ঢাকার রাস্তায় আগুন জ্বলছে, সংবাদপত্র অফিসে ভাঙচুর হচ্ছে, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লুট হচ্ছে। আর এসবের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে একটি অবৈধ সরকার, যার জন্মই হয়েছিল রক্ত আর নৈরাজ্যের ভিত্তিতে। মুহাম্মদ ইউনুস আর তার পৃষ্ঠপোষক সেনাপ্রধান ওয়াকার এখন দেখাচ্ছেন যে তারা যে দেশ শাসন করছেন, সেই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আসলে কাগজে কলমেই আছে।
যে মানুষগুলো গত বছর জুলাই মাসে হাজার হাজার তরুণকে রাস্তায় নামিয়ে, বিদেশি অর্থায়ন আর ইসলামি জঙ্গিদের সাহায্য নিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছিল, তারা এখন নিজেরাই নৈরাজ্যের শিকার হওয়ার ভয়ে দিশেহারা। কিন্তু এটা তো তাদেরই সৃষ্টি করা পরিস্থিতি। যখন আপনি সংবিধান লঙ্ঘন করে, বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় আসবেন, তখন সেই বন্দুকধারীরাই একদিন আপনার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াবে। এটাই তো স্বাভাবিক।
ইউনুসের এই তথাকথিত সরকারের কাছে দেশের মানুষ জানতে চায়, ফেসবুকে আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে যখন হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, তখন আপনাদের গোয়েন্দা সংস্থা কী করছিল? নাকি তারা ব্যস্ত ছিল বিরোধী কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখতে? প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদীচী – এগুলো কোনো গোপন ঠিকানায় নেই। এগুলো ঢাকার একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত। থানা পাশেই। পুলিশ টহল নিয়মিত। তারপরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলল তাণ্ডব, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল নিরব দর্শক।
এই যে ব্যর্থতা, এটা কি শুধুই অদক্ষতা? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো হিসাব আছে? যখন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফায়জুল কবির খান বলেন যে তাদের কাছে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল না, তখন মনে হয় এটা হাস্যকর নাকি ভয়াবহ। সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন সবাই দেখতে পাচ্ছে হামলার ঘোষণা, তখন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা অন্ধ হয়ে গিয়েছিল? নাকি তারা জেনেশুনে চোখ বন্ধ রেখেছিল?
সেনাপ্রধান ওয়াকার, যিনি এই অবৈধ সরকারের মেরুদণ্ড, তার ভূমিকা এখানে প্রশ্নবিদ্ধ। একটি দেশের সেনাবাহিনী যখন রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে, যখন তারা একটি নির্বাচিত সরকারের পতনে সহায়তা করে, তখন তারা নিজেরাই রাজনৈতিক খেলোয়াড় হয়ে যায়। আর রাজনৈতিক খেলোয়াড় হলে নিরপেক্ষতা থাকে না। ওয়াকার কি আসলেই চান যে এই অস্থিরতা দমন হোক? নাকি এই অস্থিরতাই তার ক্ষমতার উৎস?
ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে যে নাটক হলো, সেটাও লজ্জাজনক। একজন খুনি, চাঁদাবাজ, যাকে জুলাই দাঙ্গায় হাজারো মানুষের রক্তের দায় নিতে হবে, তাকে জাতীয় বীর বানিয়ে সরকারি খরচে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা দেওয়া হলো। আর তার মৃত্যুর পর শুরু হলো আরেক দফা সহিংসতা। এটা কি পরিকল্পিত? ইউনুস আর তার দলবল কি চেয়েছিল এই অস্থিরতা, যাতে তারা নির্বাচন আরও পিছিয়ে দিতে পারে?
যে সরকার নিজেই বেআইনিভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে কীভাবে? ইউনুস একজন ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, সুদের ব্যবসায়ী। তিনি কখনো প্রশাসন চালাননি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করেননি। তার সারা জীবনের কাজ ছিল গরিব মানুষের কাছ থেকে উচ্চ সুদে টাকা নেওয়া আর নিজেকে দরিদ্র বান্ধব হিসেবে জাহির করা। এখন দেশ চালাতে গিয়ে তিনি প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে তার কোনো যোগ্যতাই নেই।
আর সেনাবাহিনী? তারা তো ভেবেছিল সব ঠিকঠাক থাকবে। একটা পুতুল সরকার বসিয়ে দেশ চালাবে পর্দার আড়াল থেকে। কিন্তু তারা যে দানব জাগিয়ে তুলেছে, সেই দানব এখন তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। জুলাইয়ে যে সব জঙ্গি গোষ্ঠীকে তারা ব্যবহার করেছিল, সেই গোষ্ঠীগুলো এখন নিজেদের দাবি আদায়ে মাঠে নামছে। আর সেনাবাহিনী তাকিয়ে দেখছে, কারণ তারা জানে যে এদের দমন করতে গেলে নিজেদের ভূমিকাই প্রকাশ হয়ে যাবে।
নূরুল হুদা বলেছেন এটা পুলিশের শিথিলতা। ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেছেন এটা নেতৃত্বের ব্যর্থতা। কিন্তু আসল সত্য হলো এটা একটা অবৈধ সরকারের স্বাভাবিক পরিণতি। যে সরকারের নৈতিক ভিত্তি নেই, যাদের ক্ষমতার উৎস জনগণের ভোট নয় বরং বিদেশি মদদ আর সামরিক শক্তি, তারা কখনো দেশের নিরাপত্তা দিতে পারে না।
এখন প্রশ্ন হলো, এই অবৈধ সরকার কতদিন টিকবে? ইউনুস আর ওয়াকার কি ভাবছেন যে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে দু’চারটা অফিস ঘিরে রাখলেই কাজ হবে? দেশের মানুষ কি ভুলে যাবে যে গত বছর কীভাবে তাদের নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল? কীভাবে হাজারো তরুণের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল? আর সেই রক্তের দায়ে এখন তারা নিজেরাই অস্থির।
যে দেশে আগাম ঘোষণা দিয়ে হামলা হয়, যেখানে পুলিশ জনবল সংকটের অজুহাত দেয়, যেখানে গোয়েন্দা সংস্থা অন্ধ হয়ে যায়, সেই দেশের ভবিষ্যৎ কী? ইউনুস আর ওয়াকার কি একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন? নাকি তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য এই নৈরাজ্যকে বাঁচিয়ে রাখবেন, যাতে তাদের ক্ষমতা টিকে থাকে?
দেশের মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে জুলাইয়ের সেই তথাকথিত গণঅভ্যুত্থান আসলে একটা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল। আর সেই ষড়যন্ত্রের ফসল হলো এই অবৈধ সরকার, যারা দেশকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিদিন যা ঘটছে, তাতে স্পষ্ট হচ্ছে যে ইউনুস আর ওয়াকার দেশ চালানোর যোগ্য নন। তারা শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন, দেশের কল্যাণ তাদের উদ্দেশ্য নয়।

