Thursday, January 15, 2026

বাংলাদেশ কি সত্যিই মবের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে?

পাঁচ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে যা ঘটছে, তা দেখে যে কারো মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। একটি দেশ কি এভাবে চলতে পারে, যেখানে মবের হাতে মানুষ মরছে প্রতিদিন? চুরির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লাশ পোড়ানো, নারীদের প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা। এসব কি কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে?

ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বারবার কড়া ভাষায় সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হচ্ছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। প্রশ্ন হলো, এটা কি সত্যিই অক্ষমতা, নাকি ইচ্ছাকৃত নীরবতা?

জুলাই মাসে যে দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছিল, তার পেছনে যে শক্তিগুলো কাজ করেছে, সেই শক্তিগুলোই এখন দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে চলেছে বলে অনেকেই মনে করেন। নির্বাচিত সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত করে যে শক্তি ক্ষমতায় এসেছে, তারা কি আসলেই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়? নাকি এই বিশৃঙ্খলা তাদের জন্য সুবিধাজনক?

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক বছরে ১৯৯ জনকে মব লিঞ্চিং করে হত্যা করা হয়েছে। এই সংখ্যাটা শুধু একটা পরিসংখ্যান নয়, এর পেছনে রয়েছে ১৯৯টি পরিবারের অসহনীয় কষ্ট, শত শত মানুষের জীবন ওলটপালট হয়ে যাওয়ার গল্প। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন বলছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই সন্ত্রাস। তাহলে সরকারের কঠোর ব্যবস্থার কথাগুলো শুধুই বাগাড়ম্বর?

মানবাধিকার কর্মী নূর খানের মন্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলছেন, মব তৈরি করে সমাজে ভয় চালু করা হচ্ছে। কেউ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে না, ভয়ে সবাই থমকে আছে। এটাই কি তাহলে নতুন বাংলাদেশের চেহারা? যেখানে মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকীকেও নিরাপদে একটি আলোচনা সভায় যোগ দিতে দেয়া হয় না, সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন ঠিকই বলেছেন, মব হলো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত একটা অস্ত্র। এখন প্রশ্ন হলো, কারা এই অস্ত্র ব্যবহার করছে এবং কেন? প্রশাসন ও পুলিশ যদি সত্যিই চায়, তাহলে কি এই মব সন্ত্রাস ঠেকানো সম্ভব নয়? নাকি তারা নীরব দর্শক থাকতেই বেশি আগ্রহী?

আনু মুহাম্মদের প্রশ্নগুলো আরো সরাসরি। কারা ভাস্কর্য ভাঙছে, মাজারে হামলা করছে, মুক্তিযোদ্ধাদের জখম করছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তো সবাই জানে। কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না কেন? ইউনুসের সরকার কি এই নৈরাজ্যকে মেনে নিয়েছে, নাকি এটাই তাদের পরিকল্পনা ছিল শুরু থেকে?

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান যথার্থই বলেছেন, সরকার প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ কোনোটিই ঠিকমতো করতে পারেনি। শুধু দায়সারা বিবৃতি দিয়ে কোনো লাভ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কি আসলেই চেষ্টা করেছে? নাকি এটাই তাদের কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি?

একটি নির্বাচিত সরকারকে অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কাছ থেকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আশা করাটাই বোকামি হয়তো। জুলাই মাসের সেই দাঙ্গার সময় যে হিংসা, যে বর্বরতা দেখা গেছে, তার ধারাবাহিকতাই এখন চলছে। ফরক শুধু এই যে, তখন লক্ষ্য ছিল সরকার উৎখাত, এখন লক্ষ্য হলো সমাজে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাখা।

পুলিশের নীরব ভূমিকা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। তাদের সামনেই ঘটছে এসব ঘটনা, অথচ তারা নীরব দর্শক। এটা কি তাদের অক্ষমতা, নাকি উপর থেকে নির্দেশনা? একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন জনগণকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই দেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে?

দেশে এখন যে পরিস্থিতি চলছে, তাতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কেউ জানে না কখন কোথায় কী ঘটবে। একটি ছোট সন্দেহ, একটি গুজব, একটি মতপার্থক্য, যেকোনো কিছুই মব তৈরির উপলক্ষ হয়ে উঠছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, এমনকি পুলিশ সদস্যরাও নিরাপদ নন।

ইউনুসের সরকার যতই জিরো টলারেন্সের কথা বলুক না কেন, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। বরং মনে হচ্ছে, এই বিশৃঙ্খলা তারা চাইছে। কারণ একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশে তাদের অবৈধ শাসন টিকে থাকা কঠিন হবে। ভয় ও আতঙ্কের মধ্যেই তারা তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে বলে হয়তো মনে করছে।

বিদেশী শক্তির সহায়তায়, জঙ্গি সংগঠনের মদদে এবং কিছু বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার সমর্থনে যে ক্যু সংঘটিত হয়েছে, তার ফলাফল এখন সবাই দেখছে। দেশ যে পথে এগোচ্ছে, তা ভয়াবহ। মব সন্ত্রাস এখন মহামারির রূপ নিয়েছে, আর এই মহামারী ছড়াতে দিয়ে ইউনুসের সরকার প্রমাণ করে দিচ্ছে যে তাদের কাছে জনগণের জীবন ও নিরাপত্তার কোনো মূল্য নেই।

পাঁচ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে যা ঘটছে, তা দেখে যে কারো মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। একটি দেশ কি এভাবে চলতে পারে, যেখানে মবের হাতে মানুষ মরছে প্রতিদিন? চুরির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লাশ পোড়ানো, নারীদের প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা। এসব কি কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে?

ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বারবার কড়া ভাষায় সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হচ্ছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। প্রশ্ন হলো, এটা কি সত্যিই অক্ষমতা, নাকি ইচ্ছাকৃত নীরবতা?

জুলাই মাসে যে দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছিল, তার পেছনে যে শক্তিগুলো কাজ করেছে, সেই শক্তিগুলোই এখন দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে চলেছে বলে অনেকেই মনে করেন। নির্বাচিত সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত করে যে শক্তি ক্ষমতায় এসেছে, তারা কি আসলেই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়? নাকি এই বিশৃঙ্খলা তাদের জন্য সুবিধাজনক?

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক বছরে ১৯৯ জনকে মব লিঞ্চিং করে হত্যা করা হয়েছে। এই সংখ্যাটা শুধু একটা পরিসংখ্যান নয়, এর পেছনে রয়েছে ১৯৯টি পরিবারের অসহনীয় কষ্ট, শত শত মানুষের জীবন ওলটপালট হয়ে যাওয়ার গল্প। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন বলছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই সন্ত্রাস। তাহলে সরকারের কঠোর ব্যবস্থার কথাগুলো শুধুই বাগাড়ম্বর?

মানবাধিকার কর্মী নূর খানের মন্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলছেন, মব তৈরি করে সমাজে ভয় চালু করা হচ্ছে। কেউ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে না, ভয়ে সবাই থমকে আছে। এটাই কি তাহলে নতুন বাংলাদেশের চেহারা? যেখানে মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকীকেও নিরাপদে একটি আলোচনা সভায় যোগ দিতে দেয়া হয় না, সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন ঠিকই বলেছেন, মব হলো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত একটা অস্ত্র। এখন প্রশ্ন হলো, কারা এই অস্ত্র ব্যবহার করছে এবং কেন? প্রশাসন ও পুলিশ যদি সত্যিই চায়, তাহলে কি এই মব সন্ত্রাস ঠেকানো সম্ভব নয়? নাকি তারা নীরব দর্শক থাকতেই বেশি আগ্রহী?

আনু মুহাম্মদের প্রশ্নগুলো আরো সরাসরি। কারা ভাস্কর্য ভাঙছে, মাজারে হামলা করছে, মুক্তিযোদ্ধাদের জখম করছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তো সবাই জানে। কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না কেন? ইউনুসের সরকার কি এই নৈরাজ্যকে মেনে নিয়েছে, নাকি এটাই তাদের পরিকল্পনা ছিল শুরু থেকে?

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান যথার্থই বলেছেন, সরকার প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ কোনোটিই ঠিকমতো করতে পারেনি। শুধু দায়সারা বিবৃতি দিয়ে কোনো লাভ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কি আসলেই চেষ্টা করেছে? নাকি এটাই তাদের কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি?

একটি নির্বাচিত সরকারকে অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কাছ থেকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আশা করাটাই বোকামি হয়তো। জুলাই মাসের সেই দাঙ্গার সময় যে হিংসা, যে বর্বরতা দেখা গেছে, তার ধারাবাহিকতাই এখন চলছে। ফরক শুধু এই যে, তখন লক্ষ্য ছিল সরকার উৎখাত, এখন লক্ষ্য হলো সমাজে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাখা।

পুলিশের নীরব ভূমিকা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। তাদের সামনেই ঘটছে এসব ঘটনা, অথচ তারা নীরব দর্শক। এটা কি তাদের অক্ষমতা, নাকি উপর থেকে নির্দেশনা? একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন জনগণকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই দেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে?

দেশে এখন যে পরিস্থিতি চলছে, তাতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কেউ জানে না কখন কোথায় কী ঘটবে। একটি ছোট সন্দেহ, একটি গুজব, একটি মতপার্থক্য, যেকোনো কিছুই মব তৈরির উপলক্ষ হয়ে উঠছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, এমনকি পুলিশ সদস্যরাও নিরাপদ নন।

ইউনুসের সরকার যতই জিরো টলারেন্সের কথা বলুক না কেন, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। বরং মনে হচ্ছে, এই বিশৃঙ্খলা তারা চাইছে। কারণ একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশে তাদের অবৈধ শাসন টিকে থাকা কঠিন হবে। ভয় ও আতঙ্কের মধ্যেই তারা তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে বলে হয়তো মনে করছে।

বিদেশী শক্তির সহায়তায়, জঙ্গি সংগঠনের মদদে এবং কিছু বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার সমর্থনে যে ক্যু সংঘটিত হয়েছে, তার ফলাফল এখন সবাই দেখছে। দেশ যে পথে এগোচ্ছে, তা ভয়াবহ। মব সন্ত্রাস এখন মহামারির রূপ নিয়েছে, আর এই মহামারী ছড়াতে দিয়ে ইউনুসের সরকার প্রমাণ করে দিচ্ছে যে তাদের কাছে জনগণের জীবন ও নিরাপত্তার কোনো মূল্য নেই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ