আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বৃহস্পতিবার ( ১৩ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানকে তিনি এমনটি জানান।
যদিও এর আগে নিরপেক্ষ সাজতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ভোটের আগে স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইউনূস। তার এমন আচরণে ভোট নিয়ে আশঙ্কায় পড়েছে কোটি কোটি আওয়ামী লীগ সমর্থক। সেইসঙ্গে জাতিও হচ্ছে বিভ্রান্ত।
গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে জিটিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক মেহদি হাসানের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ইউনূস। তখন তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি, তাদের নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়নি। শুধুমাত্র দলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচন বয়কট করে তাহলে এর সাথে যুক্ত হবে জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদসহ ১৪ দল।
দলটির সম্প্রতি ডাকা লকডাউন কর্মসূচি বুঝিয়ে দিয়েছে, ইউনুস সরকারের পক্ষে ১০ শতাংশ ভোটারকেও কেন্দ্রে আনা সম্ভব হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিত ড. ইউনুসের তথাকথিত আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচনের প্রশ্নের মুখে পড়ছে। কারণ ইউনুস আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ অর্ধেকেরও বেশি ভোটারদের নির্বাচনের বাইরে রাখছেন।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্তগুলো যদি এমন একপেশে হয়, তাহলে রাজনৈতিক মেরুকরণ তুঙ্গে উঠবে। দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা হুমকিতে পড়বে। আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি ইতোমধ্যেই যে গণআন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছে, তা আরও ব্যাপক হতে পারে।

