নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিঙ্গুইশড প্রফেসর ড. আলী রিয়াজের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, প্রতারণা, অন্তঃসত্ত্বা করার পর জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী, যিনি নিজেকে কবি অতন্দ্র নূরী পা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় এসব অভিযোগ করেছেন। ভিডিওটি এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি কবিতার সূত্র ধরে ফেসবুকে আলী রিয়াজের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয় এবং আলী রিয়াজ তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন, এমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
অতন্দ্র নূরীর দাবি, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতে আলী রিয়াজ যখন ঢাকায় আসেন, তখন তাকে ঢাকায় ডেকে নেন। তারা প্রথমে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে একসঙ্গে কয়েকদিন অবস্থান করেন, পরে বিভিন্ন স্থানে যান। এ সময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, আলী রিয়াজ তাকে বারবার বলেছিলেন যে তার ভ্যাসেকটমি করা আছে, তাই গর্ভধারণের কোনো ঝুঁকি নেই এবং সুরক্ষা ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু পরে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে আলী রিয়াজ হঠাৎ দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেন।
অভিযোগকারী আরও জানান, এরপর দিলরুবা শারমিন নামে এক নারী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং “দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি” ও “আলী রিয়াজের বিপদের” কথা বলে গর্ভপাতের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। শেষ পর্যন্ত ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে তাকে নিয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয়।
গর্ভপাতের পর থেকে আলী রিয়াজ তার সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ। যোগাযোগের চেষ্টা করলে মানসিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অতন্দ্র নূরী বলেন, “আমার কাছে পুলিশের লোকজন ফোন করে গুম করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমি ভয়ে বোরখা পরে লুকিয়ে বেড়াচ্ছি, নিজের বাসাতেও থাকতে পারছি না।”
কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “আমি শুধু সাধারণভাবে বেঁচে থাকতে চাই। আমি কারো ক্ষতি করিনি, তাহলে আমাকে কেন শান্তিতে বাঁচতে দেওয়া হচ্ছে না?”
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অধ্যাপক আলী রিয়াজ বা তার পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং অনেকেই এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন।

