নিজস্ব প্রতিবেদক
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলছেন, “আগামী ৫ বছরে অর্ধেকের বেশি মামলার জট কমে যাবে” এবং “২১টি আইনি সংস্কারের কাজ চলছে”। কিন্তু গত বছরের দুটি চাঞ্চল্যকর ছাত্রহত্যা মামলার তদন্ত এক বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন – এটাই কি সেই ‘সংস্কার’? বিশ্লেষকরা বলছেন, সব ক্ষেত্রের মতো আইন সংস্কারের কথা বলে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শামীম মোল্লাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। দুটি ঘটনাতেই অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার ১৫ মাস পার হলেও এই দুই মামলার বিচার কোথায়?
তোফাজ্জল হত্যা মামলায় পুলিশের দেওয়া চার্জশিটকে “দায়সারা” বলে বাদী নারাজি দিয়েছেন। পরে আদালত পিবিআইকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে ৬ জন গ্রেপ্তার, ১৫ জন পলাতক। তোফাজ্জলের পরিবার বলছে, “এক বছরেও তদন্ত শেষ হয়নি, আমরা হতাশ।”
অন্যদিকে শামীম মোল্লা হত্যা মামলায় আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও কয়েকজন জামিনে মুক্ত অথবা বহিষ্কারাদেশ শেষ করে ক্যাম্পাসে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পিবিআই তদন্ত করছে, কিন্তু গতি নেই। শামীমের পরিবারের ভাষ্য, “আসামিরা খোলাখুলি ঘুরছে, আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এদিকে সোমবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর দায় আদালতে ই-পারিবারিক আদালত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, “সংস্কার মানে সংবিধান পরিবর্তন নয়, আইনের পরিবর্তন। এটা রাতারাতি হয় না, ধাপে ধাপে করতে হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “ই-রেজিস্ট্রেশন চালু করে যাচ্ছি, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ মামলা কমানো সম্ভব।” কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেসব মামলায় জীবন গেছে, সেগুলোর তদন্তই এক বছরে শেষ করতে পারছে না সরকার – সেখানে ৫ বছরে লাখ লাখ মামলার জট কমাবে কীভাবে?
অনেকেই বলছেন, “ই-জুডিশিয়ারি, ই-রেজিস্ট্রেশন, ২১টি রিফর্ম – এসব বড় বড় কথা বলে জনগণের চোখে ধুলো দেওয়া হচ্ছে। যারা ছাত্রদের পিটিয়ে মেরেছে, তাদের বিচার না করে কোন সংস্কারের কথা বলছেন?”
ভুক্তভোগী পরিবার ও নাগরিক সমাজের একাংশের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার ‘সংস্কারের’ নামে শুধু সময়ক্ষেপণ করছে, আর রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক মামলাগুলোতেই গতি দেখানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয় বা অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এই দুই হত্যা মামলার ধীরগতি নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

