বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক ও শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সূত্রমতে, এই চাঁদার পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পায়নি গ্রামের সাধারণ চায়ের দোকান, ভাঙাড়ির দোকান, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিংবা অটোরিকশাচালকরাও। একইসঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও ঠিকাদারদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত বিএনপি-জোট সরকারের আমলে ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক তারেক রহমানের যে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছিল, আজ যেন সেই পুরোনো ছায়াই নতুন নামে ও নতুন মোড়কে ফিরে আসছে। মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, রাজনীতির এই মৌলিক চরিত্র বদল না হলে সরকার বদলালেও সাধারণ মানুষের শোষণ কমবে না, কেবল শোষণের মুখগুলোই বদলাবে।
বর্তমানে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সমন্বয়ে গঠিত শাসনব্যবস্থা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এই দলগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় দেশজুড়ে যে চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ কর্মকাণ্ড চলছে, তার প্রধান শিকারে পরিণত হচ্ছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী।
দেশের অর্থনীতির বর্তমান চিত্র অত্যন্ত নাজুক। সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ এবং দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। সাধারণ মানুষ যখন একবেলা ভাতের জন্য হাহাকার করছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে, তখন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া দেশের বন্দরের লিজ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিকভাবে এই গোষ্ঠীগুলো এক ধরণের ‘পাকিস্তানপ্রেমী’ নীতি প্রচার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। জঙ্গিবাদকে পরোক্ষ উৎসাহ প্রদান, ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি এবং নারীর অধিকার হরণের মতো কর্মকাণ্ড দেশের সামাজিক সংহতি নষ্ট করছে। ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ঘৃণা ও অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে, যা দীর্ঘকালীন সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
জনসাধারণের মধ্যে এই ভয় কাজ করছে যে, একটি প্রহসনমূলক বা একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে যদি এই গোষ্ঠী পুনরায় ক্ষমতায় বসে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে। দারিদ্র্য, ভয় এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়ার পাশাপাশি দেশ এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের ঝুঁকির দিকে ধাবিত হতে পারে। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এখনই কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দখলদারদের নজরদারি করা, দুর্নীতি দমন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি রক্ষায় নাগরিক সমাজকেও সচেতন ও সক্রিয় থাকার বিকল্প নেই।

