ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের দাখিলকৃত হলফনামা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিজেকে ‘জমিদারের নাতি’ হিসেবে দাবি করলেও হলফনামার তথ্যে তাঁর জীবনযাত্রার অতি সাধারণ চিত্র ফুটে উঠেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারজিস আলমের বার্ষিক আয় মাত্র ৯ লাখ টাকা, যার প্রধান উৎস ব্যবসা। এর মধ্যে তাঁর হাতে নগদ জমা আছে মাত্র ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর জমা রয়েছে আরও ১ লাখ টাকা। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর ব্যক্তিগত কোনো বাড়ি বা গাড়ি নেই। এমনকি নিজের নামে কোনো দালান বা অ্যাপার্টমেন্টও নেই। তবে দান সূত্রে পাওয়া ১৬ দশমিক ৫০ শতক কৃষিজমি রয়েছে তাঁর নামে।
সম্পদ বিবরণীর বাইরেও সারজিস আলমকে নিয়ে গত এক বছরে বেশ কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর হয়ে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে পঞ্চগড়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। তখন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিলাসবহুল শোডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এর জবাবে সারজিস আলম বলেছিলেন যে, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কয়েক লাখ টাকা খরচের সামর্থ্য না থাকলেও তাঁর পরিবারের আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর দাদা (জমিদার) তাঁর জন্য যা রেখে গেছেন, তা দিয়েই তিনি পুরো নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবেন।
তবে এবারের হলফনামায় তাঁর সেই দাবির বিপরীতে মাত্র ৩ লাখ টাকা হাতে থাকার তথ্য অনেককেই বিস্মিত করেছে। বিরোধীরা একে ‘কৌশলী অবস্থান’ হিসেবে দেখলেও সারজিস আলমের দাবি, তিনি হলফনামায় তাঁর ব্যক্তিগত অর্জিত সম্পদের প্রকৃত চিত্রই তুলে ধরেছেন। এছাড়া তাঁর নামে বর্তমানে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং একটি ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলাও আলোচনায় ছিল।
পারিবারিক আভিজাত্য আর হলফনামার সাধারণ তথ্যের এই বৈপরীত্য পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে সারজিস আলমের স্বচ্ছতাকে সাধারণ ভোটারদের কাছে নতুন এক আলোচনার বিষয়ে পরিণত করেছে।

