Monday, December 1, 2025

এক এক্সপ্রেসওয়ে থেকেই ১০ হাজার কোটি টাকা লোপাট করছে ইউনুস

মুহাম্মদ ইউনূস ও তার তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার সময় বড় বড় কথা বলেছিল। বলেছিল মেগাপ্রকল্পগুলোর অপচয় বন্ধ করবে, খরচ কমাবে, জনগণের টাকার হিসাব রক্ষা করবে। কিন্তু বাস্তবে কী হচ্ছে? ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এখন হবে ২৮ হাজার কোটি টাকার। এই হলো ব্যয় সংকোচনের নমুনা!

যে সরকার বৈধতার প্রশ্নে জর্জরিত, যে সরকার কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছাড়াই ক্ষমতায় বসেছে, সেই সরকার কীভাবে এত বড় একটা আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে? ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সারাদেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল, সেই ঘটনার পেছনে যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল, তা আর কারও অজানা নেই। বিদেশি শক্তির মদদে, জঙ্গি গোষ্ঠীর সহায়তায় এবং সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থনে যে ক্যু সংঘটিত হয়েছিল, তার ফলাফল হিসেবে আজ দেশ চলছে একটি অবৈধ সরকারের অধীনে।

ইউনূস সরকারের এই সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক অদক্ষতার প্রমাণ নয়, এটি জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাও বটে। নকশা পরিবর্তন, ডলারের দাম বৃদ্ধি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, নতুন কর-শুল্ক যোগ হওয়া ইত্যাদি যে কারণগুলো দেখানো হচ্ছে, সেগুলো কতটা বাস্তবসম্মত? ডলারের দাম যে বাড়বে, নির্মাণসামগ্রীর দাম যে বাড়তে পারে, এগুলো তো প্রকল্প পরিকল্পনার সময়ই হিসাবে রাখার কথা। কিন্তু না, সেই হিসাব রাখা হয়নি। আর এখন সেই ফাঁক দিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচ চাপানো হচ্ছে জনগণের ঘাড়ে।

প্রকল্পটি তো পিপিপি মডেলে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মূল উদ্দেশ্যই হলো সরকারের আর্থিক বোঝা কমানো এবং বেসরকারি খাতের দক্ষতা কাজে লাগানো। কিন্তু এখন যদি সরকারকেই পুরো বাড়তি ব্যয় বহন করতে হয়, তাহলে পিপিপি মডেলের মানে কী? এটা তো হয়ে গেল সরকারি প্রকল্পই। আর যদি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাড়তি অর্থ দেয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই তারা লভ্যাংশের হার বাড়ানোর দাবি জানাবে। ফলে শেষ পর্যন্ত জনগণই সেই খেসারত দেবে টোল বৃদ্ধির মাধ্যমে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন, তা খুবই স্পষ্ট। বুয়েটের অধ্যাপক শামছুল হক বলেছেন যে পিপিপি মডেলে ব্যয় বাড়ার কোনো কারণ নেই। সরকারের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়াটা পিপিপির মূল ধারণার সাথেই সাংঘর্ষিক। কিন্তু ইউনূস সরকার কি সেই কথা শুনছে? না, তারা শুনছে চীনের এক্সিম ব্যাংকের কথা, যারা এই বাড়তি ব্যয়ে সম্মতি দিয়েছে। কেন দিয়েছে? কারণ তাদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ নয়।

প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন আছে। বলা হচ্ছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে শুরুতে কথা ছিল ২০২৬ সালের জুনে কাজ শেষ হবে। মানে আরও দেরি হচ্ছে। আর এক্সিম ব্যাংকের ৯ হাজার ৬৯২ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদিত হলেও এখনও অর্থ ছাড় হয়নি। এত কিছুর পরও কীভাবে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব আসছে?

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেছেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন কর-শুল্কের কারণে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে আর নতুন নকশা সংযোজনের কারণে বাড়ছে আরও তিন হাজার কোটি টাকা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই নতুন নকশা সংযোজনের দরকার হলো কেন? তুরাগ নদকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নৌপথ হিসেবে পুনর্বিন্যাস করার পর সেতুর উচ্চতা ও স্প্যান বাড়াতে হয়েছে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু এই পরিকল্পনা তো শুরুতেই থাকা উচিত ছিল। এখন এসে এই পরিবর্তন আনার মানে কী?

ইউনূস সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। তারা জানে যে তাদের কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই, তাই জনগণের কাছে তাদের জবাব দেওয়ার প্রয়োজনও নেই। তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। আর এই সুযোগে দেশের টাকা লুটপাটের কোনো সুযোগই তারা ছাড়ছে না। এই এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি তার একটা উজ্জ্বল উদাহরণ।

জনগণের ট্যাক্সের টাকা, জনগণের সম্পদ এভাবে অপচয় করা হচ্ছে। আর এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ নেই, কোনো জবাবদিহিতা নেই। কারণ এই সরকার এসেছেই অবৈধভাবে, ক্যু করে। তাদের লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা দখল করা, আর এখন সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের এবং তাদের মদদদাতাদের স্বার্থ হাসিল করা। দেশের উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ, এগুলো তাদের কাছে মুখ্য নয়।

এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ কী করবে? তারা তো শুধু দেখে যেতে পারে কীভাবে তাদের টাকা লুট হচ্ছে। অবৈধ এই সরকারের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়ার কোনো পথ খোলা নেই। গণতান্ত্রিক পথ বন্ধ করে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কাছ থেকে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা আশা করাই বৃথা।

মুহাম্মদ ইউনূস ও তার তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার সময় বড় বড় কথা বলেছিল। বলেছিল মেগাপ্রকল্পগুলোর অপচয় বন্ধ করবে, খরচ কমাবে, জনগণের টাকার হিসাব রক্ষা করবে। কিন্তু বাস্তবে কী হচ্ছে? ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এখন হবে ২৮ হাজার কোটি টাকার। এই হলো ব্যয় সংকোচনের নমুনা!

যে সরকার বৈধতার প্রশ্নে জর্জরিত, যে সরকার কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছাড়াই ক্ষমতায় বসেছে, সেই সরকার কীভাবে এত বড় একটা আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে? ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সারাদেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল, সেই ঘটনার পেছনে যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল, তা আর কারও অজানা নেই। বিদেশি শক্তির মদদে, জঙ্গি গোষ্ঠীর সহায়তায় এবং সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থনে যে ক্যু সংঘটিত হয়েছিল, তার ফলাফল হিসেবে আজ দেশ চলছে একটি অবৈধ সরকারের অধীনে।

ইউনূস সরকারের এই সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক অদক্ষতার প্রমাণ নয়, এটি জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাও বটে। নকশা পরিবর্তন, ডলারের দাম বৃদ্ধি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, নতুন কর-শুল্ক যোগ হওয়া ইত্যাদি যে কারণগুলো দেখানো হচ্ছে, সেগুলো কতটা বাস্তবসম্মত? ডলারের দাম যে বাড়বে, নির্মাণসামগ্রীর দাম যে বাড়তে পারে, এগুলো তো প্রকল্প পরিকল্পনার সময়ই হিসাবে রাখার কথা। কিন্তু না, সেই হিসাব রাখা হয়নি। আর এখন সেই ফাঁক দিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচ চাপানো হচ্ছে জনগণের ঘাড়ে।

প্রকল্পটি তো পিপিপি মডেলে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মূল উদ্দেশ্যই হলো সরকারের আর্থিক বোঝা কমানো এবং বেসরকারি খাতের দক্ষতা কাজে লাগানো। কিন্তু এখন যদি সরকারকেই পুরো বাড়তি ব্যয় বহন করতে হয়, তাহলে পিপিপি মডেলের মানে কী? এটা তো হয়ে গেল সরকারি প্রকল্পই। আর যদি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাড়তি অর্থ দেয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই তারা লভ্যাংশের হার বাড়ানোর দাবি জানাবে। ফলে শেষ পর্যন্ত জনগণই সেই খেসারত দেবে টোল বৃদ্ধির মাধ্যমে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন, তা খুবই স্পষ্ট। বুয়েটের অধ্যাপক শামছুল হক বলেছেন যে পিপিপি মডেলে ব্যয় বাড়ার কোনো কারণ নেই। সরকারের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়াটা পিপিপির মূল ধারণার সাথেই সাংঘর্ষিক। কিন্তু ইউনূস সরকার কি সেই কথা শুনছে? না, তারা শুনছে চীনের এক্সিম ব্যাংকের কথা, যারা এই বাড়তি ব্যয়ে সম্মতি দিয়েছে। কেন দিয়েছে? কারণ তাদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ নয়।

প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন আছে। বলা হচ্ছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে শুরুতে কথা ছিল ২০২৬ সালের জুনে কাজ শেষ হবে। মানে আরও দেরি হচ্ছে। আর এক্সিম ব্যাংকের ৯ হাজার ৬৯২ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদিত হলেও এখনও অর্থ ছাড় হয়নি। এত কিছুর পরও কীভাবে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব আসছে?

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেছেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন কর-শুল্কের কারণে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে আর নতুন নকশা সংযোজনের কারণে বাড়ছে আরও তিন হাজার কোটি টাকা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই নতুন নকশা সংযোজনের দরকার হলো কেন? তুরাগ নদকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নৌপথ হিসেবে পুনর্বিন্যাস করার পর সেতুর উচ্চতা ও স্প্যান বাড়াতে হয়েছে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু এই পরিকল্পনা তো শুরুতেই থাকা উচিত ছিল। এখন এসে এই পরিবর্তন আনার মানে কী?

ইউনূস সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। তারা জানে যে তাদের কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই, তাই জনগণের কাছে তাদের জবাব দেওয়ার প্রয়োজনও নেই। তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। আর এই সুযোগে দেশের টাকা লুটপাটের কোনো সুযোগই তারা ছাড়ছে না। এই এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি তার একটা উজ্জ্বল উদাহরণ।

জনগণের ট্যাক্সের টাকা, জনগণের সম্পদ এভাবে অপচয় করা হচ্ছে। আর এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ নেই, কোনো জবাবদিহিতা নেই। কারণ এই সরকার এসেছেই অবৈধভাবে, ক্যু করে। তাদের লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা দখল করা, আর এখন সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের এবং তাদের মদদদাতাদের স্বার্থ হাসিল করা। দেশের উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ, এগুলো তাদের কাছে মুখ্য নয়।

এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ কী করবে? তারা তো শুধু দেখে যেতে পারে কীভাবে তাদের টাকা লুট হচ্ছে। অবৈধ এই সরকারের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়ার কোনো পথ খোলা নেই। গণতান্ত্রিক পথ বন্ধ করে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কাছ থেকে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা আশা করাই বৃথা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ