Monday, December 1, 2025

ইউনূসের ব্যর্থতায় বৈধ অস্ত্র লুট করে ব্যবহৃত হচ্ছে চাঁদাবাজিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থানা-পুলিশের অস্ত্রাগার ও শাহজালাল বিমানবন্দরের সিকিউরিটি ভোল্ট থেকে লুট হওয়া বৈধ অস্ত্রই এখন দেশজুড়ে চাঁদাবাজির প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। রাজধানী থেকে গ্রাম-বন্দর পর্যন্ত কোথাও বাদ নেই। ব্যবসায়ীরা প্রাণভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

দেশজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, জবরদস্তি ও সহিংস তৎপরতার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি নৃশংস ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনায় দলের ভেতরে এবং বাইরে চাপ বাড়ছে, যা বিএনপির ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সম্প্রতি গাজীপুরে এক বিএনপি নেতার চাঁদাবাজি নিয়ে নিউজ করায় দুপুরে আনোয়ার নামের এক সাংবাদিককে ইট দিয়ে থেঁতলে দেয় বিএনপির কর্মীরা। দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক তুহিনকে গাজীপুরের চৌরাস্তায় চায়ের দোকানে রাতে জবাই করে হত্যা করেছে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা।

এর আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে শরিয়তপুর রুটে চলাচল করা “শরিয়তপুর সুপার সার্ভিস” পরিবহন কোম্পানির কাছে ৫ কোটি টাকা অথবা মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় বাস ভাঙচুর, কর্মচারীদের মারধর এবং যাত্রাবাড়ী থেকে কয়েকদিন বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রতিবাদে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন হয়। অভিযোগের তীর ছিল যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের এক নেতার দিকে, যাকে ১২ জুলাই বিএনপি থেকে বহিষ্কার করে।

এছাড়া পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় ভাঙাড়ি পণ্যের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে চাঁদার কারণে প্রকাশ্যে পিটিয়ে শরীর থেতলে হত্যা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ মাসে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও হামলার নানা অভিযোগে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কারও করেছে বিএনপি। বিশ্লেষকরা মনে করেন ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই বিএনপি যেসব বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে, তাতে দলটির ওপর একটা বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জবরদস্তি এবং সন্ত্রাসমূলক তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে একের পর এক মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে প্রবাসী এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শাহজাহান ভূঁইয়াকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি বন্দুক ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রবাসীর ব্যবসা দখলে নিতে চাঁদা দাবি করে ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করেন।

ফতুল্লায়, থানার বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফয়সল আহমদ সাগরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বিএনপির সভাপতি স ম আফসার আলী ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান টুটুলসহ অজ্ঞাতনামা ৩০–৫০ জনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির পর পুকুর থেকে মাছ উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পিবিআই।

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে যাত্রাপুর পশুর হাটে ইজারাবিহীনভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বিএনপির স্থানীয় আহ্বায়ক মাহবুব রহমান ও এক সহযোগীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।

সারাদেশের চাঁদাবাজির ভয়াবহ চিত্র
চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা। ফুটপাত দখল করে প্রতিদিন ৫০০-১০০০ টাকা তোলা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জেও চাঁদাবাজি হচ্ছে ভয়াবহ ভাবে। খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান থেকে লাইন ধরে চাঁদা নিচ্ছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। না দিলে গাড়ি ভাঙচুর, চালককে মারধর।

রংপুর-পাবনায়ূ বাজার কমিটির নামে দোকানপ্রতি মাসোহারা নেওয়া হচ্ছে। না দিলে দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি। ঢাকার বিভিন্ন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মাসে লাখ টাকা, না হলে লাইসেন্স বাতিলের ভয়।

চাঁদাবাজদের হাতে এখন পুলিশ-এপিবিএনের লুট হওয়া চাইনিজ পিস্তল, এসএমজি, ৯এমএম পিস্তল ও শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গায়েব হওয়া বিদেশি পিস্তল। এসব অস্ত্র দেখিয়েই ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বদ্দারহাট লঞ্চঘাট থেকে তিন চাঁদাবাজকে আটক করে কোস্ট গার্ড। আটককৃতদের একজন স্থানীয় ছাত্রদল নেতা। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় চাইনিজ পিস্তল ও চাঁদার টাকা।

বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা একই কথা বলছেন – “ব্যবসায়ীরা ভয়ে অভিযোগ করেন না। মুখ খুললেই খুন-গুমের হুমকি। তাই মামলা কম হলেও প্রকোপ অনেক বেশি।”

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, “২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে থানা ও বিমানবন্দর থেকে যে পরিমাণ অস্ত্র লুট হয়েছে, তার একটা বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এই অস্ত্রগুলোই এখন চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে। অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় অস্ত্র দিয়েই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ হচ্ছে। এটা চরম ব্যর্থতা।”

ব্যবসায়ীয়রা বলছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে বিনিয়োগ আসবে না, কর্মসংস্থান হবে না। কিন্তু সরকার শুনছে না। এখন তো অবস্থা এমন – দিনে-দুপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা নিয়ে যাচ্ছে, পুলিশের সামনে দিয়েই।”

দেশজুড়ে চাঁদাবাজির এই ভয়াবহ রূপ দেখে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই, যে সরকার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রক্ষা করতে পারে না, সে কীভাবে দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেবে?

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চাঁদাবাজি এখন আর ‘অপরাধ’ নয়, এটা একটা ‘শিল্পে’ পরিণত হয়েছে – যার পুরো দায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ঘাড়ে চেপেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থানা-পুলিশের অস্ত্রাগার ও শাহজালাল বিমানবন্দরের সিকিউরিটি ভোল্ট থেকে লুট হওয়া বৈধ অস্ত্রই এখন দেশজুড়ে চাঁদাবাজির প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। রাজধানী থেকে গ্রাম-বন্দর পর্যন্ত কোথাও বাদ নেই। ব্যবসায়ীরা প্রাণভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

দেশজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, জবরদস্তি ও সহিংস তৎপরতার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি নৃশংস ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনায় দলের ভেতরে এবং বাইরে চাপ বাড়ছে, যা বিএনপির ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সম্প্রতি গাজীপুরে এক বিএনপি নেতার চাঁদাবাজি নিয়ে নিউজ করায় দুপুরে আনোয়ার নামের এক সাংবাদিককে ইট দিয়ে থেঁতলে দেয় বিএনপির কর্মীরা। দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক তুহিনকে গাজীপুরের চৌরাস্তায় চায়ের দোকানে রাতে জবাই করে হত্যা করেছে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা।

এর আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে শরিয়তপুর রুটে চলাচল করা “শরিয়তপুর সুপার সার্ভিস” পরিবহন কোম্পানির কাছে ৫ কোটি টাকা অথবা মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় বাস ভাঙচুর, কর্মচারীদের মারধর এবং যাত্রাবাড়ী থেকে কয়েকদিন বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রতিবাদে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন হয়। অভিযোগের তীর ছিল যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের এক নেতার দিকে, যাকে ১২ জুলাই বিএনপি থেকে বহিষ্কার করে।

এছাড়া পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় ভাঙাড়ি পণ্যের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে চাঁদার কারণে প্রকাশ্যে পিটিয়ে শরীর থেতলে হত্যা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ মাসে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও হামলার নানা অভিযোগে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কারও করেছে বিএনপি। বিশ্লেষকরা মনে করেন ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই বিএনপি যেসব বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে, তাতে দলটির ওপর একটা বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জবরদস্তি এবং সন্ত্রাসমূলক তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে একের পর এক মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে প্রবাসী এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শাহজাহান ভূঁইয়াকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি বন্দুক ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রবাসীর ব্যবসা দখলে নিতে চাঁদা দাবি করে ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করেন।

ফতুল্লায়, থানার বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফয়সল আহমদ সাগরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বিএনপির সভাপতি স ম আফসার আলী ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান টুটুলসহ অজ্ঞাতনামা ৩০–৫০ জনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির পর পুকুর থেকে মাছ উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পিবিআই।

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে যাত্রাপুর পশুর হাটে ইজারাবিহীনভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বিএনপির স্থানীয় আহ্বায়ক মাহবুব রহমান ও এক সহযোগীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।

সারাদেশের চাঁদাবাজির ভয়াবহ চিত্র
চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা। ফুটপাত দখল করে প্রতিদিন ৫০০-১০০০ টাকা তোলা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জেও চাঁদাবাজি হচ্ছে ভয়াবহ ভাবে। খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান থেকে লাইন ধরে চাঁদা নিচ্ছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। না দিলে গাড়ি ভাঙচুর, চালককে মারধর।

রংপুর-পাবনায়ূ বাজার কমিটির নামে দোকানপ্রতি মাসোহারা নেওয়া হচ্ছে। না দিলে দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি। ঢাকার বিভিন্ন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মাসে লাখ টাকা, না হলে লাইসেন্স বাতিলের ভয়।

চাঁদাবাজদের হাতে এখন পুলিশ-এপিবিএনের লুট হওয়া চাইনিজ পিস্তল, এসএমজি, ৯এমএম পিস্তল ও শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গায়েব হওয়া বিদেশি পিস্তল। এসব অস্ত্র দেখিয়েই ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বদ্দারহাট লঞ্চঘাট থেকে তিন চাঁদাবাজকে আটক করে কোস্ট গার্ড। আটককৃতদের একজন স্থানীয় ছাত্রদল নেতা। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় চাইনিজ পিস্তল ও চাঁদার টাকা।

বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা একই কথা বলছেন – “ব্যবসায়ীরা ভয়ে অভিযোগ করেন না। মুখ খুললেই খুন-গুমের হুমকি। তাই মামলা কম হলেও প্রকোপ অনেক বেশি।”

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, “২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে থানা ও বিমানবন্দর থেকে যে পরিমাণ অস্ত্র লুট হয়েছে, তার একটা বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এই অস্ত্রগুলোই এখন চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে। অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় অস্ত্র দিয়েই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ হচ্ছে। এটা চরম ব্যর্থতা।”

ব্যবসায়ীয়রা বলছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে বিনিয়োগ আসবে না, কর্মসংস্থান হবে না। কিন্তু সরকার শুনছে না। এখন তো অবস্থা এমন – দিনে-দুপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা নিয়ে যাচ্ছে, পুলিশের সামনে দিয়েই।”

দেশজুড়ে চাঁদাবাজির এই ভয়াবহ রূপ দেখে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই, যে সরকার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রক্ষা করতে পারে না, সে কীভাবে দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেবে?

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চাঁদাবাজি এখন আর ‘অপরাধ’ নয়, এটা একটা ‘শিল্পে’ পরিণত হয়েছে – যার পুরো দায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ঘাড়ে চেপেছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ