বাংলাদেশের লাল-সবুজের ওপর অন্য কোনো প্রতীক বসানো মানে সরাসরি রাষ্ট্র, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। সেখানে বাংলাদেশের পতাকার উপরে একটি ভিন্ন প্রতীকের পতাকা উঁচিয়ে ধরা হয়েছে—যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় প্রতীক অবমাননার শামিল।
ওসমান হাদির মৃত্যুর সঙ্গে ধানমন্ডি-৩২-এর সম্পর্ক কী—এই মৌলিক প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়েই ইতিহাসের প্রতীক ভাঙার স্পর্ধা আসে কোথা থেকে? কারণ একটাই—এটা কোনো আবেগের বিস্ফোরণ নয়, এটি সংগঠিত উগ্রপন্থি জামায়াতি নেটওয়ার্কের পরিকল্পিত আক্রমণ। উদ্দেশ্য পরিষ্কার: শুধু স্থাপনা ধ্বংস নয়, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন মুছে ফেলা, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিশ্চিহ্ন করা এবং জাতীয় পতাকাকে প্রকাশ্যে অপমান করা।
ধানমন্ডি-৩২ ভাঙতে যারা এসেছে, তারা কারা? তারা কি সাধারণ মানুষ, নাকি রাষ্ট্রবিরোধী আদর্শে দীক্ষিত সেই শক্তি—যারা ১৯৭১ সালে পরাজিত হয়েছিল, কিন্তু আজ নতুন মুখোশ পরে ফিরে এসেছে? জাতীয় পতাকার ওপর অন্য পতাকা উত্তোলনের এই দুঃসাহস কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রতীকী দখলদারির ঘোষণা।
এটি কেবল ভাঙচুর নয়, এটি ইতিহাসে আঘাত, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার এবং সংবিধানকে পদদলিত করার নগ্ন প্রদর্শনী। রাষ্ট্রের পতাকার ওপরে কালেমা লেখা পতাকা বসানো মানে স্পষ্ট বার্তা— এটা জামায়াতি উগ্রপন্থার রাষ্ট্র দখলের মহড়া।

