Thursday, January 15, 2026

মাদ্রাসা নামের মৃত্যুর কারখানা: বিদেশি টাকায় জঙ্গিবাদের পুনর্জাগরণ

কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে একটি মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণ ঘটেছে। পুলিশ সেখান থেকে বিস্ফোরক আর বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনা নিয়ে যদি কেউ অবাক হয়ে থাকেন, তাহলে বুঝতে হবে তিনি গত দেড় বছরে বাংলাদেশে কী ঘটছে সে বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ। জুলাইয়ে যে দাঙ্গা বাঁধিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে, তার পুরো পরিকল্পনাই ছিল বিদেশি মদদপুষ্ট একটি অভ্যুত্থান। আর এই অভ্যুত্থানের পর থেকে যারা ক্ষমতায় বসে আছে, তারা জঙ্গিবাদকে কেবল প্রশ্রয়ই দিচ্ছে না, বরং প্রকাশ্যে পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

মুহাম্মদ ইউনুস নামের এই সুদখোর মহাজন যে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছেন, তার পেছনে রয়েছে বিদেশি শক্তির প্রত্যক্ষ সহায়তা। জুলাইয়ের সেই তথাকথিত গণঅভ্যুত্থান ছিল আসলে একটি পরিকল্পিত ক্যু। রাস্তায় যে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, যে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে, যেভাবে সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়েছে, সেসবই ছিল একটি সুপরিকল্পিত নীলনকশার অংশ। আর এই পুরো প্রকল্পে সামরিক বাহিনীর একাংশের নীরব সমর্থন ছিল, না হলে একটি নির্বাচিত সরকারকে এভাবে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হতো না।

এখন ক্ষমতায় এসে ইউনুস এবং তার দোসররা কী করছে? জামায়াতে ইসলামী নামের যুদ্ধাপরাধী সংগঠনটিকে তারা পুনর্বাসিত করছে। ১৯৭১ সালে যে সংগঠন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে মিলে গণহত্যা চালিয়েছিল, যাদের নেতারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলেছে, সেই সংগঠনকেই এখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে। জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি জঙ্গি সংগঠন যা রাজনীতির আবরণে কাজ করে। এদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করা।

হাসনাবাদের এই মাদ্রাসাটি ২০২২ সালে তৈরি হয়েছিল। মুফতি হারুন নামের এক ব্যক্তি এটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তিন বছরে এই জায়গাটি কীভাবে বোমা তৈরির কারখানায় পরিণত হলো? একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেখানে বিস্ফোরক পদার্থ আর বোমা তৈরির উপকরণ পাওয়া গেলে বুঝতে হবে এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আর এমন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে কেবল তখনই, যখন রাষ্ট্রযন্ত্র হয় অন্ধ থাকে, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে রাখে।

ইউনুসের অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ দেশজুড়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, মন্দির ভাঙা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বাড়িঘর লুটপাট করা হয়েছে। এসব কিছুই ঘটেছে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অধীনে। জামায়াত আর তার সহযোগী জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। আর ইউনুসের সরকার নীরব দর্শক হয়ে বসে আছে, কারণ এই জঙ্গিদের সমর্থন ছাড়া তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

বিদেশি টাকায় পরিচালিত এই পুরো প্রকল্পের লক্ষ্য স্পষ্ট। বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা, যেখানে গণতন্ত্র বলে কিছু থাকবে না, থাকবে কেবল মৌলবাদী শক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য। পশ্চিমা কিছু দেশ বাংলাদেশে একটি ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল বাংলাদেশ যেন ভারত থেকে দূরে সরে যায়, যেন এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমানো যায়। আর এই কাজে তাদের হাতিয়ার হয়েছে জামায়াতের মতো জঙ্গি সংগঠন আর ইউনুসের মতো সুবিধাবাদী ব্যক্তিত্ব।

মাদ্রাসায় বোমা তৈরি হচ্ছে, এটা নতুন কিছু নয়। ২০০৫ সালে যখন সারাদেশে একসাথে ৫০০ জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল, তখনও জামায়াত-বিএনপি জোট ক্ষমতায় ছিল। তখনও জঙ্গিরা রাষ্ট্রীয় মদদ পেয়েছিল। হলি আর্টিজান হামলার কথা কি ভুলে গেছি? যেখানে বিদেশি নাগরিকসহ নিরীহ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল? সেই হামলাকারীরাও কিন্তু মাদ্রাসা আর জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেই তৈরি হয়েছিল। এখন আবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

ইউনুস দাবি করেন তিনি শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছেন। কিন্তু শান্তির পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারেন? কীভাবে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে হাত মিলিয়ে দেশ চালাতে পারেন? এর উত্তর সহজ। নোবেল পুরস্কার কাউকে সৎ বা মানবিক বানায় না। ইউনুস তার গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে সুদ নিয়ে কোটিপতি হয়েছেন। তার ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি গরিবদের আরও গরিব বানিয়েছে। এমন একজন মানুষের কাছ থেকে নৈতিকতা আশা করাই বোকামি।

হাসনাবাদের এই ঘটনা একটি সতর্কসংকেত। এটি প্রমাণ করে যে জঙ্গিরা এখন আবার শক্তি সঞ্চয় করছে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে বোমা তৈরি করছে, তরুণদের মগজধোলাই করে জঙ্গিবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর এসবই হচ্ছে ইউনুস সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়। সামরিক বাহিনী, যারা এই অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে, তাদেরও এ বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ তারা জানে, জঙ্গিবাদ আর অস্থিতিশীলতা থাকলে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বজায় থাকবে।

জামায়াতে ইসলামী কখনোই একটি স্বাধীন বাংলাদেশ চায়নি। ১৯৭১ সালে তারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। আজও তাদের মনোভাব একই। তারা চায় বাংলাদেশ একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হোক, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোনো জায়গা থাকবে না। তারা চায় ১৯৭১ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে। আর সেই প্রতিশোধ নিতে তারা দেশকে আবার জঙ্গিবাদের অন্ধকারে ঠেলে দিতে চাইছে।

বিদেশি শক্তিরও এতে স্বার্থ রয়েছে। একটি অস্থিতিশীল বাংলাদেশ তাদের ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে সহায়ক। তারা চায় না বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী, স্বাধীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠুক। তারা চায় বাংলাদেশ সবসময় দুর্বল থাকুক, বিভক্ত থাকুক, যেন তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারে। আর সেই লক্ষ্য পূরণে জামায়াত আর ইউনুসের মতো মানুষেরা তাদের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ ঘটেছে, পাঁচজন আহত হয়েছে। ভাগ্য ভালো যে শিক্ষার্থীরা সেখানে ছিল না। নয়তো হয়তো শিশুদের লাশ গুনতে হতো। কিন্তু এই ঘটনার পর কি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে? মুফতি হারুন আর তার সহযোগীদের কি গ্রেফতার করা হবে? দেশজুড়ে কতশত এমন মাদ্রাসা আছে যেগুলোতে এই মুহূর্তে বোমা তৈরি হচ্ছে, তার হিসাব কি নেওয়া হবে? উত্তর হচ্ছে না। কারণ যারা এখন ক্ষমতায় আছে, তারাই এসব কাজের পৃষ্ঠপোষক।

এই দেশ একাত্তরে স্বাধীন হয়েছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে। লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সেই স্বাধীনতাকে এখন পদদলিত করা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করা হচ্ছে, জঙ্গিদের মদদ দেওয়া হচ্ছে, আর ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে। ইউনুস আর তার সহযোগীরা বাংলাদেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তারা বিদেশি মদদে ক্ষমতায় এসেছে আর দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

হাসনাবাদের ঘটনা একটি উদাহরণ মাত্র। এমন আরও কত জায়গায় কী হচ্ছে, তা কেউ জানে না। কিন্তু যেটা নিশ্চিত তা হলো, জঙ্গিবাদ এখন আবার মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। আর এই জঙ্গিবাদের পেছনে রয়েছে ইউনুস সরকার, জামায়াত, সামরিক বাহিনীর একাংশ আর বিদেশি মদদদাতারা। এরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে আবার ২০০৫ সালের অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। এদের থামানো না গেলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।

কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে একটি মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণ ঘটেছে। পুলিশ সেখান থেকে বিস্ফোরক আর বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনা নিয়ে যদি কেউ অবাক হয়ে থাকেন, তাহলে বুঝতে হবে তিনি গত দেড় বছরে বাংলাদেশে কী ঘটছে সে বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ। জুলাইয়ে যে দাঙ্গা বাঁধিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে, তার পুরো পরিকল্পনাই ছিল বিদেশি মদদপুষ্ট একটি অভ্যুত্থান। আর এই অভ্যুত্থানের পর থেকে যারা ক্ষমতায় বসে আছে, তারা জঙ্গিবাদকে কেবল প্রশ্রয়ই দিচ্ছে না, বরং প্রকাশ্যে পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

মুহাম্মদ ইউনুস নামের এই সুদখোর মহাজন যে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছেন, তার পেছনে রয়েছে বিদেশি শক্তির প্রত্যক্ষ সহায়তা। জুলাইয়ের সেই তথাকথিত গণঅভ্যুত্থান ছিল আসলে একটি পরিকল্পিত ক্যু। রাস্তায় যে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, যে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে, যেভাবে সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়েছে, সেসবই ছিল একটি সুপরিকল্পিত নীলনকশার অংশ। আর এই পুরো প্রকল্পে সামরিক বাহিনীর একাংশের নীরব সমর্থন ছিল, না হলে একটি নির্বাচিত সরকারকে এভাবে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হতো না।

এখন ক্ষমতায় এসে ইউনুস এবং তার দোসররা কী করছে? জামায়াতে ইসলামী নামের যুদ্ধাপরাধী সংগঠনটিকে তারা পুনর্বাসিত করছে। ১৯৭১ সালে যে সংগঠন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে মিলে গণহত্যা চালিয়েছিল, যাদের নেতারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলেছে, সেই সংগঠনকেই এখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে। জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি জঙ্গি সংগঠন যা রাজনীতির আবরণে কাজ করে। এদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করা।

হাসনাবাদের এই মাদ্রাসাটি ২০২২ সালে তৈরি হয়েছিল। মুফতি হারুন নামের এক ব্যক্তি এটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তিন বছরে এই জায়গাটি কীভাবে বোমা তৈরির কারখানায় পরিণত হলো? একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেখানে বিস্ফোরক পদার্থ আর বোমা তৈরির উপকরণ পাওয়া গেলে বুঝতে হবে এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আর এমন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে কেবল তখনই, যখন রাষ্ট্রযন্ত্র হয় অন্ধ থাকে, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে রাখে।

ইউনুসের অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ দেশজুড়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, মন্দির ভাঙা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বাড়িঘর লুটপাট করা হয়েছে। এসব কিছুই ঘটেছে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অধীনে। জামায়াত আর তার সহযোগী জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। আর ইউনুসের সরকার নীরব দর্শক হয়ে বসে আছে, কারণ এই জঙ্গিদের সমর্থন ছাড়া তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

বিদেশি টাকায় পরিচালিত এই পুরো প্রকল্পের লক্ষ্য স্পষ্ট। বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা, যেখানে গণতন্ত্র বলে কিছু থাকবে না, থাকবে কেবল মৌলবাদী শক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য। পশ্চিমা কিছু দেশ বাংলাদেশে একটি ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল বাংলাদেশ যেন ভারত থেকে দূরে সরে যায়, যেন এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমানো যায়। আর এই কাজে তাদের হাতিয়ার হয়েছে জামায়াতের মতো জঙ্গি সংগঠন আর ইউনুসের মতো সুবিধাবাদী ব্যক্তিত্ব।

মাদ্রাসায় বোমা তৈরি হচ্ছে, এটা নতুন কিছু নয়। ২০০৫ সালে যখন সারাদেশে একসাথে ৫০০ জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল, তখনও জামায়াত-বিএনপি জোট ক্ষমতায় ছিল। তখনও জঙ্গিরা রাষ্ট্রীয় মদদ পেয়েছিল। হলি আর্টিজান হামলার কথা কি ভুলে গেছি? যেখানে বিদেশি নাগরিকসহ নিরীহ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল? সেই হামলাকারীরাও কিন্তু মাদ্রাসা আর জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেই তৈরি হয়েছিল। এখন আবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

ইউনুস দাবি করেন তিনি শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছেন। কিন্তু শান্তির পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারেন? কীভাবে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে হাত মিলিয়ে দেশ চালাতে পারেন? এর উত্তর সহজ। নোবেল পুরস্কার কাউকে সৎ বা মানবিক বানায় না। ইউনুস তার গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে সুদ নিয়ে কোটিপতি হয়েছেন। তার ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি গরিবদের আরও গরিব বানিয়েছে। এমন একজন মানুষের কাছ থেকে নৈতিকতা আশা করাই বোকামি।

হাসনাবাদের এই ঘটনা একটি সতর্কসংকেত। এটি প্রমাণ করে যে জঙ্গিরা এখন আবার শক্তি সঞ্চয় করছে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে বোমা তৈরি করছে, তরুণদের মগজধোলাই করে জঙ্গিবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর এসবই হচ্ছে ইউনুস সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়। সামরিক বাহিনী, যারা এই অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে, তাদেরও এ বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ তারা জানে, জঙ্গিবাদ আর অস্থিতিশীলতা থাকলে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বজায় থাকবে।

জামায়াতে ইসলামী কখনোই একটি স্বাধীন বাংলাদেশ চায়নি। ১৯৭১ সালে তারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। আজও তাদের মনোভাব একই। তারা চায় বাংলাদেশ একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হোক, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোনো জায়গা থাকবে না। তারা চায় ১৯৭১ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে। আর সেই প্রতিশোধ নিতে তারা দেশকে আবার জঙ্গিবাদের অন্ধকারে ঠেলে দিতে চাইছে।

বিদেশি শক্তিরও এতে স্বার্থ রয়েছে। একটি অস্থিতিশীল বাংলাদেশ তাদের ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে সহায়ক। তারা চায় না বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী, স্বাধীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠুক। তারা চায় বাংলাদেশ সবসময় দুর্বল থাকুক, বিভক্ত থাকুক, যেন তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারে। আর সেই লক্ষ্য পূরণে জামায়াত আর ইউনুসের মতো মানুষেরা তাদের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ ঘটেছে, পাঁচজন আহত হয়েছে। ভাগ্য ভালো যে শিক্ষার্থীরা সেখানে ছিল না। নয়তো হয়তো শিশুদের লাশ গুনতে হতো। কিন্তু এই ঘটনার পর কি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে? মুফতি হারুন আর তার সহযোগীদের কি গ্রেফতার করা হবে? দেশজুড়ে কতশত এমন মাদ্রাসা আছে যেগুলোতে এই মুহূর্তে বোমা তৈরি হচ্ছে, তার হিসাব কি নেওয়া হবে? উত্তর হচ্ছে না। কারণ যারা এখন ক্ষমতায় আছে, তারাই এসব কাজের পৃষ্ঠপোষক।

এই দেশ একাত্তরে স্বাধীন হয়েছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে। লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সেই স্বাধীনতাকে এখন পদদলিত করা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করা হচ্ছে, জঙ্গিদের মদদ দেওয়া হচ্ছে, আর ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে। ইউনুস আর তার সহযোগীরা বাংলাদেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তারা বিদেশি মদদে ক্ষমতায় এসেছে আর দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

হাসনাবাদের ঘটনা একটি উদাহরণ মাত্র। এমন আরও কত জায়গায় কী হচ্ছে, তা কেউ জানে না। কিন্তু যেটা নিশ্চিত তা হলো, জঙ্গিবাদ এখন আবার মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। আর এই জঙ্গিবাদের পেছনে রয়েছে ইউনুস সরকার, জামায়াত, সামরিক বাহিনীর একাংশ আর বিদেশি মদদদাতারা। এরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে আবার ২০০৫ সালের অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। এদের থামানো না গেলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ