ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় তার হত্যাকণ্ডের বিচার নিয়ে কোনো বাক্য উচ্চারণ করেননি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সূত্র বলছে, এ হত্যাকাণ্ডে জামায়াত জড়িত থাকার ভালোভাবেই জানেন ইউনূস। আর এ জন্যই শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান শরীফ হাদির জানাজায় ইউনূস তার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে কিছুই বলেননি।
জানা গেছে, মুহাম্মদ ইউনূসের প্রিয় দল দেশবিরোধী জামায়াত। আর এ কথা তিনি নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওসমান হাদিকে জামায়াতের নির্দেশ হত্যা করা হয়েছে।
সূত্র বলছে, গত মাসের শেষের দিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ারের ছেলে সালমান উসমান হাদির সঙ্গে তার হত্যাকারীর পরিচয় করিয়ে দেন ।
তখন ওসমান হাদিকে আশ্বস্ত করা হয়, ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি তার পরিচালনা ও ক্যাম্পেইনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে এই পরিচয় হওয়ায় হাদির মনে তেমন কোনো সন্দেহ তৈরি হয়নি। হাদির আসল খুনি শিবিরের এই ঘাতকরা। হাদির লাশ নিয়ে রাজনীতি করে তারা সাদেক কায়েমকে ওই আসনে নির্বাচিত করতে চায় ।
গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, হামলাকারী শ্যুটারের সঙ্গে সাদিক কায়েমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। পুরো ঘটনার পেছনে জামায়াতের সুপরিকল্পিত ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে সবচেয়ে বিতর্কিত হয় ডাকসুর সাবেক ভিপি ও জামায়াত-ঘনিষ্ঠ ছাত্রনেতা আবু সাদিক কায়েমের ফেসবুক পোস্ট। হামলার মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে তার ভেরিফায়েড পেজে প্রথম পোস্টে তিনি লেখেন: “ওসমান হাদিকে গুলি করা হলো। চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টারদের কবল থেকে ঢাকা সিটিকে মুক্ত করতে অচিরেই আমাদের অভ্যুত্থান শুরু হবে। রাজধানীর ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এই পোস্টে হাদির সুস্থতা কামনা বা সহানুভূতির কোনো কথা না থেকে সরাসরি ‘অভ্যুত্থান’-এর হুমকি দেওয়ায় তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘণ্টা দুয়েক পর দ্বিতীয় পোস্টে তিনি ঘটনার দায় আবারও বিএনপির ওপর চাপান।
গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, পুরো ঘটনার পেছনে জামায়াতের সুপরিকল্পিত ভূমিকা রয়েছে। ঢাকা-৮ আসনটি রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে বছরে আনুমানিক ৪৫০ থেকে ৫৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক প্রবাহ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস হলেও, জামায়াত এবার পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় এবং সে লক্ষ্যেই সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা ও এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়াতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করছে, নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ছে। দলগুলোর মতে, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

