Monday, December 1, 2025

রোদে পুড়ছে শিশুরা, উপদেষ্টারা বসে আছেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে

টাঙ্গাইলের একটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যা হলো গতকাল, সেটা দেখে যদি কারো গা জ্বলে না যায়, তাহলে বুঝতে হবে তার বিবেক বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা রোদের তাপে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল ছোট ছোট শিশুদের। কেন? কারণ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রয় পোদ্দার আসবেন। তিনি আসতে দেরি করছেন, কিন্তু শিশুরা দাঁড়িয়ে থাকবে। দুপুর একটা দশ মিনিট থেকে একটা পঞ্চাশ পর্যন্ত চল্লিশ মিনিট ধরে জলন্ত রোদে। ফলাফল কী হলো? দুটো শিশু অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।

এই যে ইউনুস সরকার, যারা নিজেদের বলেন সংস্কারক, যারা দাবি করেন তারা নতুন বাংলাদেশ গড়ছেন, তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছে করে এটাই কি সেই নতুন বাংলাদেশ? যেখানে ছোট ছোট শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়বে আর আপনাদের তথাকথিত উপদেষ্টারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে বসে সময় নষ্ট করবেন? একটা প্লে-গ্রাউন্ড উদ্বোধন করতে যাওয়া লোকের এতো দেরি হয় কীভাবে, যখন জানা আছে শিশুরা তার জন্য অপেক্ষা করছে?

বিষয়টা শুধু একজন উপদেষ্টার দেরিতে আসার নয়। এটা পুরো একটা মানসিকতার প্রতিফলন। যে মানসিকতায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা, কোনো গুরুত্বই পায় না। তারা শুধু প্রপস, শুধু সাজসজ্জার অংশ, যাদের দিয়ে ফটোসেশন করতে হবে। তাদের কষ্ট, তাদের স্বাস্থ্য, তাদের সুবিধা-অসুবিধা, এসবের কোনো মূল্যই নেই।

দুপুর একটা পঞ্চাশে উপদেষ্টা মহোদয় এসে পৌঁছালেন। কিন্তু তারপরেও শিশুদের দাঁড়িয়ে থাকতে হলো আরো পঁয়তাল্লিশ মিনিট, দুপুর দুইটা পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত। মোট হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে শিশুরা দাঁড়িয়ে ছিল প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময়। তৃতীয় শ্রেণির একটা শিশুর কথা ভাবুন। সে কতটুকু? তার শরীরে কতটুকু সহ্য ক্ষমতা? তাকে দিয়ে এই নির্মম আচরণ করা হচ্ছে, আর কারা করছে? যারা নিজেদের বলছেন শিক্ষার উপদেষ্টা, শিক্ষার দায়িত্বে আছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পরিষ্কার বলেছেন, আগে থেকে শিশুদের রোদে দাঁড় করিয়ে রাখার প্রয়োজন ছিল না। তাহলে কেন করানো হলো? উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শিশুদের আগে থেকেই লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখতে। এই যে দায় এড়ানোর খেলা, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় দায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা, এটাও তো এই অবৈধ সরকারের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যে সরকার জুলাই মাসে দেশব্যাপী একটা রক্তাক্ত অস্থিরতা তৈরি করে ক্ষমতায় এসেছে, নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে নিজেরা জায়গা করে নিয়েছে, তাদের কাছে এই শিশুদের কষ্ট কোনো বিষয়ই না। তারা যে উপায়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেখানে তো আরো অনেক বড় বড় অপরাধ হয়ে গেছে। তাহলে কয়েকটা শিশু রোদে অসুস্থ হলো, সেটা তাদের কাছে কী আর এমন বড় ব্যাপার?

ইউনুস সাহেব এবং তার তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বসে বসে পরিকল্পনা করেন কীভাবে দেশকে সংস্কার করবেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে যা হচ্ছে, তার কোনো খবরই রাখেন না। একটা উপদেষ্টা যখন কোথাও যান, তার প্রোটোকল, তার নিরাপত্তা, তার সুবিধা, সবকিছু নিয়ে কত আয়োজন হয়। কিন্তু যাদের জন্য তিনি যাচ্ছেন, সেই শিশুদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। তারা রোদে পুড়বে, অসুস্থ হয়ে পড়বে, এটা যেন খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।

প্রধান শিক্ষক বলেছেন ঘটনাটি দুঃখজনক। হ্যাঁ, অবশ্যই দুঃখজনক। কিন্তু শুধু দুঃখজনক বললেই হবে? যারা এই পরিস্থিতি তৈরি করলো, যারা নির্দেশ দিলো শিশুদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখতে, যে উপদেষ্টা সময়মতো পৌঁছালেন না, তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই? নাকি এই সরকারের আমলে জবাবদিহিতা বলে কিছু নেই?

বিদেশি অর্থায়নে, কিছু উগ্র শক্তির সহায়তায় এবং সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কাছে জনগণের প্রতি, বিশেষ করে সাধারণ মানুষ আর শিশুদের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা ক্ষমতায় এসেছেন জনগণের ভোটে নয়, এসেছেন একটা পরিকল্পিত অস্থিরতা তৈরি করে। তাই জনগণের কষ্ট, জনগণের দুর্ভোগ, এসব তাদের কাছে গৌণ।

এই ঘটনার পর কী হবে? সম্ভবত কিছুই হবে না। হয়তো একটা তদন্ত কমিটি গঠন হবে, কিছুদিন পর একটা প্রতিবেদন জমা হবে, তারপর সব ভুলে যাওয়া হবে। কারণ এই সরকারের কাছে জবাবদিহিতা বলে কিছু নেই। তারা কার কাছে জবাবদিহি করবেন? জনগণ তো তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়নি। তারা ক্ষমতায় এসেছেন ভিন্ন উপায়ে, তাই তাদের দায়বদ্ধতাও ভিন্ন জায়গায়।

টাঙ্গাইলের এই ঘটনা একটা ছোট উদাহরণ মাত্র। সারাদেশে এখন এরকম অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। কোথাও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, কোথাও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, কোথাও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কোথাও বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আর এসবের মাঝে সরকার ব্যস্ত আছেন নিজেদের পিঠ চাপড়াতে, বলতে যে তারা কত বড় সংস্কার করছেন।

শিশুদের ওপর এই নির্মমতা দেখে মনে পড়ে যায়, এই সরকার আসার সময় কত বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বলেছিল তারা একটা নতুন বাংলাদেশ গড়বে, যেখানে সবার অধিকার থাকবে, সবাই সমান সুযোগ পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তাদের এই নতুন বাংলাদেশে শিশুরা রোদে পুড়ে অসুস্থ হয়, আর ক্ষমতাসীনরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে থাকেন।

ইউনুস সাহেব মাইক্রোক্রেডিটের জন্য নোবেল পেয়েছিলেন, গরিব মানুষকে ঋণ দেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন তিনি একটা সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কী করছেন? তার অধীনে থাকা অন্যান্য উপদেষ্টারা কী করছেন? তারা কি সত্যিই সাধারণ মানুষের কথা ভাবছেন, নাকি শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ব্যস্ত আছেন?

এই ঘটনা আসলে একটা বড় প্রশ্ন তুলে ধরে। যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, যাদের কোনো জনগণের প্রতি সরাসরি দায়বদ্ধতা নেই, তারা কীভাবে জনগণের সেবক হবে? তারা তো হবেন না, এটাই স্বাভাবিক। তাই টাঙ্গাইলের সেই দুটো শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লেও কারো কিছু যায় আসে না।

দেশের মানুষ দেখছে সব। তারা বুঝতে পারছে কারা আসলে তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী, আর কারা শুধু ক্ষমতার লোভে মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে খেলছে। টাঙ্গাইলের এই ঘটনা হয়তো খবরের শিরোনাম থেকে কয়েকদিন পর মুছে যাবে, কিন্তু মানুষের মনে থেকে যাবে। থেকে যাবে এই স্মৃতি যে, একটা অবৈধ সরকারের আমলে ছোট্ট শিশুরা পর্যন্ত নিরাপদ নয়, তাদের স্বাস্থ্য ও সুবিধার কোনো দাম নেই।

টাঙ্গাইলের একটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যা হলো গতকাল, সেটা দেখে যদি কারো গা জ্বলে না যায়, তাহলে বুঝতে হবে তার বিবেক বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা রোদের তাপে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল ছোট ছোট শিশুদের। কেন? কারণ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রয় পোদ্দার আসবেন। তিনি আসতে দেরি করছেন, কিন্তু শিশুরা দাঁড়িয়ে থাকবে। দুপুর একটা দশ মিনিট থেকে একটা পঞ্চাশ পর্যন্ত চল্লিশ মিনিট ধরে জলন্ত রোদে। ফলাফল কী হলো? দুটো শিশু অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।

এই যে ইউনুস সরকার, যারা নিজেদের বলেন সংস্কারক, যারা দাবি করেন তারা নতুন বাংলাদেশ গড়ছেন, তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছে করে এটাই কি সেই নতুন বাংলাদেশ? যেখানে ছোট ছোট শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়বে আর আপনাদের তথাকথিত উপদেষ্টারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে বসে সময় নষ্ট করবেন? একটা প্লে-গ্রাউন্ড উদ্বোধন করতে যাওয়া লোকের এতো দেরি হয় কীভাবে, যখন জানা আছে শিশুরা তার জন্য অপেক্ষা করছে?

বিষয়টা শুধু একজন উপদেষ্টার দেরিতে আসার নয়। এটা পুরো একটা মানসিকতার প্রতিফলন। যে মানসিকতায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা, কোনো গুরুত্বই পায় না। তারা শুধু প্রপস, শুধু সাজসজ্জার অংশ, যাদের দিয়ে ফটোসেশন করতে হবে। তাদের কষ্ট, তাদের স্বাস্থ্য, তাদের সুবিধা-অসুবিধা, এসবের কোনো মূল্যই নেই।

দুপুর একটা পঞ্চাশে উপদেষ্টা মহোদয় এসে পৌঁছালেন। কিন্তু তারপরেও শিশুদের দাঁড়িয়ে থাকতে হলো আরো পঁয়তাল্লিশ মিনিট, দুপুর দুইটা পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত। মোট হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে শিশুরা দাঁড়িয়ে ছিল প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময়। তৃতীয় শ্রেণির একটা শিশুর কথা ভাবুন। সে কতটুকু? তার শরীরে কতটুকু সহ্য ক্ষমতা? তাকে দিয়ে এই নির্মম আচরণ করা হচ্ছে, আর কারা করছে? যারা নিজেদের বলছেন শিক্ষার উপদেষ্টা, শিক্ষার দায়িত্বে আছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পরিষ্কার বলেছেন, আগে থেকে শিশুদের রোদে দাঁড় করিয়ে রাখার প্রয়োজন ছিল না। তাহলে কেন করানো হলো? উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শিশুদের আগে থেকেই লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখতে। এই যে দায় এড়ানোর খেলা, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় দায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা, এটাও তো এই অবৈধ সরকারের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যে সরকার জুলাই মাসে দেশব্যাপী একটা রক্তাক্ত অস্থিরতা তৈরি করে ক্ষমতায় এসেছে, নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে নিজেরা জায়গা করে নিয়েছে, তাদের কাছে এই শিশুদের কষ্ট কোনো বিষয়ই না। তারা যে উপায়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেখানে তো আরো অনেক বড় বড় অপরাধ হয়ে গেছে। তাহলে কয়েকটা শিশু রোদে অসুস্থ হলো, সেটা তাদের কাছে কী আর এমন বড় ব্যাপার?

ইউনুস সাহেব এবং তার তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বসে বসে পরিকল্পনা করেন কীভাবে দেশকে সংস্কার করবেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে যা হচ্ছে, তার কোনো খবরই রাখেন না। একটা উপদেষ্টা যখন কোথাও যান, তার প্রোটোকল, তার নিরাপত্তা, তার সুবিধা, সবকিছু নিয়ে কত আয়োজন হয়। কিন্তু যাদের জন্য তিনি যাচ্ছেন, সেই শিশুদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। তারা রোদে পুড়বে, অসুস্থ হয়ে পড়বে, এটা যেন খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।

প্রধান শিক্ষক বলেছেন ঘটনাটি দুঃখজনক। হ্যাঁ, অবশ্যই দুঃখজনক। কিন্তু শুধু দুঃখজনক বললেই হবে? যারা এই পরিস্থিতি তৈরি করলো, যারা নির্দেশ দিলো শিশুদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখতে, যে উপদেষ্টা সময়মতো পৌঁছালেন না, তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই? নাকি এই সরকারের আমলে জবাবদিহিতা বলে কিছু নেই?

বিদেশি অর্থায়নে, কিছু উগ্র শক্তির সহায়তায় এবং সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কাছে জনগণের প্রতি, বিশেষ করে সাধারণ মানুষ আর শিশুদের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা ক্ষমতায় এসেছেন জনগণের ভোটে নয়, এসেছেন একটা পরিকল্পিত অস্থিরতা তৈরি করে। তাই জনগণের কষ্ট, জনগণের দুর্ভোগ, এসব তাদের কাছে গৌণ।

এই ঘটনার পর কী হবে? সম্ভবত কিছুই হবে না। হয়তো একটা তদন্ত কমিটি গঠন হবে, কিছুদিন পর একটা প্রতিবেদন জমা হবে, তারপর সব ভুলে যাওয়া হবে। কারণ এই সরকারের কাছে জবাবদিহিতা বলে কিছু নেই। তারা কার কাছে জবাবদিহি করবেন? জনগণ তো তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়নি। তারা ক্ষমতায় এসেছেন ভিন্ন উপায়ে, তাই তাদের দায়বদ্ধতাও ভিন্ন জায়গায়।

টাঙ্গাইলের এই ঘটনা একটা ছোট উদাহরণ মাত্র। সারাদেশে এখন এরকম অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। কোথাও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, কোথাও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, কোথাও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কোথাও বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আর এসবের মাঝে সরকার ব্যস্ত আছেন নিজেদের পিঠ চাপড়াতে, বলতে যে তারা কত বড় সংস্কার করছেন।

শিশুদের ওপর এই নির্মমতা দেখে মনে পড়ে যায়, এই সরকার আসার সময় কত বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বলেছিল তারা একটা নতুন বাংলাদেশ গড়বে, যেখানে সবার অধিকার থাকবে, সবাই সমান সুযোগ পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তাদের এই নতুন বাংলাদেশে শিশুরা রোদে পুড়ে অসুস্থ হয়, আর ক্ষমতাসীনরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে থাকেন।

ইউনুস সাহেব মাইক্রোক্রেডিটের জন্য নোবেল পেয়েছিলেন, গরিব মানুষকে ঋণ দেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন তিনি একটা সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কী করছেন? তার অধীনে থাকা অন্যান্য উপদেষ্টারা কী করছেন? তারা কি সত্যিই সাধারণ মানুষের কথা ভাবছেন, নাকি শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ব্যস্ত আছেন?

এই ঘটনা আসলে একটা বড় প্রশ্ন তুলে ধরে। যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, যাদের কোনো জনগণের প্রতি সরাসরি দায়বদ্ধতা নেই, তারা কীভাবে জনগণের সেবক হবে? তারা তো হবেন না, এটাই স্বাভাবিক। তাই টাঙ্গাইলের সেই দুটো শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লেও কারো কিছু যায় আসে না।

দেশের মানুষ দেখছে সব। তারা বুঝতে পারছে কারা আসলে তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী, আর কারা শুধু ক্ষমতার লোভে মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে খেলছে। টাঙ্গাইলের এই ঘটনা হয়তো খবরের শিরোনাম থেকে কয়েকদিন পর মুছে যাবে, কিন্তু মানুষের মনে থেকে যাবে। থেকে যাবে এই স্মৃতি যে, একটা অবৈধ সরকারের আমলে ছোট্ট শিশুরা পর্যন্ত নিরাপদ নয়, তাদের স্বাস্থ্য ও সুবিধার কোনো দাম নেই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ