দেশের বন্দরগুলো বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। দেশবিরোধী এই কর্মকাণ্ড ঢাকতেই এখন ঢাকায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান রক্তপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত বন্দরগুলো। কিন্তু বর্তমানে এমন একটি প্রক্রিয়া চলছে যার ফলে বন্দরগুলো বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার জন্য পশ্চিমা শক্তির কাছে দেশের বন্দরগুলো তুলে দেওয়ার গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে গোপন ও তড়িঘড়ি করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের প্রধান প্রধান বন্দরের টার্মিনালগুলো বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
এরইমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট ৭টি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫টিই বিদেশি অপারেটরদের হাতে চলে গেছে বা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শুধুমাত্র জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এখনো বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজে পরিচালনা করছে।
সূত্র জানায়, এসব ঘটনা থেকে চোখ সরাতে কড়াইল বস্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে পুড়ে গেছে ১৫০০টি ঘর। সেইসঙ্গে পুড়ে গেছে অনেক মানুষের স্বপ্নও। এদিকে এই ঘটনা একটু গুরুতর হয়ে যাওয়ায় এই ঘটনা থেকে ফের রাতে আরেক ফন্দি আঁটে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুটি লকার থেকে ৮৩২ ভরি সোনার গয়না পাওয়ার খবর বের করায় তারা। বলা হয়, অগ্রণী ব্যাংকে থাকা ওই লকার দুটি জব্দ করা হয়েছিল। আদালতের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লকার দুটি খোলা হয়। আবার এই ঘটনার পর সকালেই শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আগুন।
তবে এসব যে নাটক সেটি ধরা খেয়ে গেছে শেখ হাসিনার বুদ্ধিমত্তার কাছে। শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যাংকের লকারে কোনো স্বর্ণ আমার নাই। যেহেতু ওরা বলছে এগুলা আমার তাহলে পুড়ে যাওয়া বস্তিবাসীকে এগুলা দিয়ে দেওয়া হোক।
আর শেখ হাসিনার এই সাহসী বক্তব্যের পরই মুখে কুলুপ এঁটেছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের কাছ থেকে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার সোনা-দানের প্রস্তাব একটি মাস্টারস্ট্রোক। এতে তিনি নিজেকে জনগণের পাশে দাঁড় করিয়েছেন এবং সরকারের উপর নৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছেন। এসব ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা দেখার বিষয়।

