার রাতে ডামুড্যার তিলই এলাকায় খোকন দাসের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। কুপিয়ে জখম করার পর তার শরীরে পেট্রল জাতীয় দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ ও গুরুতর জখম নিয়ে তিন দিন আইসিইউতে যন্ত্রণার সাথে লড়াই করে অবশেষে আজ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটায় তিনি মারা যান।
মৃত্যুশয্যায় খোকন নিজেই তার ওপর হামলাকারী হিসেবে সোহাগ খান ও রাব্বি মোল্যা নামের দুই যুবকের নাম বলে গেছেন। এছাড়া পলাশ সরদার নামে আরও একজন এই নৃশংসতায় জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর কেউরভাঙা বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল পুরো এলাকা।
নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে ঘটনার কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
একজন সাধারণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে এবং গায়ে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে মারার এই ঘটনা ইউনুস সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিকেই নির্দেশ করে। খোকন দাসের এই মৃত্যু কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি মানবিকতার ওপর এক চরম আঘাত। জঙ্গি সরকারের আমলে নিজেদের প্রাণ বাঁচানোই মুশকিল হয়ে পড়েছে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। শরীয়তপুরের ঘটনা আবারো আমাদের দেখিয়ে দিলো অবৈধ সরকার চায় দেশে জঙ্গিদের শাসন, যে শাসনে থাকবেনা কোন নৈতিক মূল্যবোধ বা নাগরিক অধিকার।

