Thursday, January 15, 2026

রাজধানীতে মব করে এবার আইনজীবীকে খুন, জনমনে প্রশ্ন নির্বাচন হবে তো?

নতুন বছরের শুরুতেই মব জাস্টিস বা গণপিটুনির নৃশংসতায় কেঁপে উঠল রাজধানী। বছরের প্রথম দিনেই ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামের এক আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পাবনা জজ কোর্টের এই আইনজীবীর মৃত্যু এবং দেশজুড়ে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতি আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় ও প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত নাঈম কিবরিয়া পাবনা সদর উপজেলার গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। নিহতের স্বজনরা জানান, নাঈম ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁর খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নাঈম নির্মম ‘মব সন্ত্রাস’-এর শিকার হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা কেবল নাঈমকে পিটিয়ে হত্যাই করেনি, তিনি যে প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন সেটিও গুঁড়িয়ে দিয়েছে। জনাকীর্ণ এলাকায় একজন আইনজীবীকে এভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিকেই নির্দেশ করছে।

এই হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলেছে। আসক তাদের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর ও গভীর সংকটজনক’ বলে অভিহিত করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক বছরে দেশে মব সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যন অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে অন্তত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ জন নিহত এবং ৪,৭৪৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৩৮ জন এবং কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের।

মানবাধিকার পরিস্থিতির এই ভয়াবহ চিত্র কেবল রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আসক-এর তথ্যমতে, গত বছরে ৭৪৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং ২১৭ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছেন। শিশুদের ওপর নির্যাতনের চিত্র আরও ভয়াবহ; ১,০২৩ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে ৪১০ জন। এর পাশাপাশি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অন্তত ৪২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা ও জবাবদিহির অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে আসক মনে করে।

রাজধানীর বুকে আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা এবং আসক-এর এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যানের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন একটিই বড় প্রশ্ন—এমন অস্থিতিশীল পরিবেশে কি আদৌ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব? একদিকে আওয়ামী লীগকে দূরে রাখার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে দেশজুড়ে মব সন্ত্রাস ও চরম নিরাপত্তাহীনতা; সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনের রোডম্যাপ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, যেখানে একজন আইনজীবীর জীবনের নিরাপত্তা নেই এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি গভীর সংকটে, সেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ ক্রমেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।

নতুন বছরের শুরুতেই মব জাস্টিস বা গণপিটুনির নৃশংসতায় কেঁপে উঠল রাজধানী। বছরের প্রথম দিনেই ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামের এক আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পাবনা জজ কোর্টের এই আইনজীবীর মৃত্যু এবং দেশজুড়ে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতি আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় ও প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত নাঈম কিবরিয়া পাবনা সদর উপজেলার গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। নিহতের স্বজনরা জানান, নাঈম ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁর খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নাঈম নির্মম ‘মব সন্ত্রাস’-এর শিকার হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা কেবল নাঈমকে পিটিয়ে হত্যাই করেনি, তিনি যে প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন সেটিও গুঁড়িয়ে দিয়েছে। জনাকীর্ণ এলাকায় একজন আইনজীবীকে এভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিকেই নির্দেশ করছে।

এই হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলেছে। আসক তাদের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর ও গভীর সংকটজনক’ বলে অভিহিত করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক বছরে দেশে মব সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যন অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে অন্তত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ জন নিহত এবং ৪,৭৪৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৩৮ জন এবং কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের।

মানবাধিকার পরিস্থিতির এই ভয়াবহ চিত্র কেবল রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আসক-এর তথ্যমতে, গত বছরে ৭৪৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং ২১৭ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছেন। শিশুদের ওপর নির্যাতনের চিত্র আরও ভয়াবহ; ১,০২৩ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে ৪১০ জন। এর পাশাপাশি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অন্তত ৪২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা ও জবাবদিহির অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে আসক মনে করে।

রাজধানীর বুকে আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা এবং আসক-এর এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যানের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন একটিই বড় প্রশ্ন—এমন অস্থিতিশীল পরিবেশে কি আদৌ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব? একদিকে আওয়ামী লীগকে দূরে রাখার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে দেশজুড়ে মব সন্ত্রাস ও চরম নিরাপত্তাহীনতা; সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনের রোডম্যাপ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, যেখানে একজন আইনজীবীর জীবনের নিরাপত্তা নেই এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি গভীর সংকটে, সেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ ক্রমেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ