Monday, December 1, 2025

কাঠগড়ায় এবার রোজ গার্ডেন: ইতিহাস মুছে ফেলার আরেক অপচেষ্টা

ঢাকার হৃষিকেশ দাস রোডের রোজ গার্ডেন নিয়ে হঠাৎ করেই উঠেছে নতুন বিতর্ক। দুদক জানাচ্ছে, এই ঐতিহাসিক ভবনটি কিনতে গিয়ে নাকি রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই অভিযোগ তোলার পেছনের উদ্দেশ্য কী? একটি জাতির ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাথে জড়িত স্থাপনা রক্ষা করা কি অপরাধ? নাকি এটা আরেকটা সুপরিকল্পিত উদ্যোগ দেশের ইতিহাসকে বিতর্কিত করে তোলার, যাতে করে আগামী প্রজন্ম নিজেদের শেকড় সম্পর্কে বিভ্রান্ত থাকে?

জুলাই মাসের সেই তাণ্ডবের পর যেভাবে ক্ষমতা দখল হয়েছে, তারপর থেকে একের পর এক দেখা যাচ্ছে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে জড়িত সবকিছুকেই কোনো না কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা। মুজিবনগর সরকারের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা থেকে শুরু করে শহীদ মিনার, স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক, জাদুঘর – কোনো কিছুই রেহাই পাচ্ছে না। আগুন, ভাঙচুর, লুটপাট হয়ে গেছে অহরহ ঘটনা। এখন পালা এসেছে রোজ গার্ডেনের।

রোজ গার্ডেন শুধু একটা পুরনো বাড়ি নয়। এটা সেই জায়গা যেখানে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নামে পরিচিত হয়। এই দলই নেতৃত্ব দিয়েছিল ভাষা আন্দোলনে, স্বাধিকার আন্দোলনে, ছয় দফায়, আর সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দল থেকেই জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। এই ইতিহাস কি মুছে ফেলা সম্ভব? কিন্তু চেষ্টার কমতি নেই।

২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এই ঐতিহাসিক ভবনটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করার। ব্যক্তিমালিকানাধীন এই পুরাকীর্তি যাতে বেদখল বা ধ্বংস না হয়ে যায়, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের শেকড় কোথায়, সেজন্যই এটি কেনা হয়। মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিয়ে, সঠিক প্রক্রিয়ায়, মালিকদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি করে কেনা হয়েছিল। তারপর সংস্কার করে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল সাধারণ মানুষের জন্য, যাতে তারা ঘুরে দেখতে পারে, জানতে পারে নিজেদের ইতিহাস।

এখন প্রশ্ন হলো, আওয়ামী লীগ কি এই ভবন নিজের পকেটে নিয়ে গিয়েছিল? ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে কেউ ভোগদখল করেছিল? না, এটা ছিল রাষ্ট্রের সম্পদ, জনগণের সম্পদ। আর এখন সেই সিদ্ধান্তকেই বলা হচ্ছে ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি। যুক্তিটা কী? একটা প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা মানেই কি অপচয়? নাকি আসল সমস্যা হলো এই ভবনের সাথে যুক্ত ইতিহাস, যে ইতিহাস বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর কাছে অসহনীয়?

জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের পর থেকে দেশে যা কিছু হচ্ছে, তা দেখলে মনে হয় একটা সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা কাজ করছে। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা যেন হারিয়ে গেছে। যে দেশটা রক্ত দিয়ে, লাখো শহীদের আত্মত্যাগে অর্জন করা হয়েছিল, সেই দেশের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে পরিকল্পিতভাবে। এটা কাকতালীয় নয় যে পাকিস্তানি মডেলেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে যেখানে ইতিহাস বিকৃতি, সংস্কৃতি নিপীড়ন, আর ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ ছিল নিয়মিত বৈশিষ্ট্য।

দুদক হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই ইস্যুতে। গত দেড় বছরে যে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠান এখন তদন্ত করছে একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কেনা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ে। মজার ব্যাপার হলো, আসল দুর্নীতি, আসল অনিয়ম, লুটপাটের ঘটনাগুলোতে তেমন কোনো তৎপরতা নেই, কিন্তু রোজ গার্ডেনের মতো ঐতিহাসিক সম্পদ নিয়ে তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।

এই পুরো পরিস্থিতি পরিষ্কার করে দেয় যে, আসলে লক্ষ্য কী। লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার চেতনা, আর যেসব রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই দেশের জন্ম, সেসবকে ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলা, বিতর্কিত করে তোলা। যাতে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এগুলো গুরুত্বহীন মনে হয়, যাতে তারা ভুলে যায় কীভাবে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল, কাদের নেতৃত্বে হয়েছিল।

রোজ গার্ডেনের মতো একটা ভবন সংরক্ষণ করা মানে শুধু পাথর আর ইট রক্ষা করা নয়। এটা মানে একটা জাতির স্মৃতি রক্ষা করা, একটা প্রজন্মকে তাদের শেকড়ের কাছে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু সেটাই যদি হয় অপরাধ, তাহলে বুঝতে হবে এই শাসকদের উদ্দেশ্য কী। তারা চায় একটা ইতিহাসবিবর্জিত, শেকড়হীন জাতি, যারা নিজেদের অতীত সম্পর্কে অজ্ঞ থাকবে আর তাদের বানানো ইতিহাসই বিশ্বাস করবে।

তবে ইতিহাস এত সহজে মোছা যায় না। রোজ গার্ডেনের দেয়ালে লেখা আছে বাংলাদেশের জন্মের গল্প, স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দেয়াল ভাঙতে পারলেও, সেই স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব নয়। আর জনগণও বোকা নয়। তারা বুঝতে পারছে কোন খেলা চলছে, কারা তাদের ইতিহাস কেড়ে নিতে চাইছে। রোজ গার্ডেন নিয়ে এই অভিযোগ আসলে একটা বড় ষড়যন্ত্রের ছোট্ট একটা অংশ মাত্র, যার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে তার নিজস্ব পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

ঢাকার হৃষিকেশ দাস রোডের রোজ গার্ডেন নিয়ে হঠাৎ করেই উঠেছে নতুন বিতর্ক। দুদক জানাচ্ছে, এই ঐতিহাসিক ভবনটি কিনতে গিয়ে নাকি রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই অভিযোগ তোলার পেছনের উদ্দেশ্য কী? একটি জাতির ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাথে জড়িত স্থাপনা রক্ষা করা কি অপরাধ? নাকি এটা আরেকটা সুপরিকল্পিত উদ্যোগ দেশের ইতিহাসকে বিতর্কিত করে তোলার, যাতে করে আগামী প্রজন্ম নিজেদের শেকড় সম্পর্কে বিভ্রান্ত থাকে?

জুলাই মাসের সেই তাণ্ডবের পর যেভাবে ক্ষমতা দখল হয়েছে, তারপর থেকে একের পর এক দেখা যাচ্ছে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে জড়িত সবকিছুকেই কোনো না কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা। মুজিবনগর সরকারের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা থেকে শুরু করে শহীদ মিনার, স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক, জাদুঘর – কোনো কিছুই রেহাই পাচ্ছে না। আগুন, ভাঙচুর, লুটপাট হয়ে গেছে অহরহ ঘটনা। এখন পালা এসেছে রোজ গার্ডেনের।

রোজ গার্ডেন শুধু একটা পুরনো বাড়ি নয়। এটা সেই জায়গা যেখানে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নামে পরিচিত হয়। এই দলই নেতৃত্ব দিয়েছিল ভাষা আন্দোলনে, স্বাধিকার আন্দোলনে, ছয় দফায়, আর সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দল থেকেই জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। এই ইতিহাস কি মুছে ফেলা সম্ভব? কিন্তু চেষ্টার কমতি নেই।

২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এই ঐতিহাসিক ভবনটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করার। ব্যক্তিমালিকানাধীন এই পুরাকীর্তি যাতে বেদখল বা ধ্বংস না হয়ে যায়, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের শেকড় কোথায়, সেজন্যই এটি কেনা হয়। মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিয়ে, সঠিক প্রক্রিয়ায়, মালিকদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি করে কেনা হয়েছিল। তারপর সংস্কার করে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল সাধারণ মানুষের জন্য, যাতে তারা ঘুরে দেখতে পারে, জানতে পারে নিজেদের ইতিহাস।

এখন প্রশ্ন হলো, আওয়ামী লীগ কি এই ভবন নিজের পকেটে নিয়ে গিয়েছিল? ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে কেউ ভোগদখল করেছিল? না, এটা ছিল রাষ্ট্রের সম্পদ, জনগণের সম্পদ। আর এখন সেই সিদ্ধান্তকেই বলা হচ্ছে ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি। যুক্তিটা কী? একটা প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা মানেই কি অপচয়? নাকি আসল সমস্যা হলো এই ভবনের সাথে যুক্ত ইতিহাস, যে ইতিহাস বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর কাছে অসহনীয়?

জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের পর থেকে দেশে যা কিছু হচ্ছে, তা দেখলে মনে হয় একটা সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা কাজ করছে। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা যেন হারিয়ে গেছে। যে দেশটা রক্ত দিয়ে, লাখো শহীদের আত্মত্যাগে অর্জন করা হয়েছিল, সেই দেশের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে পরিকল্পিতভাবে। এটা কাকতালীয় নয় যে পাকিস্তানি মডেলেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে যেখানে ইতিহাস বিকৃতি, সংস্কৃতি নিপীড়ন, আর ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ ছিল নিয়মিত বৈশিষ্ট্য।

দুদক হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই ইস্যুতে। গত দেড় বছরে যে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠান এখন তদন্ত করছে একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কেনা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ে। মজার ব্যাপার হলো, আসল দুর্নীতি, আসল অনিয়ম, লুটপাটের ঘটনাগুলোতে তেমন কোনো তৎপরতা নেই, কিন্তু রোজ গার্ডেনের মতো ঐতিহাসিক সম্পদ নিয়ে তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।

এই পুরো পরিস্থিতি পরিষ্কার করে দেয় যে, আসলে লক্ষ্য কী। লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার চেতনা, আর যেসব রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই দেশের জন্ম, সেসবকে ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলা, বিতর্কিত করে তোলা। যাতে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এগুলো গুরুত্বহীন মনে হয়, যাতে তারা ভুলে যায় কীভাবে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল, কাদের নেতৃত্বে হয়েছিল।

রোজ গার্ডেনের মতো একটা ভবন সংরক্ষণ করা মানে শুধু পাথর আর ইট রক্ষা করা নয়। এটা মানে একটা জাতির স্মৃতি রক্ষা করা, একটা প্রজন্মকে তাদের শেকড়ের কাছে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু সেটাই যদি হয় অপরাধ, তাহলে বুঝতে হবে এই শাসকদের উদ্দেশ্য কী। তারা চায় একটা ইতিহাসবিবর্জিত, শেকড়হীন জাতি, যারা নিজেদের অতীত সম্পর্কে অজ্ঞ থাকবে আর তাদের বানানো ইতিহাসই বিশ্বাস করবে।

তবে ইতিহাস এত সহজে মোছা যায় না। রোজ গার্ডেনের দেয়ালে লেখা আছে বাংলাদেশের জন্মের গল্প, স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দেয়াল ভাঙতে পারলেও, সেই স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব নয়। আর জনগণও বোকা নয়। তারা বুঝতে পারছে কোন খেলা চলছে, কারা তাদের ইতিহাস কেড়ে নিতে চাইছে। রোজ গার্ডেন নিয়ে এই অভিযোগ আসলে একটা বড় ষড়যন্ত্রের ছোট্ট একটা অংশ মাত্র, যার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে তার নিজস্ব পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ