হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) এক নেতার দাপুটে আচরণ এবং পুলিশ হত্যার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে থানার ওসির সাথে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলতে এবং বিতর্কিত দাবি করতে দেখা গেছে। এই ঘটনার পর জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং আসন্ন নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান দলবল নিয়ে থানায় গিয়ে ওসির ওপর চড়াও হন। তাদের এক কর্মীকে কেন আটক করা হয়েছে—এই প্রশ্ন তুলে ওসির সাথে তর্কে লিপ্ত হন মাহদী।
কথোপকথনের একপর্যায়ে মাহদী হাসান অত্যন্ত দাম্ভিকতার সাথে দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসন তাদের কারণেই টিকে আছে। তিনি ওসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে আজকে এই প্রশাসন এই চেয়ারে বসেছে।”
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সেই কথোপকথনের সময় মাহদী হাসান প্রকাশ্যে সহিংসতা ও পুলিশ হত্যার দায় স্বীকার করেন। তাকে বলতে শোনা যায়, “আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছি, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছি।” উল্লেখ্য, বানিয়াচং থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্য সন্তোষ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম নৃশংস ঘটনা। জনসমক্ষে একজন নেতার এমন স্বীকারোক্তি আইনি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
প্রকাশ্যে খুনের দায় স্বীকার এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ধমক দেওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো শক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে ওসির অসহায় অবস্থান এবং নেতার দাপট দেখে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করছেন। নেটিজেনদের প্রশ্ন—পুলিশ হত্যার স্বীকারোক্তি দেওয়ার পরও কেন ওই নেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করলেও এই ঘটনাটি পুরো নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটারদের মতে, যদি মাঠ পর্যায়ের নেতারা পুলিশকে এভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খুনের দায় স্বীকার করেও পার পেয়ে যান, তবে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

