বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ডসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ করে দিচ্ছে। দেশের অর্থনীতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পাঁচটি সেবা বন্ধ হওয়া আসলে একটা বড় বিপর্যয়ের প্রথম ধাপ মাত্র।
জুলাই মাসের রক্তাক্ত দাঙ্গার পর যে অবৈধ সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের হাতে দেশের অর্থনীতির যে দশা হয়েছে তা আর কাউকে বলে বোঝানোর দরকার নেই। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন বাজারে গিয়ে টের পাচ্ছে দাম কত আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে, রিজার্ভ তলানিতে ঠেকেছে, আর ব্যাংকিং খাত এমন সংকটে পড়েছে যে মানুষ নিজের টাকা তুলতে পর্যন্ত ভয় পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজেকে বাঁচিয়ে রাখাটাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মহাজন ইউনুস আর তার দলবল ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের সম্পদ লুটপাট চলছে অবাধে। যারা বিদেশি প্রভুদের টাকায় আর ইসলামি জঙ্গিদের সহায়তায় ক্ষমতা দখল করেছে, তারা এখন দেশকে ফাঁকা করে দিচ্ছে একদম পরিকল্পিতভাবে। টাকা পাচার হচ্ছে বিদেশে, রিজার্ভ শেষ, বৈদেশিক ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে। এই যে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর কথা বলা হচ্ছে, আসলে কথাটা হলো ব্যাংকের কাছে আর দেওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই।
সাধারণ মানুষ যারা সঞ্চয়পত্রে টাকা রাখতো, প্রাইজবন্ড কিনতো, তাদের এই ছোট ছোট স্বপ্নগুলোও এখন ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ যারা সরকারি এই সেবাগুলোকে নির্ভরযোগ্য মনে করতো, তারা এখন কোথায় যাবে? ব্যাংকগুলো তো নিজেরাই সংকটে, সেখানে মানুষ টাকা রাখতে ভয় পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেবা বন্ধ হওয়া মানে সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাটুকুও কেড়ে নেওয়া।
অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। কিন্তু এসব আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে যে বাস্তবতা লুকিয়ে আছে, তা হলো দেশের অর্থনীতি এখন কার্যত পঙ্গু হয়ে গেছে। যে সরকারের নৈতিক বৈধতাই নেই, সেই সরকার অর্থনীতিকে কীভাবে সামলাবে? সামরিক বাহিনীর সমর্থনে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের আসল লক্ষ্য তো দেশের সেবা করা নয়, বরং নিজেদের পকেট ভরা আর প্রভুদের সন্তুষ্ট রাখা।
গত কয়েক মাসে যেভাবে ডলার পাচার হয়েছে, ব্যাংকিং খাত থেকে টাকা লুট হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই পাঁচটি সেবা বন্ধ হওয়া আসলে সেই মহাবিপর্যয়ের শুরু। একটার পর একটা সেবা বন্ধ হবে, মানুষের কষ্ট বাড়বে, আর ততদিনে লুটেরারা তাদের সম্পদ নিরাপদে বিদেশে সরিয়ে ফেলবে।
যে দেশের জনগণ নির্বাচিত সরকারকে বেছে নিয়েছিলো, সেই ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখল করার পরিণতি এটাই। দেশের প্রতিটি স্তরে এখন অস্থিরতা, সংকট আর অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশ ব্যাংক যে এই পাঁচটি সেবা বন্ধ করছে, তা শুধু একটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটা দেশের অর্থনীতির মৃত্যুর খবর জানিয়ে দেওয়ার ঘণ্টাধ্বনি। আর এই দায় পুরোটাই সেই অবৈধ সরকারের, যারা জনগণের ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় এসে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে প্রতিদিন।

