Thursday, January 15, 2026

আওয়ামী লীগের কথাই সত্যি হলো, জামায়াতের গুপ্ত অংশই ছিল এনসিপি

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে এক ষড়যন্ত্রের টোপ দিয়েছিল জামায়াত। আর তাতেই বাংলাদেশ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়। এই অভিযোগ এতদিন আওয়ামী লীগ করে আসলেও এখন সেটি দিবালোকের মতোই সত্য।

আজ রোববার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট রাজনৈতিক দলের জোটে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি রাজনৈতিক দল। নতুন যুক্ত হওয়া দল দুটি হচ্ছে– কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আর এরমধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো জামায়াতে গুপ্ত অংশই ছিল এনসিপি। এরাই সেই রাজাকারের বংশধর যারা শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে বিকৃত করে শিক্ষার্থীদেরকে ভুল বুঝিয়েছিল।

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ ঘটনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আগস্টের ৫ তারিখ রাতে জামাত নেতার বাসায় মিটিং দিয়ে যেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটা আজকে এসে পূর্ণতা পাইছে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদেরকে জানাই অভিনন্দন। তবে নাহিদ ইসলাম’রা মানুষের আবেগ নিয়ে এইভাবে প্রতারণা না করলেও পারতেন।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা বর্তমান ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম দাবি করেছেন, এই আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সারজিস আলম শিবিরের সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনও একই কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আন্দোলনের জনপ্রিয় স্লোগান “তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার” ছিল শিবিরের কনসেপ্ট থেকে উদ্ভূত, যা সরকারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। এই অভিযোগগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের উপর প্রশ্ন তোলে।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পেছনে জামায়াতে ইসলামী, ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং আন্তর্জাতিক মহলের একটি গোপন ষড়যন্ত্র ছিল বলে দাবি করা হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। ড. ইউনুসের নাম আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যিনি আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধে জড়িত ছিলেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার। এটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই শুরু হয় এবং পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন এটি ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। কিন্তু শিবিরের মতো সংগঠনগুলো আন্দোলনকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করেছে। “তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার” স্লোগানটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অপব্যবহার হিসেবে দেখা হয়, যা ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। আন্দোলনের ফলে ব্যাপক সহিংসতা, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। শিবির ও জামায়াত সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে সহিংসতা উসকে দিয়েছে।

আন্দোলন প্রাথমিকভাবে অরাজনৈতিক ছিল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত হলেও, সরকার ও গণমাধ্যম দাবি করে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের সদস্যরা সহিংসতা বৃদ্ধি করতে আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করেছে। স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের গুলি করার অভিযোগ ওঠে, যা আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ চরিত্র ক্ষুণ্ন করেছে এবং ব্যাপক হতাহতের কারণ হয়েছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, এনায়েতপুর থানায় বিক্ষোভকারীদের হামলার পর আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিলেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় যে যার মতো দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন কর্তব্যরত প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য। তাদের কেউ থানার ছাদে, কেউ পাশের বাড়িতে, কেউ শৌচাগারে, কেউবা জঙ্গলে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই খুঁজে এনে একে একে ১৪ জনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে জামায়াত-শিবিরের জঙ্গিরা। যার মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী পুলিশ সদস্যও ছিলেন।

থানার পেছনের এলাকার খোকসাবাড়ি গ্রামে বৃদ্ধ জহির উদ্দিনের (৭৫) বাড়ি। এমন হত্যাযজ্ঞ জীবনে দেখেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বেলা তিনটা দিকে থানার পেছনের জঙ্গলের মধ্যে পালিয়ে থাকা বেশ কয়েক জন পুলিশ সদস্যকে হামলাকারীরা খুঁজে বের করে কাঠের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পেটাতে শুরু করে। সে সময় জীবন বাঁচাতে কোনো পথ না পেয়ে তাঁরা পাশের পুকুরের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা সেই পানিতে নেমেই তাদের পিটিয়ে হত্যা করে লাশগুলো টেনে তুলে পাড়ে জমা করে। একটি লাশ পরে সেনা সদস্যরা পুকুরের পানি থেকে উদ্ধার করেছেন।’

জহির উদ্দিন বলেন, হামলাকারীদের বেশির ভাগের বয়স ১৭ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে দু–একজনের বয়স ৪০-৪৫ হবে। তবে তারা কেউই স্থানীয় নয়। সবাই তাঁদের অপরিচিত। তাদের কাউকেই এলাকার মানুষ আগে কখনো দেখেননি।

এই হামলা পুলিশের ওপর নির্বিচার আক্রমণের এক মর্মান্তিক উদাহরণ। তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ নিহতের সংখ্যাকে কমিয়ে দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনে ৪৪ পুলিশ সদস্য নিহত হয়, যা দাবিকৃত ৩ হাজার পুলিশ হত্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুট

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে ৬৬৪টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯টি গোলাবারুদ লুট হয়, যার মধ্যে ছিল চায়না রাইফেল, শটগান, এসএমজি, এলএমজি, পিস্তল, গ্যাসগান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, সাউন্ড গ্রেনেড সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ জেলপলাতক আসামি, সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের হাতে চলে যায়, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

তিন হাজারের বেশি পুলিশ হত্যা

জামায়াত-শিবিরের জঙ্গিরা আন্দোলনের সময় ৩ হাজারের বেশি পুলিশ হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, নিহত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ৪৪। নিহত সদস্যদের পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর সঠিক তথ্য ও সান্ত্বনা না পাওয়ার কারণে তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, পুলিশ হত্যার ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি কম থাকায় পুলিশের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা ও সরকারের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, তারা বিভিন্ন আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা ছড়িয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতায় জামায়াত-শিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। সরকারের দাবি, এই সংগঠনগুলো হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি এবং উসকানির মাধ্যমে জড়িত ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সহিংসতা, জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এটি এক ভয়াবহ অধ্যায় যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন এবং বহিরাগত ষড়যন্ত্রের ছায়া জটিলভাবে মিশে আছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সার্বভৌমত্বের জন্য এটি গভীর সংকটের সূচনা করেছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে এক ষড়যন্ত্রের টোপ দিয়েছিল জামায়াত। আর তাতেই বাংলাদেশ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়। এই অভিযোগ এতদিন আওয়ামী লীগ করে আসলেও এখন সেটি দিবালোকের মতোই সত্য।

আজ রোববার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট রাজনৈতিক দলের জোটে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি রাজনৈতিক দল। নতুন যুক্ত হওয়া দল দুটি হচ্ছে– কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আর এরমধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো জামায়াতে গুপ্ত অংশই ছিল এনসিপি। এরাই সেই রাজাকারের বংশধর যারা শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে বিকৃত করে শিক্ষার্থীদেরকে ভুল বুঝিয়েছিল।

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ ঘটনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আগস্টের ৫ তারিখ রাতে জামাত নেতার বাসায় মিটিং দিয়ে যেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটা আজকে এসে পূর্ণতা পাইছে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদেরকে জানাই অভিনন্দন। তবে নাহিদ ইসলাম’রা মানুষের আবেগ নিয়ে এইভাবে প্রতারণা না করলেও পারতেন।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা বর্তমান ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম দাবি করেছেন, এই আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সারজিস আলম শিবিরের সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনও একই কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আন্দোলনের জনপ্রিয় স্লোগান “তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার” ছিল শিবিরের কনসেপ্ট থেকে উদ্ভূত, যা সরকারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। এই অভিযোগগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের উপর প্রশ্ন তোলে।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পেছনে জামায়াতে ইসলামী, ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং আন্তর্জাতিক মহলের একটি গোপন ষড়যন্ত্র ছিল বলে দাবি করা হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। ড. ইউনুসের নাম আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যিনি আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধে জড়িত ছিলেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার। এটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই শুরু হয় এবং পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন এটি ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। কিন্তু শিবিরের মতো সংগঠনগুলো আন্দোলনকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করেছে। “তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার” স্লোগানটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অপব্যবহার হিসেবে দেখা হয়, যা ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। আন্দোলনের ফলে ব্যাপক সহিংসতা, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। শিবির ও জামায়াত সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে সহিংসতা উসকে দিয়েছে।

আন্দোলন প্রাথমিকভাবে অরাজনৈতিক ছিল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত হলেও, সরকার ও গণমাধ্যম দাবি করে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের সদস্যরা সহিংসতা বৃদ্ধি করতে আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করেছে। স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের গুলি করার অভিযোগ ওঠে, যা আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ চরিত্র ক্ষুণ্ন করেছে এবং ব্যাপক হতাহতের কারণ হয়েছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, এনায়েতপুর থানায় বিক্ষোভকারীদের হামলার পর আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিলেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় যে যার মতো দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন কর্তব্যরত প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য। তাদের কেউ থানার ছাদে, কেউ পাশের বাড়িতে, কেউ শৌচাগারে, কেউবা জঙ্গলে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই খুঁজে এনে একে একে ১৪ জনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে জামায়াত-শিবিরের জঙ্গিরা। যার মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী পুলিশ সদস্যও ছিলেন।

থানার পেছনের এলাকার খোকসাবাড়ি গ্রামে বৃদ্ধ জহির উদ্দিনের (৭৫) বাড়ি। এমন হত্যাযজ্ঞ জীবনে দেখেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বেলা তিনটা দিকে থানার পেছনের জঙ্গলের মধ্যে পালিয়ে থাকা বেশ কয়েক জন পুলিশ সদস্যকে হামলাকারীরা খুঁজে বের করে কাঠের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পেটাতে শুরু করে। সে সময় জীবন বাঁচাতে কোনো পথ না পেয়ে তাঁরা পাশের পুকুরের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা সেই পানিতে নেমেই তাদের পিটিয়ে হত্যা করে লাশগুলো টেনে তুলে পাড়ে জমা করে। একটি লাশ পরে সেনা সদস্যরা পুকুরের পানি থেকে উদ্ধার করেছেন।’

জহির উদ্দিন বলেন, হামলাকারীদের বেশির ভাগের বয়স ১৭ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে দু–একজনের বয়স ৪০-৪৫ হবে। তবে তারা কেউই স্থানীয় নয়। সবাই তাঁদের অপরিচিত। তাদের কাউকেই এলাকার মানুষ আগে কখনো দেখেননি।

এই হামলা পুলিশের ওপর নির্বিচার আক্রমণের এক মর্মান্তিক উদাহরণ। তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ নিহতের সংখ্যাকে কমিয়ে দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনে ৪৪ পুলিশ সদস্য নিহত হয়, যা দাবিকৃত ৩ হাজার পুলিশ হত্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুট

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে ৬৬৪টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯টি গোলাবারুদ লুট হয়, যার মধ্যে ছিল চায়না রাইফেল, শটগান, এসএমজি, এলএমজি, পিস্তল, গ্যাসগান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, সাউন্ড গ্রেনেড সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ জেলপলাতক আসামি, সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের হাতে চলে যায়, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

তিন হাজারের বেশি পুলিশ হত্যা

জামায়াত-শিবিরের জঙ্গিরা আন্দোলনের সময় ৩ হাজারের বেশি পুলিশ হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, নিহত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ৪৪। নিহত সদস্যদের পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর সঠিক তথ্য ও সান্ত্বনা না পাওয়ার কারণে তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, পুলিশ হত্যার ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি কম থাকায় পুলিশের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা ও সরকারের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, তারা বিভিন্ন আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা ছড়িয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতায় জামায়াত-শিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। সরকারের দাবি, এই সংগঠনগুলো হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি এবং উসকানির মাধ্যমে জড়িত ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সহিংসতা, জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এটি এক ভয়াবহ অধ্যায় যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন এবং বহিরাগত ষড়যন্ত্রের ছায়া জটিলভাবে মিশে আছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সার্বভৌমত্বের জন্য এটি গভীর সংকটের সূচনা করেছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ