আজকের বাংলাদেশে রাষ্ট্রের অবস্থান আর গোপন নেই। রাজাকার-উত্তরাধিকারী শিবিরের নেতা ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। সরকারিভাবে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। অথচ একই সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মজিদ হুমায়ন— িযাঁর অবদানে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ ও একটি মানচিত্র—চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন। এই বৈপরীত্য কোনো কাকতাল নয়; এটি আজকের রাষ্ট্রনীতির নির্মম প্রতিচ্ছবি।
এই বৈষম্য কেবল ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, এটি আদর্শিক ও রাজনৈতিক। এটি স্পষ্ট করে দেয়—রাষ্ট্রক্ষমতা আজ কাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। যাঁরা একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারদের সহযোগিতা করেছে, গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে—আজ তারাই পাচ্ছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, বিশেষ চিকিৎসা ও সহানুভূতি। আর যাঁরা জীবন বাজি রেখে দেশকে মুক্ত করেছিলেন, তাঁদের আজ দেখা হচ্ছে সন্দেহের চোখে—প্রায় রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মজিদ হুমায়নের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় অবহেলার ফল—এক ধরনের নীরব হত্যাকাণ্ড। এই মৃত্যু একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করে: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজ ক্ষমতার কাছে অপ্রয়োজনীয়, বরং অস্বস্তিকর। তাই মুক্তিযোদ্ধারা আজ অবহেলিত, অপমানিত ও অসহায়।
একটি রাষ্ট্র যখন তার জন্মদাতাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই রাষ্ট্রের নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। যে সরকার স্বাধীনতাবিরোধীদের আগলে রাখে আর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়, সে সরকার ইতিহাসের কাঠগড়ায় অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত হবে।
এই দিনে আমাদের মনে পড়ে বর্বর পাকিস্তানি ঘাতক বাহিনীর এদেশীয় দোসর হানাদার রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর উত্তরাধিকারীদের হাতে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে নিহত জাতীয় বীর শহীদ দীপু দাস, শহীদ তোফাজ্জল, শহীদ মাসুদসহ হাজার হাজার বীর শহীদের কথা। জনগণের বিশ্বাস, অবৈধ ইউনুস সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদেই এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
এই দেশ কোনো রাজাকার বা স্বাধীনতাবিরোধীর দানে পাওয়া নয়। এ দেশ লাখো শহীদের রক্তে কেনা। যারা সেই ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়, তারা আসলে বাংলাদেশের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে।

