Monday, December 1, 2025

চাঁদাবাজির রাজত্বে নিঃশব্দ মৃত্যু ঘটছে দেশের শিল্পের

দেড় বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের শিল্প-কারখানায় যে ভয়াবহ চাঁদাবাজির চিত্র সামনে এসেছে, তা কেবল উদ্বেগজনক নয়, স্পষ্ট প্রমাণ যে এই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে যেভাবে দেশের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল, তার পরিণতি এখন ভোগ করছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও শিল্পমালিকরা।

মিরপুরের একটি পোশাক কারখানার মালিক প্রতি মাসে চার লাখ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলছেন, কাজ কম থাকলেও চাঁদার পরিমাণ কমে না। পুলিশের কাছে অভিযোগ করে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। এই যে চরম অসহায়ত্ব, এটাই বর্তমান সরকারের শাসনব্যবস্থার আসল চেহারা। যে সরকার তথাকথিত গণআন্দোলনের নামে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকারের আমলেই সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সবচেয়ে বেশি।

চাঁদাবাজির এই সংস্কৃতি নতুন নয়, কিন্তু যেটা নতুন তা হলো এর ব্যাপকতা আর প্রকাশ্যতা। রাজধানী ও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই চাঁদাবাজি এখন নিয়মিত ব্যবসায়িক লেনদেনের মতো চলছে। প্রতিদিন রাজধানীতে ১২৮টি বড় ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে বলে ক্রাইম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে বেশিরভাগ ভুক্তভোগী এসব ঘটনা প্রকাশই করতে চান না। এই যে ভয়ের সংস্কৃতি, এটা কি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষণ?

যে সরকার সংস্কারের গল্প বলে ক্ষমতায় এসেছিল, সেই সরকারের আমলে চাঁদাবাজরা রাজনৈতিক পরিচয়ে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাভার-আশুলিয়ার কারখানামালিকরা জানাচ্ছেন, চাঁদা না দিতে চাইলে তাদের ফ্যাসিস্ট তকমা দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা কেমন বিচার ব্যবস্থা যেখানে ভুক্তভোগী নিজেই অভিযুক্ত হয়ে যান? যে সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কথা বলে, সেই সরকারের আমলে মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না।

ড. ইউনূস ও তার সহযোগীদের কাছে প্রশ্ন, এই কি ছিল তাদের পরিকল্পনা? একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে কি শুধু চাঁদাবাজ আর সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হবে? দেশের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস শিল্পে যখন এমন অরাজকতা চলছে, তখন সরকারের নীরবতা আসলে তাদের অক্ষমতারই প্রমাণ।

পরিবহন খাতেও একই চিত্র। গার্মেন্টস পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় হচ্ছে। কারখানার ঝুট বিক্রির ওপরেও নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে চাঁদাবাজদের হাতে। বাজার দরের অর্ধেক দামে ঝুট বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে মালিকদের। এসব কিছুই ঘটছে একটি তথাকথিত সংস্কার সরকারের নাকের ডগায়।

সাভার ট্র্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জানাচ্ছেন, চাঁদার দাবিতে একজন ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আশুলিয়া থানার ওসি বলছেন জিরো টলারেন্স নীতির কথা। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে গেলে মামলাই নেওয়া হচ্ছে না। এটা কি শুধুই অদক্ষতা, নাকি ইচ্ছাকৃত উদাসীনতা?

যে সরকার বিদেশি সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কাছে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা এখন স্পষ্ট। মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় এই সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। যে শিল্পখাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, সেখানে চাঁদাবাজির এই দৌরাত্ম্য কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ণ করছে।

দেড় বছর পরও যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সামনে আরো কত বড় আজাব অপেক্ষা করছে আমদের জন্য? বিনিয়োগকারীরা কি এমন পরিবেশে টিকে থাকতে পারবেন? নাকি ধীরে ধীরে দেশ ছেড়ে চলে যাবেন? দেশের শিল্প-কারখানার মালিকরা যখন অসহায়ভাবে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন, তখন সংস্কারের সব বুলি মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে। এটা স্পষ্ট যে এই সরকারের কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কোনো পরিকল্পনা নেই, নেই কোনো সদিচ্ছাও।

দেড় বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের শিল্প-কারখানায় যে ভয়াবহ চাঁদাবাজির চিত্র সামনে এসেছে, তা কেবল উদ্বেগজনক নয়, স্পষ্ট প্রমাণ যে এই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে যেভাবে দেশের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল, তার পরিণতি এখন ভোগ করছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও শিল্পমালিকরা।

মিরপুরের একটি পোশাক কারখানার মালিক প্রতি মাসে চার লাখ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলছেন, কাজ কম থাকলেও চাঁদার পরিমাণ কমে না। পুলিশের কাছে অভিযোগ করে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। এই যে চরম অসহায়ত্ব, এটাই বর্তমান সরকারের শাসনব্যবস্থার আসল চেহারা। যে সরকার তথাকথিত গণআন্দোলনের নামে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকারের আমলেই সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সবচেয়ে বেশি।

চাঁদাবাজির এই সংস্কৃতি নতুন নয়, কিন্তু যেটা নতুন তা হলো এর ব্যাপকতা আর প্রকাশ্যতা। রাজধানী ও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই চাঁদাবাজি এখন নিয়মিত ব্যবসায়িক লেনদেনের মতো চলছে। প্রতিদিন রাজধানীতে ১২৮টি বড় ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে বলে ক্রাইম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে বেশিরভাগ ভুক্তভোগী এসব ঘটনা প্রকাশই করতে চান না। এই যে ভয়ের সংস্কৃতি, এটা কি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষণ?

যে সরকার সংস্কারের গল্প বলে ক্ষমতায় এসেছিল, সেই সরকারের আমলে চাঁদাবাজরা রাজনৈতিক পরিচয়ে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাভার-আশুলিয়ার কারখানামালিকরা জানাচ্ছেন, চাঁদা না দিতে চাইলে তাদের ফ্যাসিস্ট তকমা দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা কেমন বিচার ব্যবস্থা যেখানে ভুক্তভোগী নিজেই অভিযুক্ত হয়ে যান? যে সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কথা বলে, সেই সরকারের আমলে মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না।

ড. ইউনূস ও তার সহযোগীদের কাছে প্রশ্ন, এই কি ছিল তাদের পরিকল্পনা? একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে কি শুধু চাঁদাবাজ আর সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হবে? দেশের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস শিল্পে যখন এমন অরাজকতা চলছে, তখন সরকারের নীরবতা আসলে তাদের অক্ষমতারই প্রমাণ।

পরিবহন খাতেও একই চিত্র। গার্মেন্টস পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় হচ্ছে। কারখানার ঝুট বিক্রির ওপরেও নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে চাঁদাবাজদের হাতে। বাজার দরের অর্ধেক দামে ঝুট বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে মালিকদের। এসব কিছুই ঘটছে একটি তথাকথিত সংস্কার সরকারের নাকের ডগায়।

সাভার ট্র্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জানাচ্ছেন, চাঁদার দাবিতে একজন ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আশুলিয়া থানার ওসি বলছেন জিরো টলারেন্স নীতির কথা। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে গেলে মামলাই নেওয়া হচ্ছে না। এটা কি শুধুই অদক্ষতা, নাকি ইচ্ছাকৃত উদাসীনতা?

যে সরকার বিদেশি সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কাছে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা এখন স্পষ্ট। মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় এই সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। যে শিল্পখাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, সেখানে চাঁদাবাজির এই দৌরাত্ম্য কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ণ করছে।

দেড় বছর পরও যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সামনে আরো কত বড় আজাব অপেক্ষা করছে আমদের জন্য? বিনিয়োগকারীরা কি এমন পরিবেশে টিকে থাকতে পারবেন? নাকি ধীরে ধীরে দেশ ছেড়ে চলে যাবেন? দেশের শিল্প-কারখানার মালিকরা যখন অসহায়ভাবে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন, তখন সংস্কারের সব বুলি মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে। এটা স্পষ্ট যে এই সরকারের কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কোনো পরিকল্পনা নেই, নেই কোনো সদিচ্ছাও।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ